খননের আশ্বাস ডিসি’র
মৃতপ্রায় খালের কারণে বাড়ছে অনাবাদি জমির সংখ্যা
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল : প্রবাহমান খরস্রোতা বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত টরকী-বাশাইল খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় নাব্যতা সংকট ও দখল-দুষণে এখন মৃতপ্রায় খালে পরিণত হয়েছে। ফলে বিপন্ন হচ্ছে খালের ওপর নির্ভরশীল কৃষিজমি, জীবন ও প্রকৃতি। খালটি খনন করে পুরনো যৌবণে ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় কৃষকরা একাধিক জায়গায় ধর্না দিয়ে কোন সুফল পায়নি।
দুই উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া খালের মোহনা হচ্ছে গৌরনদীর পালরদী নদীর টরকী বন্দর সংলগ্ন স্ব-মিল এলাকায়। টরকী বন্দর থেকে শুরু করে ধানডোবা, রাজাপুর, সাদ্দাম বাজার, মোক্তার বাজার, চেঙ্গুটিয়া গ্রাম হয়ে খালটি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল বাজারের প্রধান খালে সংযুক্ত হয়েছে। যেকারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালটি সবার কাছে টরকী-বাশাইল খাল নামে পরিচিত।
স্থানীয় পরিবেশ কর্মী সৈয়দ মাজারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে খাল খনন না করায় খাল ও নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে খালের প্রধান মুখ পালরদী নদী থেকে খালে পানি প্রবেশের মোহনা উঁচু হয়ে গেছে। যে কারনে এখন আর খালে পানি প্রবেশ করতে পারছেনা। পাশাপাশি খালের বিভিন্নস্থানে বাঁধ নির্মান, অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণ, খালের জায়গা দখল করে কাঁচা পাকা স্থাপনা নির্মাণ, নির্বিচারে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে খরস্রোতা খালটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। যার প্রভাব পরছে খালের পাশ্ববর্তী ফসলি জমিসহ জীবন ও প্রকৃতির ওপর।
তিনি আরও জানিয়েছেন, টরকী-বাশাইল খালটি একসময় এ অঞ্চলের প্রধান চলাচলের নৌ-পথ ছিলো। কালের বির্বতনে রাস্তা পাকা হওয়ায় সড়ক পথে যোগাযোগের জনপ্রিয়তা বাড়লেও দীর্ঘদিন থেকে খালটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে খালটি ধীরে ধীরে নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে খালটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। বোরো মৌসুমে জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালের পানি সেচের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরোধান আবাদ। ওই সময় পালরদী নদীর মোহনায় সেচ পাম্প বসিয়ে খালে পানি উত্তোলন করায় চাষীদের বোরো আবাদে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিবেশ কর্মী মাজারুল বলেন, টরকী-বাশাইল খালে মূলত আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদী থেকে পানি প্রবেশ করে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেলে খালে পানি প্রবেশ করেনা। যার স্থায়ী সমাধান খাল খননের মাধ্যমে নদী ও খালের নাব্যতা সমন্বয় করা। কিন্তু সেটি না করে নদী ও খালের পানি প্রবেশের মুখে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম সেচ পাম্পের মাধ্যমে নদী থেকে খালে পানি উঠানো হয়। ইজারার মাধ্যমে বিভিন্ন বোরো ব্লকের ম্যানেজারগণ সেচ প্রকল্প পরিচালনা করেন। যে কারণে সেচ প্রকল্পের এই পানি কয়েক হাত বদল হয়ে কৃষকদের উচ্চমূল্যে ক্রয় করতে হয়। ফলে অধিকাংশ চাষীরা ধানচাষে আগ্রহ হারিয়ে বিকল্প হিসেবে বোরো জমিতে পান চাষ ও মাছের ঘের করেছেন। যে কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে ধান চাষের জমির পরিমান। এছাড়াও খালের নাব্যতা সংকটের কারণে বর্ষা মৌসুমে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে খালগুলো পানিতে টইটুম্বুর হওয়ায় তলিয়ে যায় পানের বরজ ও মাছের ঘের।
দুই উপজেলার অসংখ্য চাষীরা জানিয়েছেন, প্রতি ২০ শতক জমি চাষ করতে পানি সেচ বাবদ তিন শতক জমির ধান দিতে হয় ব্লক ম্যানেজারকে। বাজারে ধানের দামের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে জমি চাষাবাদ থেকে ফিরে আসছেন। ফলে প্রতিবছরই অনাবাদি জমির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে- এ খালের ওপর নির্ভর করে অতীতে বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী মানুষ তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ খালে পাওয়া যেতো হরেক প্রজাতির দেশীর মাছ। স্রোতহীন খালটি খননের অভাবে অধিকাংশ স্থান মরে যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়াও স্রোতহীন খালের বেশ কিছু এলাকার বদ্ধ পানিতে জন্ম নিচ্ছে ম্যালেরিয়া, এডিশ মশাসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ জীবানু। যা এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সাবেক ইউপি সদস্য ছাদের আলী সরদার বলেন-আমাদের শৈশবে খালটিতে এতো পরিমাণ ¯্রােত ছিল যে, আমরা সাঁতরে এপাড় থেকে ওপাড়ে যেতে পারতাম না। এ খাল থেকে মাছ ধরেই আমরা আমাদের মাছের চাহিদা পূরণ করতাম। কিন্তু খালটি খননের অভাবে মৃতপ্রায় অবস্থায় থাকায় দেশীয় মাছ যেমন বিলুপ্ত হয়েছে, তেমনি পানির অভাবে হাজার-হাজার কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। যেকারণে অনাবাদি জমির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন- জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালটি খনন করে পুরনো যৌবণে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অসংখ্যবার ধর্না দিয়েও কোন সুফল মেলেনি। গতবছর বোরো মৌসুমের পূর্বে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর খালটি খননের জন্য আবেদন করা সত্বেও অদ্যবর্ধি কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলা হচ্ছে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তার কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না কোন কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা কৃষি কাজে ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে থাকি। শীতকালে যখন ধান লাগানো হয় তখন বেশি পানির প্রয়োজন হয়। কারণ বোরো ধান পুরোটাই সেচ নির্ভর ফসল। তাছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টিপাত কম হলে সেচের প্রয়োজন হয়। ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহারে সেচ খরচ কম হয়। সেজন্য যদি আমরা নদী বা খালের পানিকে সংরক্ষণ করে সম্পূরক সেচকাজে ব্যবহার করতে পারি তবে অল্প সেচ খরচে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন-সেচ কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাঁপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের উপায় হচ্ছে খাল ও নদী খনন। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানির প্রবাহ কমে গেছে, অনেক খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খাল এবং নদীগুলো পুনরায় খনন করা হলে দুই দিক থেকে আমাদের কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। এই খাল খননের ফলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পতিত জলাবদ্ধ জমিগুলো নতুন করে চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে, অপরদিকে শুকনো মৌসুমে খালের জমাটবদ্ধ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বরিশালের অনেকগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ খাল খননের ব্যাপারে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই এসব খাল খননের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
(টিবি/এসপি/অক্টোবর ০৬, ২০২৫)
পাঠকের মতামত:
- বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ফারিণের
- সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ‘আইন পেশার অনেকেই শর্টকাটে অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়’
- বয়লার আমদানিতে পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক
- ‘জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না’
- জয়ঝাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন
- ‘বন্যায় গরু মারা গেলে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ’
- ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একার কাজ নয়, সব সংস্থার সমন্বয় জরুরি’
- পরীক্ষা শেষে ফের সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
- কালুখালীতে জেলা প্রশাসকের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ভূমিসেবা পরিদর্শন ও নানা সহায়তা বিতরণ
- ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকে সতর্ক করলো তথ্য অধিদপ্তর
- বাংলাদেশকে জয় উপহার দিতে চান স্কালোনি
- ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে স্পেন
- রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান, গ্রেফতার ৪৩৬
- শিশুদের বছরে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
- সামরিক বিজয়ই বাংলাদেশ সমস্যার একমাত্র সমাধান
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ
- বর্ষায় কাদার সাগরে বনগ্রামের রাস্তা, ইটের সড়কের দাবিতে শতাধিক পরিবারের আকুতি
- শ্যামনগরে শ্রমিকলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- মব থেকে বাঁচাতে ধর্ষক ষষ্ঠ শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রকে থানায় সোপর্দ
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জামালপুরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- দিনাজপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ, আহত ১০
- প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে কেউ ইট নিক্ষেপ করেনি : মাদারীপুরের এসপি
- ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশভাউচার ও ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ
- গোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগ-দপ্তরে কেমিক্যাল ও ফার্নিচার সরবরাহ
- লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
- গৌরীপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
- ‘জাতির ঐক্য বজায় রাখতে কেউ যেন বিভেদের পথে না যায়’
- গাইবান্ধায় তাওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীদের অধিকার বিষয়ক আলোচনা সভা
- ধ্বংসের পথে কালের সাক্ষী রাজা রাম মন্দির
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পাঠাগারের কমিটি গঠন
- কালুখালীতে জেলা প্রশাসকের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ভূমিসেবা পরিদর্শন ও নানা সহায়তা বিতরণ
- ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন
- পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুলে দক্ষতা ও আবিষ্কার প্রতিযোগিতা
- ভূঞাপুরে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক শফিউদ্দিনের স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
- টুনিরহাট গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছালো টুস্টার বোদা
- বরগুনায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
- চাষী
- জামালপুরে পতাকা উত্তোলন দিবসে দুই মুক্তিযোদ্ধা ও এক সাংবাদিককে সম্মাননা
- ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনাকালিন খেলাধুলা পরিচালনা করবো’
- আবারও ফোবানা পুরুস্কার পেলেন বাংলা প্রেস সম্পাদক ছাবেদ সাথী
- বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পলাশবাড়ীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত
- দুই নাম্বারি চক্করের পলিটিক্স আর চলবে না : ফুয়াদ
- ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকে সতর্ক করলো তথ্য অধিদপ্তর
- বয়লার আমদানিতে পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক
১৫ জুলাই ২০২৬
- জয়ঝাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন
- কালুখালীতে জেলা প্রশাসকের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ভূমিসেবা পরিদর্শন ও নানা সহায়তা বিতরণ
-1.gif)







