E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

রাঘববোয়ালের গ্রাসে চুনোপুঁটি

২০২৩ জুন ০১ ১৮:১৫:২০
রাঘববোয়ালের গ্রাসে চুনোপুঁটি

স্পোর্টস ডেস্ক : আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ ১২টি। সহযোগী দেশের সংখ্যা ৯৪। আইসিসির প্রস্তাবিত রাজস্ব বণ্টনে পূর্ণ সদস্য ১২ দেশ পাবে মোট ৮৮.৮১ শতাংশ, বাকি অর্থ পাবে ৯৬টি সহযোগী দেশ। এই ভাগ-বাটোয়ারায় তিন মোড়লের অংশ সবচেয়ে বেশি। তবে সেটা ভারতের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪-২৭ চক্রে আইসিসির লভ্যাংশের ৩৮.৫ শতাংশ পাবে ভারত। অন্য দুই মোড়লের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া পাবে ৬.৮৯ শতাংশ। ইংল্যান্ডও পাবে এমনটাই। পাকিস্তানের ভাগে আসবে ৫.৭৫ শতাংশ। আর বাংলাদেশ পাবে ৪.৪৬ শতাংশ।

মানে আইসিসির প্রস্তাবিত রাজস্ব বণ্টন কাঠামো অনুযায়ী আয়ের সিংহভাগ যাবে ভারতসহ ক্রিকেটের পরাশক্তিগুলোর পেটে। এতে ক্রিকেটের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন আইসিসির সহযোগী সদস্যরা। আগামী জুলাইয়ে ডারবানে বসবে আইসিসির বোর্ড মিটিং। সেখানেই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবিত এই রাজস্ব বণ্টন কাঠামো পাস হওয়ার কথা। আর একবার পাস হয়ে গেলে তা কার্যকর হতেও সময় লাগবে না।

তাতে ক্রিকেট পরাশক্তি অর্থাৎ ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো রাঘববোয়ালের পেটে লভ্যাংশের বড় অংশ ঢুকে যাওয়া মানে চুনোপুঁটি দেশগুলোর অস্তিত্ব সংকট। এটা ভেবেই হয়তো আইসিসির সাবেক সভাপতি এহসান মানি বলেছেন, ‘আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান থাকলেও ভারতের ওপর অতিনির্ভরতা বৈশ্বিকভাবে ক্রিকেটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা চীনের মতো দেশ ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদে আইসিসির আয়ে অনেক বেশি অবদান রাখবে। তাতে ক্রিকেটও সমৃদ্ধ হবে বৈশ্বিকভাবে।’

ক্রিকেট থেকে আইসিসির লভ্যাংশের অর্ধেকের বেশি আসে ভারত থেকে। ক্রিকেট বাজারে ভারতের আধিপত্যের কোনো তুলনা হয় না। এর সম্পূর্ণ সুফলও তারা পেতে চায়। কিন্তু অন্যরা তা দিতে না চাইলেও নিরুপায়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আগেই আইসিসির প্রস্তাবিত রাজস্ব বণ্টন কাঠামোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ক্রিকেটের সহযোগী দেশগুলোর বোর্ডও এ নিয়ে অসন্তুষ্ট। বতসোয়ানা ক্রিকেট বোর্ডের সহসভাপতি সুমোদ দামোদার আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটিতে সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। আইসিসি আয়ের ভাগ বণ্টনের নতুন প্রস্তাব নিয়ে তিনি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা কার্যকর হলে সহযোগী সদস্যদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি হতাশ হব।

সহযোগী দেশগুলোর জন্য এই টাকার অঙ্ক কেন অপর্যাপ্ত, তার অনেক বাস্তবসম্মত কারণ আছে।’ ভানুয়াতু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী টিম কাটলার মনে করেন প্রস্তাবিত মডেল বৈষম্য তৈরি করবে। তিনি বলেছেন, ‘নতুন এই মডেলে বড় দলগুলোর সুবিধা বেশি। তাই প্রস্তাবিত এই মডেল কার্যকর হলে বৈষম্য আরও বাড়বে, খেলাটির ভবিষ্যৎও আরও ঝুঁকিতে পড়বে।’ আইসিসির বোর্ডে মোট ১৭ ভোটের মধ্যে ১২টি ভোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর। সহযোগী দেশগুলোর তাই তেমন কিছু করার নেই। ফলে অনেক দিন আগে যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র টাইমসে লেখা সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক আথারটনের আশঙ্কা সত্যি হওয়ার পথে, ‘যদি এ ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়, তাহলে শক্তিশালীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, দুর্বলরা তুলনামূলক আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আরও কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে পড়বে, যেটি দীর্ঘ মেয়াদে কারও স্বার্থই পূরণ করবে না।’

(ওএস/এসপি/জুন ০১, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

২২ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test