E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

১৪০ টাকায় নেমেছে ব্রয়লার মুরগি

২০২১ এপ্রিল ১৯ ১৪:০২:৩১
১৪০ টাকায় নেমেছে ব্রয়লার মুরগি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বাজারগুলোতে কেজিতে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৪০ টাকা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে দুই দফায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমলো। মাসের শুরুতে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছিল না।

ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও ‘পাকিস্তানি কক’ বা ‘সোনালী মুরগি’ এবং লাল লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে।

ব্রয়লার মুরগির দাম কমার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে হোটেলগুলোর বিক্রি কমে গেছে। এছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানও হচ্ছে না। এ কারণে মুরগির চাহিদা কমেছে। তাছাড়া সাধারণ মানুষও কেনা কমিয়ে দিয়েছে। সবকিছু মিলে দাম কমেছে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, লকডাউন শুরুর আগে সোনালী মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ছিল ১৬০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ২৩০ টাকা কেজি ছিল। লকডাউন ঘোষণার পর সোনালী মুরগির কেজি ২৫০ টাকায় নেমে আসে।

তিনি আরও বলেন, মুরগির সব থেকে বড় ক্রেতা হোটেল ও ফাস্টফুডের দোকানগুলো। লকডাউনের কারণে মানুষ বাইরে কম বের হচ্ছে। এ কারণে হোটেল ও ফাস্টফুডের দোকানগুলোর বিক্রিও কমে গেছে। তাই মুরগির চাহিদা এবং দাম উভয়ই কমেছে।

রামপুরার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন আমরা যে মুরগি বিক্রি করি তার অর্ধেকের বেশি নেয় বিভিন্ন হোটেল। লকডাউনের কারণে এখন হোটেলগুলোতে মুরগি কেনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। লকডাউন বাড়লে আমাদের ধারণা মুরগির দাম আরও কমে যাবে।

তিনি বলেন, হোটেলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও মুরগি কেনা কমিয়ে দিয়েছে। অথচ যখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ টাকা ছিল মানুষ তখন বেশি পরিমাণে কিনেছে। এখন ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি করলেও আগের তুলনায় অর্ধেক ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না।

রামপুরা মোল্লাবাড়ির মুরগির ব্যবসায়ী ইসমাইল বলেন, গতকালের থেকে আজ পাইকারিতে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে কিনতে পেরেছি। এ কারণে আমরাও কম দাম বিক্রি করতে পারছি। আমাদের ধারণা সামনে সব ধরনের মুরগির দাম আরও কমবে।

সামনে মুরগির দাম কমার কারণ হিসেবে এই ব্যবসায়ী বলেন, এখন মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাছাড়া আবহাওয়া বেশ গরম। এই গরমে ব্রয়লার মুরগি বেশি দিন রাখা যায় না। আবার বড় হয়ে যাওয়ার পর ব্রয়লার মুরগি ধরে রাখলেই লোকসান। কারণ এদের খাবারের খরচ অনেক। সবকিছু বিবেচনায় বলা যায় সামনে ব্রয়লারের দাম কমবে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কমলে অন্যান্য মুরগির দামও কমবে। তবে লকডাউন উঠে গেলে দাম ফের বেড়ে যেতে পারে।

কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী মিন্টু বলেন, খামারিরা ধারণা করেছিলেন এবার রোজায় মুরগির ভালো দাম পাবেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। লকডাউনের পর মুরগির বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। চাহিদা কমলে দাম কমবে এটাই স্বাভাবিক। খামারির পক্ষে তো মুরগি ধরে রাখা সম্ভব না। বিক্রির উপযুক্ত হলে মুরগি বিক্রি করে দিতেই হবে। তাতে দাম পাওয়া যাক বা না যাক। কারণ বিক্রির উপযুক্ত মুরগি ধরে রাখলেই লোকসান। কারণ একদিকে খাবারের খরচ অনেক, অন্যদিকে মরে যাওয়ার ভয় আছে।

(ওএস/এসপি/এপ্রিল ১৯, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

১৫ মে ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test