E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

থাইরয়েড প্রতিরোধ করতে প্রয়োজন প্রাথমিক জ্ঞান ও সচেতনতা

২০২৪ মে ২৪ ১৬:১৯:২৮
থাইরয়েড প্রতিরোধ করতে প্রয়োজন প্রাথমিক জ্ঞান ও সচেতনতা

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ


২৫ মে শনিবার বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৪। হরমোনজনিত এ সমস্যা থেকে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। দেশে প্রায় ৫ কোটি মানুষের বিভিন্ন থাইরয়েড সমস্যা রয়েছে। 

থাইরয়েডে আক্রান্ত অর্ধেকেরও বেশি মানুষ জানে না যে তারা এ সমস্যায় ভুগছে। এছাড়া পুরুষদের তুলনায় নারীরা চার-পাঁচগুণ বেশি আক্রান্ত হয়। এই অবস্থায় থাইরয়েডের লাগাম টানতে নবজাতক জন্মের পর দ্রুত থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০% এর কাছাকাছি জনগোষ্ঠী থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত। এদের অর্ধেকের বেশীই জানে না যে তারা থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলাদের প্রায় ২ শতাংশ এবং পুরুষদের প্রায় ০.২ শতাংশ হাইপারথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের বৃদ্ধি জনিত সমস্যা) রোগে ভোগে। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।

প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ, মহিলাদের মধ্যে ৩.৯ শতাংশ থেকে ৯.৪ শতাংশ হারে হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি জনিত সমস্যা) থাকতে পারে। আরও প্রায় ৭% মহিলা ও পুরুষ সাবক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগে থাকে। নবজাতক শিশুদেরও থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতি জনিত সমস্যা হতে পারে এবং তার হার ১০ হাজার জীবিত নবজাতকের জন্য ২-৮ হতে পারে। বাড়ন্ত শিশুরাও থাইরয়েড হরমোন ঘাটতিতে ভুগতে পারে। এ সময় থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতি হলে শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।পরে সময়ে দৈহিক বৃদ্ধির সমতা আনয়ন করা গেলেও মেধার উন্নতি করা সম্ভব হয় না; অর্থাৎ শিশু-কিশোরদের হাইপোথাইরয়েডিজম হলে তা দ্রুত সমাধান করা না গেলে বুদ্ধি-বৃত্তির বিকাশ স্থায়িভাবে ব্যাহত হবে।

ঐতিহাসিক ভাবে বাংলাদেশ একটি গলগন্ড বা ঘ্যাগবহুল মানুষের দেশ। দৃশ্যমান গলগন্ড রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমে থাকলেও তা কোন ভাবে প্রাপ্ত বয়স্কদের মাঝে ৮.৫% এর কম নয়। থাইরয়েড ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধির দিকে। বাংলাদেশের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও গলগন্ড রোগীদের ৪.৫% এর কাছাকাছি থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়।থাইরয়েড হরমোনের পরিমান স্বাভাবিক থেকেও থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। সাধারণত আয়োডিনের অভাবে গলাফুলা রোগ হয়ে থাকে, যাকে আমাদের সাধারণ ভাষায় ঘ্যাগ রোগ বলা হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের বেশিরভাগ স্কুলগামী শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের আয়োডিনের অভাব রয়ে গেছে। এ আয়োডিন শরীরে অতি প্রয়োজনীয় থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুঃখের বিষয় সারা পৃথিবীতে এখনও ২ হাজার মিলিয়ন লোক আয়োডিনের অভাবে ভুগছেন।

থাইরয়েড কি?

থাইরয়েড একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলার শ্বাসনালীর সামনের দিকে থাকে। গ্রন্থিটি দেখতে প্রজাপতি সাদৃশ এবং এটি ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালিকে প্যাঁচিয়ে থাকে। যদিও এটি একটি ছোট গ্রন্থি, কিন্তু এর কার্যকরীতা ব্যাপক। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিসৃত হরমোন আমাদের পক্ষে খুব উপকারী। এই হরমোন মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। ভ্রুণ অবস্থা থেকে আমৃত্যু থাইরয়েড হরমোনের প্রয়োজন অপরিহার্য। থাইরয়েড গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন মানব পরিপাক প্রক্রিয়ায় অন্যতম ভূমিকা পালন করে।

এ হরমোনের তারতম্যের জন্য শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, শরীর মোটা হওয়- ক্ষয় হওয়া, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, হার্টের সমস্যা এবং চোখ ভয়ঙ্করভাবে বড় হয়ে যেতে পারে। বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ হিসেবে থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যকে দায়ী করা হয়। শারীরিক কার্যক্ষমতা সঠিক রাখার জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় এ হরমোন শরীরে থাকা একান্ত জরুরী। কিন্তু হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ বা কম ক্ষরণ আমাদের শরীরে অনেক সমস্যা তৈরি করে যার সম্পুর্ন নিরাময় হয় না। কিন্তু একটু বুঝে শুনে চললেই এটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

থাইরয়েডে সাধারণত কি কি সমস্যা হয়?

১) হাইপারথাইরয়েডিজম- এখানে রক্তে থাইরয়েড নিসৃত হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। বেড়ে গেলে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন বুক ধড়ফড় করা, ওজন কমে যাওয়া, গলগন্ড, চোখের আকার বেড়ে যাওয়া, গরম সহ্য হয় না, ঋতুস্রাবের সমস্যা, এমনকি মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

২) হাইপোথাইরয়েডিজম- এখানে রক্তে থাইরয়েড নিসৃত হরমোনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন- দূর্বলতা, ওজন বৃদ্ধি, বেশি ঠান্ডা লাগা, গলগন্ড, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, চুল পড়ে যাওয়া, কিছু ভালো না লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব ইত্যাদি। গর্ভাবস্থায় এই রোগ থাকলে বাচ্চার নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। জন্মের পর কোনো শিশু এই রোগে আক্রান্ত হলে তার বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশ, পড়াশোনা, বয় সন্ধির সময়ে নানা সমস্যা হতে পারে।

থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ কমে যাওয়ার কারন কি?

১. খাদ্যে আয়োডিনের অভাব

২. কিছু অটো ইমিউন ডিস-অর্ডার

৩. কোনো কারনে থাইরয়েড অপারেশন হলে

৪. রেডিওথেরাপি নিলে

৫. এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।

৬. জন্মের সময়ে থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হলে

৭. কিছুখাদ্য উপাদান বেশি পরিমাণে খেলে যেমন-বাধাকপি, ব্রকলি, পুইশাক, মিষ্টি আলু, স্ট্রবেরি ইত্যাদি।

থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যাবার কারণ

১. অটো ইমিউন ডিস অর্ডার

২. থাইরয়েড হরমোন বেশি পরিমাণে হলে

৩. থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সঙক্রমন হলে

৪. থাইরয়েড গ্রন্থিতে টিউমার হলে

একজন পুরুষের তুলনায় একজন মহিলা থাইরয়েড সমস্যায় বেশি ভোগেন। আমাদের চারপাশে প্রতি আটজন মহিলার মধ্যে একজন কোনো না কোনো ভাবে থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। আজকাল তাই বলা হচ্ছে থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা মহিলাদের রুটিন পরীক্ষার আওতায় আনা হোক। সন্তান ধারন ও প্রসবের সময় থাইরয়েডের সমস্যা যেমন পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে, তেমনি সন্তান হবার পর ও দেখা দিতে পারে সমস্যা। তাই সন্তান ধারনের পরিকল্পনা করার সময়েই থাইরয়েডকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ের জন্য যে পরীক্ষা গুলি করা হয়

১. T3, T4 TSH রক্ত পরীক্ষা করা হয়

২. থাইরয়েড গ্রন্থির USG করা হয়

৩. ইমিউনোগ্লোবিউলিন পরীক্ষা করা হয়

৪. থাইরয়েড স্টিমিউলেটিঙ পরীক্ষা করা হয়।

থাইরয়েডের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া পরামর্শ

শরীরের প্রতিটি উপাদানেরই নির্দিষ্ট একটা মাত্রা থাকা চাই। মানুষের শরীরের জন্য থাইরয়েড হরমোনেরও একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকা জরুরি। প্রয়োজনের কম বা বেশি হরমোন উৎপাদিত হলে শরীরের ওপর বিভিন্ন রকম বিরূপ প্রভাব দেখা দিতে থাকে।

কিছু খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রা ঠিক রাখার মাধ্যমে থাইরয়েড সমস্যার উপশম হতে পারে।

১. প্রথমেই বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং জাঙ্ক ফুড (এক ধরনের কৃত্রিম খাবার যাতে চর্বি, লবণ, কার্বনেটসহ ক্ষতিকারক উপাদান বেশি থাকে) পরিহার করতে হবে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং নিয়মিত এগুলো খাওয়ার ফলে শরীরে অনেক খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

২. অগোছালো জীবনযাপন পরিহার জীবনযাত্রা ঠিক করতে হবে। বর্তমানে এত এত শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এটি। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি কমাতে ও শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই।

৩. খাওয়ার সময় মনোযোগ দিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খেলে তা থাইরয়েড এবং মনের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলে। তাই খাওয়ার সময় কখনও তাড়াহুড়ো না করে, সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণে থাইরয়েড গ্রন্থি বিশেষ ভূমিকা পালন করে, সে জন্য সময় নিয়ে খাবার চিবিয়ে খেলে তা বিপাক ক্রিয়া বাড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

৪. গবেষকেরা বলেন, কিছু শাকসবজি আছে যেমন, বাঁধাকপি, ব্রকলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, ফুলকপি ইত্যাদি এগুলো কাঁচা অবস্থায় খাওয়া ঠিক নয়। এগুলো কাচা খেলে থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ ব্যাহত হয়ে থাকে এবং থাইরয়েড গ্রন্থির ভারসাম্য নষ্ট হয়। একারনে এ সবজি গুলো কাঁচা অবস্থায় বা স্যালাদ হিসেবে না খেয়ে রান্না করে খেতে হবে।

৫. নারকেল তেল গরম না করে ব্যবহার করলে তা ওজন কমাতে এবং বিপাকীয় ক্রিয়া বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। নারকেল তেলে যে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে তা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া শরীরের তাপমাত্রাও ঠিক রাখতেও এই তেল অনেক কার্যকরি।

৬. হরমোন উৎপাদনের ভারসাম্যতা বজায় রাখতে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার অনেক উপকারী। এতে বিপাক ক্রিয়ার উন্নতি হয়। এ ছাড়া এটি শরীরের ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং শরীর থেকে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ বের করে পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে।

৭. আদায় বিভিন্ন রকম খনিজ যেমন- পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই এটি থাইরয়েডের সমস্যার জন্য অনেক কার্যকর। থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত আদা চা পান করা অনেক উপকারী।

৮. থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ভিটামিন বি খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই যেগুলো খাবারে এই ভিটামিন বেশি থাকে যেমন, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, বাদাম এগুলো প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তভুক্ত করতে হবে যাতে এগুলি শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি সরবরাহ করতে পারে।

৯. ভিটামিন ডি এর অভাবেও অনেক সময় থাইরয়েডের সমস্যা হয়ে থাকে। আর একমাত্র সূর্যের আলোতেই শরীর ভিটামিন ডি প্রস্তুত করতে পারে। তাই দিনে অন্তত পক্ষে ১৫ মিনিট সূর্যের আলোয় থাকতে হবে। এতে শরীরে ভিটামিন ডি প্রস্তুতসহ ভালোভাবে ক্যালসিয়ামের শোষণ হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। ভিটামিন ডি বেশি পরিমাণে থাকে এমন কিছু খাবার হচ্ছে- স্যালমন, ম্যাকারেল, দুগ্ধজাতীয় দ্রব্য, কমলালেবুর রস, ডিমের কুসুম ইত্যাদি। এর পরেও শরীরে ভিটামিন ডির মাত্রা অনেক কম থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।

১০. আয়োডিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার থাইরয়েডের জন্য অনেক বেশি উপকারী। তাই যে খাবারে এই উপাদানগুলো বেশি থাকে যেমন, দুধ, পনির, দই এই ধরনের দুগ্ধজাতীয় খাবার.

থাইরয়েড এর সমস্যা থাকলে প্রথমেই এড়িয়ে যেতে হবে জাঙ্ক ও প্রসেসড খাবার। খেতে ভালো লাগলেও এ খাবার বিষের সমান। প্যাকেট জাত খাবার, চিপস, কেক, ক্যান ভর্তি পানীয়ের মধ্যে কোনো পুষ্টি গুন থাকে না। কিন্তু এর মধ্যে থাকে প্রচুর চিনি ও নুন। থাইরয়েড সমস্যায় হজম ঠিক হয় না। তাই বাড়তি ক্যালোরি হজম করা সমস্যা তৈরি করে। আ্যলকোহল, কফি, গম, বার্লি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এতে গ্লুটেন থাকে যা থাইরয়েড সমস্যায় শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। গ্লুটেন মুক্ত খাবার রাগি খাওয়া যেতে পারে। বাধা কপি, ফুলকপি, ব্রকলি, সরষে, মূলো, রাঙা আলু, চিনে বাদাম এড়িয়ে চলাই ভালো। পনির, চিজ, চিনি, পাকা কলা, শুকনো ফল, মধু, ময়দার রুটি, সাদা ভাত, আলু মিষ্টি এগুলো কম খেতে হবে। আয়োডিন যুক্ত খাবার, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ী, ফল আনাজ, আয়োডিন যুক্ত নুন, ডিম, মাংস এগুলো খেতে হবে। থাইরয়েডের জন্য অনেক বেশি উপকারী। আয়োডিন সাপ্লিমেন্টও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা

রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। এজন্য চিকিৎসকে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং রোগের যথোপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারলে থাইরয়েডের সমস্যা থেকে নিরাময় হওয়া হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিতে সম্ভব, আর শরীরে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে যে গলগণ্ড হয় তা অনেকটাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে খাদ্যে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের ফলে। উন্নত দেশে শিশুর জন্মেও সঙ্গে সঙ্গে থাইরয়েডের রক্ত পরীক্ষা প্রচলন আছে। একে ইউনিভার্সাল নিওনেটাল স্ক্রিনিং বলে।

হোমিও মেডিসিন

হোমিওপ্যাথিতে থাইরয়েডের চিকিৎসায় থাইরয়েডিনাম ছাড়াও আয়োডিন, নেট্রাম মিউর, লাইকোপিডিয়াম, সাইলেসিয়া, ফিডোরিনাম, থুজা, মেডোরিনামসহ আরো অনেক মেডিসিন লক্ষণের ওপর আসতে পারে তবে কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করবেন না। কারণ চিকিৎসক তার অভিজ্ঞতার আলোকে ওষুধ নির্বাচন করে থাকেন যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতির সম্ভবনা প্রবল থাকে।

পরিশেষে বলতে চাই, থাইরয়েডের বেশির ভাগ সমস্যা থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে বিচ্যুতি ঘটার কারণে হয়। যদিও কিছু থাইরয়েড অবস্থার অপ্রীতিকর বা অস্বস্তিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে, বেশিরভাগই কার্যকরীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।তাই আসুন আমরা সবাই থায়রয়েড রোগ সম্পর্কে জানি এবং এর প্রতিকার ও প্রতিরোধে এগিয়ে আসি।

লেখক : চিকিৎসক, কলাম লেখক ও গবেষক, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি।

পাঠকের মতামত:

২৫ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test