E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

ন্যূনতম মজুরির ঘোষণাসহ পোশাক শ্রমিকদের ৬ দফা দাবি

২০২২ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৬:০৪:২০
ন্যূনতম মজুরির ঘোষণাসহ পোশাক শ্রমিকদের ৬ দফা দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এনে গার্মেন্টস সেক্টরে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন। একই সঙ্গে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণারও দাবি জানিয়েছে ১০টি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের এ জোটটি।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়। বাজারদর, মজুরি বৃদ্ধি ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রসঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সভায় ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চালের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ, ডাল (মোটা দানা) ৯৬ শতাংশ, আটা (প্যাকেট) ৭২ শতাংশ, সয়াবিন তেল লুজ ৯৭ শতাংশ, এক লিটার বোতল ৭৮ শতাংশ, পাঁচ লিটার বোতল ৯৩ শতাংশ, লবণ ৪০ শতাংশ ও ডিম (হালি) ৫০ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষকরা বলছেন, সরকারি হিসাবের চেয়েও প্রকৃত মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বসবাসরত একজন ব্যক্তির মাসিক খাবার খরচ পাঁচ হাজার ৩৩৯ টাকা। চারজনের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই খরচ হচ্ছে ২১ হাজার ৩৫৮ টাকা। খাবারের সঙ্গে এক কক্ষের ঘরভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল, চিকিৎসা ব্যয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পণ্য ক্রয়, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, যাতায়াত, মোবাইলফোন ও ইন্টারনেটের বিল হিসাব করলে ঢাকার আশপাশের এলাকায় চার সদস্যের এক পরিবারের মাসিক খরচ গিয়ে দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৫৪৮ টাকা। তবে ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বাড়িভাড়া বেশি। সে ক্ষেত্রে মাসিক খরচ হবে ৪৭ হাজার ১৮২ টাকা। খাবারের তালিকা থেকে মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও মুরগি বাদ দিলেও তা ৩৩ হাজার ৮৪১ টাকায় দাঁড়ায়। তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতির হার ছয় শতাংশের ওপরে। কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

বেঁচে থাকার জন্য ২৫ হাজার টাকার কম মজুরিতে একজন পোশাক শ্রমিক চলতে পারেন না বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। তারা বলেন, জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি শুধু শ্রমিকের জীবন নয় উৎপাদনে তৈরি করেছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করেছে। ফলে শ্রমিক এবং শিল্পের স্বার্থেই অতিদ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি বৃদ্ধি প্রয়োজন। পোশাক শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির লড়াইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার দিকে নিয়ে যাবার জন্য সবাইকে আহব্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা বর্তমানে খুব অসহায় সময় পার করছে। তাদের এই দুঃসময়ে তাদের কথা সবাইকে ভাবতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

শ্রমিকদের মানসম্মত মজুরির বিষয়ে ব্রাক ইন্সটিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের গবেষক মাহীন সুলতানা বলেন, কোনো ধরনের মজুরির কথা আমরা বলছি। মানসম্মত নাকি বেঁচে থাকার জন্য মজুরি। শুধু বেঁচে থাকার জন্য একটা মজুরি নিয়ে কেন আমরা বাঁচতে চাইবো? সেই হিসেবে ২৫ হাজার টাকা মজুরিও অনেক কম। সঞ্চয়, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষা সব মিলিয়ে এই টাকায় হয় না। এগুলো বাদই থেকে যায়। সরকার ও মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি। সবশেষ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রতি জোর দেন মাহিন সুলতানা।

সরকার মালিকদের অনুগত হয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের ভারপাপ্ত সভাপতি শামীম ইমাম বলেন, মালিকরা তাদের কুকুরের জন্য দৈনিক ২০০টাকা খরচ করেন। সেই কুকুরকে দেখবালের জন্যও একজন লোক রাখা হয়। সে হিসেবে একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের পেছনে তার অর্ধেক টাকাও খরচ করেন না মালিকরা। শ্রমিকদের টাকা দেওয়ার সময় আসলে মালিক এবং সরকারের টাকা থাকে না। সরকার মালিকদের অনুগত হয়ে কাজ করছে। আমাদের কে চিনতে হবে আমাদের বন্ধুকারা এবং শত্রু কারা। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আমাদের এই আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে করতে হবে।

গার্মেন্টস মালিকরা মজুরি কম দিয়ে অর্থ বিদেশে পাচার করছে উল্লেখ করে গবেষক মাহা মির্জা বলেন, মজুরি বৃদ্ধি পেলে যে গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে এমন ইতিহাস বাংলাদেশে নেই। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেলে উল্টো শিল্পের মান আরও উন্নত হবে। গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে মালিকরা যে অপপ্রচার করছে তা শ্রমিকদের মজুরি না বাড়ানোর জন্য।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম সবুজ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রডারেশনের সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তাসলিমা আখতার, জাতীয় সোয়েটার গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি মাহমুদ হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদ রেজা প্রমুখ।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

২৭ নভেম্বর ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test