E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

‘হামলা-মামলা দিয়ে বিএনপিকে ভয় দেখানো যাবে না’

২০২২ নভেম্বর ২৭ ০০:৪২:১৪
‘হামলা-মামলা দিয়ে বিএনপিকে ভয় দেখানো যাবে না’

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বিচারে হত্যা, গুলি-হামলা-মামলা ও গ্রেফতার করে বিএনপিকে ভয় দেখানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র, মানুষের স্বাধীনতা, দেশের স্বাধীনতা, ন্যায়-সত্যের জন্য লড়াই করছি। এ লড়াই করতে গিয়ে আমাদের অনেক সন্তান জীবন দিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের নয়ন মিয়া, নারায়ণগঞ্জের শাওন প্রধান, মুন্সিগঞ্জের শহীদুল ইসলাম সাওন, ভোলার নূরে আলম, আব্দুর রহিমসহ কত বলবো? এ দুতিন মাসের মধ্যে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) সাত থেকে আটজনের জীবন কেড়ে নিয়েছেন। তারপরও আমাদের ভয় দেখাতে পারেননি। আমরা কিন্তু ভয় পাইনি। আমরা আপনার সরকারের পতন ঘটাবো, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো। তারপরে ঘরে ফিরবো।

কুমিল্লাসহ সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গায়েবি মামলা, গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবারও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি।

রিজভী বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকার আবারও গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করেছে। মামলা দেওয়া হচ্ছে ককটেল ফাঁটিয়েছে, বোমাবাজি করেছে! অথচ কোথাও কেউ ককটেলের আওয়াজও পায়নি। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায়, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) স্বাচিপের সম্মেলনে বলেছেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছি। ২০০১ সালের কথা। কিন্তু আমি বলতে চাই আপনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি। আপনি সেইবারেও চক্রান্ত করেছেন। আপনি মনে করেছিলেন, আপনার মনোনীত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. সাহাবুদ্দীন আহমদকে যা বলবেন তাই করবে। বিএনপির যে বিজয় হয়েছে সেই বিজয়ী ফলাফল নাকচ করতে তাকে বারবার চাপ দিয়েছেন। কিন্তু বিবেকবান রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি ছিলেন ন্যায়বিচারক। শেখ হাসিনার কথা শোনেননি। এ জন্যই শেখ হাসিনা পরবর্তীতে বারবার তার বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছেন।’

তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি জয় লাভ করার পর দুঃখে সাহাবুদ্দীন আহমদ একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কাউকে মুচলেকা দিইনি, যে কাউকে বারবার ক্ষমতায় রাখবো। এ জন্য আমি রাষ্ট্রপতি হইনি। বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের কাছ থেকে শেখ হাসিনা পারেনি বলেই তার যত রাগ, যত ক্ষোভ। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে জানুয়ারি সময়ের খবরের কাগজ দেখলেই এসব চোখে পড়বে। শেখ হাসিনার কত অভিমান বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের প্রতি। কিন্তু বিচারপতি সাহাবুদ্দীন অন্যায় করেননি। জনগণের ফলাফলকে তিনি বাতিল করেননি। শেখ হাসিনার কথা তিনি শোনেননি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনি এমন একজন প্রধানমন্ত্রী আপনার লজ্জা করেনি? আপনি সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীকে গুম করেছেন, নির্বাচিত কাউন্সিলর চৌধুরী আলমকে আপনি গুম করেছেন, আরেক সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরুকেও গুম করেছেন। আপনি এমপি, নির্বাচিত প্রতিনিধি, যুবক, ছাত্র কাউকেই ছাড়নেনি, ক্রসফায়ার দিয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আর ২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচন করেছেন। একটা একতরফা নির্বাচন, আরেকটা হচ্ছে নিশিরাতের নির্বাচন। গুম আর রক্তপাতের মধ্যদিয়েই আপনি জোর করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছেন। আর বলেন, আপনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের মালিক জনগণ। এ মালিকানা আপনি দস্যু, ডাকাতের মতো করে কেড়ে নিয়েছেন। আপনার অন্তর হচ্ছে ডাকাতের অন্তর, দস্যুর অন্তর। আপনার হৃদয় হচ্ছে সন্ত্রাসীর হৃদয়। তাই আমার গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের স্বাধীনতার জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য, ন্যায়ের জন্য, সত্যের জন্য লড়াই করছি। এ লড়াই করতে গিয়ে আপনার একদিকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ, তারা সশস্ত্র। তাদের কাছে লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র।আরেকদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।

এসময় বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন, দক্ষিণের সদস্য সচিব খন্দকার এনামুল হক এনাম, দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউদ্দিন সেন্টু, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বির, স্বেচ্ছাসেবক দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাউসার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ২৭, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test