E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

 

মোংলা বন্দরে বৃদ্ধি পেয়েছে আমদানি-রপ্তানি, সকল সূচকেই ঊর্ধ্বগতি

২০২৪ জুলাই ০৮ ১৯:২৯:২২
মোংলা বন্দরে বৃদ্ধি পেয়েছে আমদানি-রপ্তানি, সকল সূচকেই ঊর্ধ্বগতি

সরদার শুকুর আহমেদ, বাগেরহাট : দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর মোংলায় বৃদ্ধি পেয়েছে আমদানি-রপ্তানি ও বিদেশী জাহাজের আগমনসহ সকল সূচকেই এখন ঊর্ধ্বগতি। পদ্মা সেতু চালু হবার পর মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। সম্প্রসারিত হয়েছে ব্যবসা বাণিজ্য। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল তথা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশের আমদানী রপ্তানি বাণিজ্যের দ্বিতীয় লাইফ লাইন মোংলা বন্দর ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে যেখানে ৮২৭ টি জাহাজ এসেছিল অন্যদিকে বিগত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে জাহাজ এসেছে ৮৪৬ টি। অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থ বছরের তুলনায় বিগত অর্থ বছরে ১৯ টি জাহাজ বেশী এসছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৪০ টি।  অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী এসছে ০৬ টি জাহাজ বেশি এসেছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এতত্য নিশ্চিত করেছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের গনসংযোগ বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, বিদেশী জাহাজ আগমেরন উর্ধগতির পাশাপাশি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯৯.০৫ লাখ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল। অন্যদিকে গত অর্থবছরে ১০৮.৬৮ লাখ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ২৬৫৮৩ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল। অন্যদিকে গত অর্থবছরে মোট ৩১০৪৪ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের এই বন্দররের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি হয়েছিল ১৩৫৭৬ টি। অন্যদিকে গত অর্থবছরে ১৫৩৪০ টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। গাড়ী আমদানী বেড়েছেম১৭৬৪ টি। গত ১০ বছরে এই বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত গাড়ির সংখ্যা দাড়িয়েছে এক কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার ৯৬৯টি।

২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয় মোট ৩০২ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত অর্থবছরে মোট ৩১৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে । পূর্ববর্তী অর্থ বছরের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের অর্জিত রাজস্ব আয় ২৮.৫৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই বন্দরে ১৮২মিটার করে দৈর্ঘ্যের ৫টি জেটি, ৩০হাজার মেট্রিক টন করে ৪টি ট্রানজিট শেড, ৪,৭৪৩ বর্গমিটার আয়তনের ১টি স্টাফিং ও আনস্টাফিং শেড, ৩০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতার ২টি ওয়্যারহাউজ ১৬০টি রেফার কন্টেইনারে এক সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার রেফার প্লাগ পয়েন্ট, ৬৮,৬৬৭ বর্গমিটার আয়তনের ৬টি কন্টেইনার ইয়ার্ড, ২ হাজার ইউনিট গাড়ি সংরক্ষণ করা যায় এমন ২টি কার ইয়ার্ড রয়েছে।

পদ্মা সেতুর কারনে রাজধানী সব থেকে কাছের বন্দর মোংলায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের মহাকর্মযজ্ঞ শুরুর পর চাপ সামাল দিকে কর্তৃপক্ষ এতিমধ্যে বাস্তবমুখি পদক্ষেপ নিয়েছে। মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, বন্দরের জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ, পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং, আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট ও মোংলা বন্দরের ২টি অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ প্রকল্প পাঁচটি দ্রুত শেষ হলে এই বন্দরে আগত সমুদ্রগামী জাহাজের বর্জ্য দূষণ থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করা যাবে। সেই সাথে পশুর চ্যানেল ও মোংলা বন্দরের আশেপাশের নদ নদীসমূহ নিঃসৃত তেল হতে দূষণ মুক্ত রাখা, সমুদ্রগামী জাহাজ সুষ্ঠুভাবে হ্যান্ডলিং এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জরুরী উদ্ধার কার্য পরিচালন, বন্দরে জেটি পর্যন্ত ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিং এর সুবিধা বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ১.৫০ কোটি টন কার্গো, ৩.৫০-৪.০০ লাখ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংসহ বার্ষিক ১ লাখ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্ব ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মোংলা বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এ বন্দর দিয়ে ৮৪৬ টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন করে। রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয় ১৫,৩৪০ ইউনিট। এ সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল সূচক পজিটিভ ধারায় থাকার ফলে বন্দরে নিট মুনাফা ২৮দশমিক ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বন্দর দিয়ে বিশ্বের ৩৮টি দেশে পণ্য রপ্তানি হয়। পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দর থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও তার পার্শ্ববতী জেলা থেকে পণ্য আনা নেয়া করার ক্ষেত্রে বন্দর ব্যবহারকারীদের সময় এবং অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর কল্যাণে রাজধানীর সব থেকে কাছের বন্দর হওয়ায় মোংলা হয়ে পোশাকশিল্পের বিভিন্ন পণ্যও যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। মোংলা বন্দরের সাথে রেল সংযোগ স্থাপন করায় পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে নবদিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। মোংলা বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে এই বন্দর দিয়ে এখন পণ্য আমদানি-রপ্তানি বেড়ে চলেছে। পণ্যগুলোকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে আমদানি-রপ্তানি করার ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরও সার্বিক দিক দিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

(এস/এসপি/জুলাই ০৮, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২৫ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test