E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

টেস্টে প্রথমবার ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

২০২৬ মে ১৩ ০০:৫৩:০৩
টেস্টে প্রথমবার ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : উইকেটে জমে যাওয়া সালমান আলী আঘাকে ফেরালেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের এই পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ঠিকঠাক খেলতে পারেননি সালমান।

ব‍্যাটের কানায় লেগে ক‍্যাচ যায় গালিতে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সাদমান দারুণ দক্ষতায় ক্যাচ নিলেন।

সালমান ফিরতেই গ্যালারিতে গর্জন উঠে। মাঠেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষায় ফুটে উঠে আগ্রাসন।
সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন মুশফিকুর রহিম। তাসকিনের ব্রেক থ্রুর আনন্দে মিড অনে ফিল্ডিং করা মুশফিক যেন হয়ে গেলেন উসাইন বোল্ট! এই আউটের পরই মূলত চিত্রনাট্য সহজ হয়ে যায়।

বাকি কাজটা করে দেন নাহিদ রানা।

সালমানকে ফেরানোর পর ঢাকা টেস্ট জিততে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশকে। এরপর দায়িত্ব তুলে নেন নতুন পেস সেনসেশন নাহিদ রানা। তার গতির কাছে একের পর এক পাকিস্তানি ব্যাটার পরাস্ত হন।

নাহিদ তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার। তার আগুনে বোলিংয়েই বাংলাদেশ দল শেষ সেশনের এক ঘণ্টা আগেই ২৩.১ ওভার হাতে রেখে ১০৪ রানের জয় নিশ্চিত করে। যা দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে টানা তৃতীয় তথা হ্যাটট্রিক জয়।

বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকটি সেশন নষ্ট হলেও ঢাকা টেস্টের বেশিরভাগ সময়ই আধিপত্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনটিই কেবল অস্বস্তিতে কেটেছিল স্বাগতিকদের। বুধবার প্রথম সেশনে এক ঘণ্টা ব্যাটিং করে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে ফেরান তাসকিন আহমেদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন পাকিস্তানের এই ওপেনার।

দ্বিতীয় উইকেটে অবশ্য প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন আজান আওয়াইজ ও আব্দুল্লাহ ফজল। তবে ৫৭ রানের জুটির পর আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্টাম্পে থাকা বল কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন অভিষিক্ত আজান আওয়াইজ। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই নাহিদ রানা ফিরিয়ে দেন শান মাসুদকে।

চা-বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১১৬ রান। তখনও ক্রিজে জমে উঠছিল আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আলি আগার জুটি। তবে বিরতির পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনের শুরুতে তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন নাকচ করেন আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাতেই ১১৩ বলে ৬৬ রান করা শফিকের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। ভেঙে যায় ৫১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

শফিকের বিদায়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও একটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ দেন সালমান আলি আগা। ৩৯ বলে ২৬ রান করে ফেরেন তিনি।

সালমান ফেরার পর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সৌদ শাকিল। তবে চাপ ধরে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। আক্রমণে ফিরে আবারও সাফল্য এনে দেন নাহিদ রানা। অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন সাউদ শাকিল। ৭৩ বলে ৩১ রানের জুটি ভেঙে আরও চাপে পড়ে পাকিস্তান।

এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি সফরকারীরা। ২৩.১ ওভার বাকি থাকতেই ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। তাতেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে প্রথম জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

নাহিদের ইন-সুইংয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন রিজওয়ানও। পরে নোমান আলীকেও এলবিডব্লিউ করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন এই পেসার। এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ইতি টানেন তিনি।

ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে মাত্র ৪০ রানে ৫ উইকেট নেন নাহিদ রানা। নিজের সেই স্পেলে মাত্র ৪.৫ ওভার বল করেন তিনি। আর তাতেই কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১০ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট।

তবে বাংলাদেশের এই জয়ে অবদান ছিল অনেকেরই। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মুমিনুল হক দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। আর প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম।

বল হাতেও ছিল দলীয় নৈপুণ্য। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পুরো ম্যাচজুড়েই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনে দিয়েছেন ব্রেকথ্রু। প্রথম ইনিংসে কিছুটা এলোমেলো থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬১ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পর এটিই তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।

(ওএস/এএস/মে ১৩, ২০২৬)


পাঠকের মতামত:

০৯ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test