E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

স্মৃতি

২০২৪ জানুয়ারি ২৫ ১৬:১৫:০১
স্মৃতি








দীপক চন্দ্র পাল

কতকাল হয়নি দেখা, কত সখার সনে।
কত স্বপ্ন ছিল জীবন ঘীরে এভুবনে।
শতাব্দির প্রেম গাঁথা- হাড়িয়ে কত স্মৃতি, শত ব্যাথা।
গঙ্গার প্রবল কলকল স্রোত-নিঃশব্দে নিবরে হাড়িয়েছে তার রূপ।
শিশুকাল থেকে যৌবনে, যৌবন যেন উড়ছে পবনে।
আবার পড়িল ভাটা নিরবে জীবনে।
ভেসে আসে স্রোতম্বীনি পূর্ন যৌবনে,
আবার ভাসিল জীবন অথৈ জলে।

পুর্ন চন্দ্র রাহু গ্রাসে-ঢাকা পড়ল ভুবন আধারে
কর্মের রস ভোগে, বন্ধু স্বজন ছুটিল অকুল পাথারে।
শত বর্ষ পরে।
তোমায় মনে পড়ে?
অসীম আকাশে চন্দ্র তারকায়,
স্মৃতিখানি থাক সুখ বাসনায়।
দিন, মাস, বছর যুগ পেরিয়ে-
কড়া নাড়ছে একশ টি বছর আজ
মিলনের ছোঁয়ায়-

ফেলে আসা অতীত, যেন হাত ছানি দেয় বার বার।
আয় ছুটে আয় ফিরে সমস্ত সুখ ঘিরে,
শতবর্ষ বার্ষিকীতে অনাবিল সুখ বয়ে যাক,
তোমাদের হৃদয়াঙ্গনে হাসির রসে।
ভাবছ কি বসে ?

এতো দিন মাস বছর যুগ পেরিয়ে
ফেলে আসা অতীতকে ঘিরে-
বার বার পড়ে মনে হাজারো স্মৃতি ঘীড়ে
কত-দুঃখ, যাতনা সুখ,
খেলায় গিয়েছে মিশে।

মনে পড়ে বার বার শতবর্ষ আগে বিদ্যালয়ের স্মৃতি
ধরবে ক্লাসে প্রতিদিনের পড়া, শিক্ষক মন্ডলী।
কাপন ধরেছে হৃদয়ে কতদিন উত্তর দিতে হবে -
প্রতি দিনের নিয়ম গাঁথা, লিখতে হবে যথারীতি ক্লাসে।
ইশারায় দাড়িয়ে মুখস্ত পড়া, বলতে যদি হতো ভুল ।
বেত আর বকুনি শত পিঠের উপর আঘাত কত-
পড়তো এস ঝড়ের মতো-ভয়ে ঠক্ ঠক্ করতো দেহ।

পাশ করতে হবে পরীক্ষায়।
মাধ্যমিক আর কতদিন বাকি -
পাশ করতে হবে সঠিক, নইলে শাস্তি।
এরপর কড়া হুমকি-ধাম্কি-
লাভ হবে কার কিছুু আগে বুঝিনি।

হার্ডিঞ্জ বিদ্যালয় পেরিয়ে কলেজ-
কিছু স্বাধীনতা, খোলা-মেলা-
বন্ধু-বান্ধব হলো, চেনা-জানা,
হলো কত গল্প বলা- নাহি ভাবনা।
অভিভাবকদের রক্ষ চক্ষু
বয়সের ভারে অলস হলো ধমকানি।
চিনতে হবে নিজেকে-আমি আমার আমি।
আরো উচ্চ ক্লাসে পড়ছি কত বই-
ঝড়ে গেছে কত বন্ধু-সখা,নতুন জোটেছে কেউ।

এরপরে বৃদ্ধ মা-বাবা,
কর্মহীন হয়েছে ধীরে-
সংসার পাতিবে-বউ আসবে নীড়ে।
বাবা মার ইচ্ছে দায়িত্বো দিবে ঘারে।
এরি মাঝে কত বন্ধু-বান্ধব
বয়সের ভাড়ে কাপছে ন্যূয়ে।
ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের স্মৃতি পড়িল অতল তলে।
কে আর জানে শত বর্ষ আগে দল বেধে
আসা হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে।

পাখির বাসায় দল বেঁধে, হামলা চালিয়েছি আনন্দে।
এগাছে ও গাছে,কত ঢিল মেরেছি-লুকিয়ে-
বংশীর বুকে দুরন্ত পনায় সাতার কাটা
কড়া শসন, আঘাতেও পায়নি ব্যাথা।
মা-বাবার কড়া বকুনি-
রাগান্তি হয়ে দিয়েছে পিটুনি।

পৌষ সংক্রান্তির উৎসব আগত-
কবে শেষ হবে বার্ষিক পরীক্ষা যত-
কবে কখন হবে ছুটি,প্রাপ্তির ইচ্ছা।

সুতা কাটছে চাঁদের বুড়ি
আকাশে উড়াবো হাজারো ঘুড়ি।
আম-কাঠালের ছুটি হবে মধু মাসে
মামার বাড়ি যাবো বেড়াতে উল্লাসে।

সময়ের ঘোর কেটে যায় হঠাৎ
বিদ্যালয় খুলবে আবার।
ফেলে আসা অতীত-
এমন স্মৃতি মনে আসে বার বার-
সে ফিরে পাবোনা আর।
সহপাঠি বন্ধু সখা
দেখা নেই সহ কারো সনে
আজি শত বর্ষ পরে
উৎসবে মাতি, মিলে সকলে
কথা হলো পুরাতনের সনে।
কি বন্ধু আছো ভালো-
বউ-বাচ্ছা কার ক’জন?
দীর্ঘ দিনে কত কথা হলো বলা,
সকলেই একে অপরকে দেখে আত্মহারা।
রংমাতাল বসন্তের হাজারো স্মৃতি-
হঠাৎ দেখায় ঝালিয়ে নিতে সকল বিস্মৃতি।
কোথায় কি করছো সখা-এ প্রশ্ন জনে জনে।
হাসি হিল্লোল আলিঙ্গনে অশ্রু ঝড়ে অজান্তে ।
আবার হলো আজ দেখা,
শত বর্ষ পরে আমার বিদ্যালয়ে।
আজি মিলিব সবাই দল বেধে-
হই হিল্লোর করবো সবাই মিলে।

কেউ কর্ম বিরতি নিয়েছে বয়সের ভাড়ে
সরকারী পেন্সন পেয়ে বৃদ্ধের খাতায়-লিখিয়েছি নাম।
দেখা নাই অনেকের কেউ এমঞ্চ থেকে অভিনয়ের পাঠ শেষ করে
কত বন্ধু নিয়েছে বিদায় নিরবে- এখন আর নেই কোন দাম।

তাই মনে পড়ে বার বার ,
খুজে ফিরি সহসা, আসে না কেই আর।
তাই গুন গুন করে নিরব ভাষাই বলি
আয় আয় আরেক টি বার।

পাঠকের মতামত:

১৮ এপ্রিল ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test