E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

হাইওয়ে পুলিশ সেবা সপ্তাহ 

হাইওয়ে পুলিশ’র জন্য শেখ হাসিনা সরকারের অবদান 

২০২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১৫:৪৬:৪৮
হাইওয়ে পুলিশ’র জন্য শেখ হাসিনা সরকারের অবদান 

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ


জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সার্বক্ষণিক আইন শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত হাইওয়ে পুলিশ ‘সেবা সপ্তাহ ২০২৪। আর বাংলাদেশ পুলিশ হবে জনগণের প্রথম ভরসাস্থল’-এ মূলমন্ত্র সামনে রেখে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে। রূপকল্প-২০৪১ কে সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বমানের পুলিশি সেবা নিশ্চিতকরণে যে নতুন ধারা সূচনা করেছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাইওয়ে পুলিশও তার কর্মকাণ্ডে আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

হাইওয়ে পুলিশের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের অবদান

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল আত্মত্যাগ ও বীরত্বের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে অকুতোভয় বীর পুলিশ সদস্যরা গড়ে তুলেছিল প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী দেশপ্রেমিক বীর পুলিশ সদস্যদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম একজন নারী পুলিশ অফিসারকে জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। সে সময় বর্তমান সরকার পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি করে ঝুঁকি ভাতা প্রদান শুরু করে, দ্বিগুণ রেশন প্রদান ও পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। আর জনবান্ধব পুলিশ প্রতিষ্ঠায় প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে ২০০০ সালে পুলিশ স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে গত ১৫ বছরে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন পদ সৃজন করে জনবল নিয়োগ ও, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, ট্যুরিস্ট, নৌ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এন্টি টেররিজম ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটসহ বেশ কয়েকটি রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ পুলিশকে একটি অত্যাধুনিক ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরিত করেন। আর জাতীয় জরুরি সেবায় ৯৯৯ ইউনিট গঠন করে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক চালু করে; বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশ সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। আর হাইওয়ে পুলিশকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ৫০টি হাইওয়ে আউটপোস্ট নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, যানবাহন ও জনবল বৃদ্ধি করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড হতে চট্টগ্রাম সিটিগেইট পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সহকারে সিসিটিভি মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর, নির্মাণাধীন মহেশখালী মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন, সরকারি ও বেসরকারি ১০০টি ইকোনমিক জোন, নৌ বন্দরসমূহের সংযোগ সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রসমূহ মহাসড়কের সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। এক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি হ্রাস পাবে ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বৈদেশিক পণ্য রপ্তানি পরিবহনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে দেশের রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাইওয়ে পুলিশের বর্তমান অবস্থা

মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী হাইওয়ে পুলিশের অপর্যাপ্ত লোকবল এবং পরিবহন সংকটের কারণে যাত্রীরা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশে সড়ক, নৌ ও আকাশ পথের মোট যাত্রীর ৭৩% যাতায়াত করেন সড়ক-মহাসড়কে। অন্যদিকে, ৮৩% পণ্য সড়ক-মহাসড়ক হয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। হাইওয়ে পুলিশ দেশের সব মহাসড়কে এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। জনবল, পরিবহনসহ বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম এখনও পুরোদমে বিস্তৃত হয়নি। লোকবল বাড়লে ধারাবাহিকভাবে তাদের ওপর পুরো কার্যক্রম ন্যস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে ৩৬ টি থানা ও ৩৭ টি ফাঁড়ি নিয়ে সড়ক ও মহাসড়কে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিটি থানায় ০১ (এক) জন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) (অফিসার-ইনচার্জ) ও ০১ (এক) জন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এবং ফাঁড়ি গুলোতে সাব-ইন্সপেক্টর দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। তবে কিছু কিছু ফাঁড়িতে বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও প্রতিটি ফাঁড়িতে মাত্র একটি করে গাড়ি রয়েছে। তিন হাজার কিলোমিটার পথের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে ২,৮০০ পুলিশ সদস্যকে হিমশিম খেতে হয়।

এছাড়া বাকি আরও ৬,০০০ কিলোমিটার মহাসড়ক হাইওয়ে পুলিশের আওতায় আনতে নতুন ইউনিট, নতুন থানা ও ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। এ কারণে বাড়তি জনবল লাগবে। হাইওয়ে পুলিশের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, “অল্প কয়েকটি থানা ও ফাঁড়িতে দুটি করে টহল গাড়ি থাকলেও অধিকাংশ থানাতেই একটি করে গাড়ি রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। অনেকগুলো গাড়ি আবার পুরোনো, যেগুলো প্রায়ই মেরামত করে চালাতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “নির্দিষ্ট থানা ও ফাঁড়ি এলাকায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা একাধিকবার টহল দিতে হয়। প্রতিটি থানা ও ফাঁড়িতে যদি আরও একটি করে গাড়ি যুক্ত করা যায়, তাহলে হাইওয়ে পুলিশের কাজে গতিশীলতা বাড়বে।”

হাইওয়ে পুলিশের কন্ট্রোল রুম/সংগৃহীত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২ হাজার ৯৯১ কিলোমিটার মহাসড়কে মানুষের চলাচল ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, নিরাপদ সড়ক-মহাসড়ক নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, দুর্ঘটনার রোধে চালক ও হেলপারসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করাসহ পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

মামলা কার্যক্রম

হাইওয়ে পুলিশ পূর্বে শুধু মাত্র সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলা তদন্ত করত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ গেজেট নং– এস.আর ও নং–২৮২–আইন/২০১৭। Police Act, 1861 (Act NO. V Of 1861) এর Section 12 এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে হাইওয়ে পুলিশ মাদক ও চোরাচালান মামলা তদন্ত করার ক্ষমতা লাভ করেন। বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ স্বতন্ত্রভাবে দুর্ঘটনা, মাদক ও চোরাচালান মামলা তদন্ত করে থাকেন। হাইওয়ে পুলিশ মামলা তদন্তের ক্ষমতা লাভ করার পর হতে ৩০/০৪/২০১৮ খ্রিঃ পর্যন্ত মাদক ও চোরাচালান অপরাধ সংক্রান্তে তদন্তকৃত মামলার সংখ্যা সর্বমোট ৩৭৩ টি। তন্মধ্যে ২৩২ টি মামলায় চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে এবং ১৪১ টি মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় আছে।

পরিশেষে বলতে চাই, হাইওয়ে পুলিশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি প্রতিনিয়ত হাইওয়ে পুলিশ তার সেবা আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছে, যা গত এক বছরে আরও গতিশীল হয়েছে। রূপকল্প-২০৪১ অনুযায়ী ‘উন্নত বাংলাদেশের উন্নত হাইওয়ে পুলিশ’ গঠন করতে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখা ইতোমধ্যেই প্রণীত হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হাইওয়ে পুলিশ তার সেবা প্রত্যাশীদের চাহিদা পূরণে অনেকটাই সফল হবে বলে আশা করা যায়। হাইওয়ে পুলিশের সেবা সপ্তাহ ১৩ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত হাইওয়ের ৮টি রিজিয়নে পালিত হয়।

লেখক : কলাম লেখক ও গবেষক।

পাঠকের মতামত:

১৬ এপ্রিল ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test