রাজাকার অপশক্তি: কত দূর যেতে চায় ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
আবীর আহাদ
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত, লাখো নারীর সম্ভ্রম, কোটি মানুষের দুঃসহ ত্যাগ আর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অমিত বীরত্বের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তবুও বিস্ময়করভাবে এ দেশের মাটিতেই এমন একটি শক্তি আজও টিকে আছে, যারা মনেপ্রাণে বাংলাদেশকে স্বীকার করে না। এরা কখনো চাঁদতারা খচিত পাকিস্তানি পতাকার আবেশে, কখনো পাকসারজমিন সাদবাদ জাতীয় সংগীতের মোহে, আবার কখনো ধর্মের আড়ালে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে একই মানসিকতায় সক্রিয় থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই শক্তি আর কতদূর যেতে পারে?
১. স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উৎপত্তি ও মানসিকতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়ানো প্রধান দুটি শক্তি ছিল:- পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের দোসর দেশীয় সহযোগী: রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি।
এরা আদর্শগতভাবে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামকে তারা সরাসরি “পাকিস্তানবিরোধী ষড়যন্ত্র” আখ্যা দিয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের মানসিকতা পরিবর্তিত হয়নি। বরং বংশপরম্পরায়, আবালবৃদ্ধবণিতা সবার ভেতরে তারা সেই বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব বাঁচিয়ে রেখেছে।
২. স্বাধীনতার পর পুনরুত্থান
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মহাদুর্যোগ ডেকে আনে।হত্যাকারীরা সংবিধানের মূল আদর্শ ধ্বংস করে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাষ্ট্রক্ষমতায় পুনর্বাসিত করে।১৯৭৯ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাজাকারদের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে বৈধতা দেয়। ১৯৮০-এর দশকে এরশাদ আমলে পাকিস্তানপন্থীরা সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে। এভাবেই যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল, তারাই ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশ হয়ে ওঠে।
৩. ২০০১–২০০৬: এক অন্ধকার অধ্যায়
২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। এ সময়- মুক্তিযোদ্ধা, সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রভাব বাংলাদেশে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে।
৪. সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
আজও স্বাধীনতাবিরোধী আবালবৃদ্ধবণিতাচক্র নানাভাবে সক্রিয়- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, জাদুঘরে অগ্নিসংযোগ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করছে প্রকাশ্যে। শিক্ষা ও মাদ্রাসার একটি অংশকে ব্যবহার করছে পাকিস্তানপন্থী চিন্তাধারা ছড়াতে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে দুর্বল দেখাতে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করছে।
৫. এরা কতদূর যেতে চায়?
তাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট—
ক. বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস বিকৃত করা।
খ. মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া।
গ. মুক্তিযোদ্ধা ও জাতির পিতার মর্যাদা ধ্বংস করা।
ঘ. ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে পাকিস্তানি আদর্শে ফিরিয়ে নেওয়া।
ঙ. অতঃপর পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলা।
কিন্তু তারা যতদূর যেতে পারবে, তা নির্ভর করছে- রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, জনগণ, বিশেষত তরুণ প্রজন্ম কতটা সচেতন থাকবে, রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কতটা একতাবদ্ধ থাকবে তার ওপর।
৬. ভবিষ্যতের করণীয়
শিক্ষা ও গবেষণা: মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পাঠ্যপুস্তক ও গবেষণাকে সমৃদ্ধ করা।
আইন ও বিচার: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখা এবং নতুন প্রজন্মের অপরাধপ্রবণ কর্মকাণ্ড আইনের আওতায় আনা।
সামাজিক আন্দোলন: সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শক্তিশালী করা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা: যে কোনো সরকারকে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন থেকে বিরত থাকা।
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি থেমে নেই, থেমেও থাকবে না। তাদের উদ্দেশ্য মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রতিশোধ নেয়া, বাংলাদেশের ভিত্তিকে দুর্বল করা, পাকিস্তানি আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুদের শত্রু বানানো। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, শেষ পর্যন্ত বাঙালি জনগণ স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই স্বাধীনতাবিরোধী আবালবৃদ্ধবণিতাচক্র যতদূর যেতে চায়, যাক না, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধপ্রাণ বাঙালি জাতি তাদের প্রতিরোধ করবেই করব।
লেখক : মুক্তিযোদ্ধা লেখক ও গবেষক।
পাঠকের মতামত:
- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: সীমান্ত যখন আস্থার সংকটে
- নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনে ছুরি হামলায় আহত ৫, সন্দেহভাজন আটক
- বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ
- ‘শাবনূর শুধু তারকা নন, হৃদয়ে বেঁচে থাকা মানুষ’
- ছোট কুমারদিয়ায় মহাপুরুষ গনেশ পাগলের ১৫তম বার্ষিক মহোৎসব অনুষ্ঠিত
- কোটালীপাড়ায় চোরাই মাল সন্দেহে তল্লাশি, ট্রলি ব্যাগে মিলল ১০ কেজি গাঁজা
- ভোরে ট্রাক চুরি, দুপুরে ফোন করে টাকা দাবি
- গাছেই নষ্ট হচ্ছে একসময়ের জনপ্রিয় দেশি খেজুর
- বিশ্বকাপের গরম নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ হচ্ছে, দাবি কেইনের
- রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু
- ‘৫৫ বছরে দেশের যাত্রা মসৃণ ছিল না’
- ৭ মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়েছেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক
- হামে মৃত্যুর ঘটনায় ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
- ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি যৌক্তিক হলে বিবেচনা করা হবে’
- ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমিকম্প
- জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ভাষায় বাঙালীরা স্বতন্ত্র
- শুরু হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক: সীমান্তবাসীর নানা আকাঙ্খা
- সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক
- ঘটনার নেপথ্য জানতে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি স্বজনদের
- মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
- টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান জানালা বিনামূল্যের বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ
- সালথায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে জনবল ও ঔষধ সংকট
- সোনাতলায় হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- ফুলপুরে ফিসারিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু
- ঈশ্বরদী ঠাকুরবাড়িতে ৩২ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ মহোৎসব সম্পন্ন
- নীলফামারীতে মহিলা উন্নয়ন ক্লাবের উদ্যোগে শীতার্ত মহিলাদের মাঝে কম্বল বিতরণ
- উপজেলা ছাত্রলীগ নেতার কল রেকর্ড ভাইরাল, রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ
- শ্রীমঙ্গলে জাল টাকা ও ভারতীয় রুপিসহ আটক ১
- নীলফামারীতে কোরবানির পশুর হাটে জমজমাট কেনাবেচা, চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত
- মোশাররফের পর ব্রাত্য বসুর সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী
- শাহরাস্তিতে কলেজ অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত ১০
- শৈলকুপার কানাই-বলাই গ্রুপের লিডার গ্রেফতার, এলাকাবাসীর মিষ্টি বিতরণ
- শ্রীমঙ্গল পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও আলোচনা সভা
- সেই এমবি অভিযান-১০ লঞ্চটির ঝালকাঠি ত্যাগ
- কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে তিন যুবকের মৃত্যু
- নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান
- ‘ভালো মেয়েদের জন্য রঙিন জীবন না’
- ঝালকাঠিতে বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের কর্মবিরতি পালন
- সিলেট বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই-টেলিফোন সেবা চালু
- স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘হুমায়ুন আহমেদ সপ্তাহ’
- ১৯ ডিসেম্বর কাশিয়ানী মুক্ত দিবস
- চাঁদপুরে ইয়েস কার্ড পেল ৪০ সাঁতারু
- দুর্ঘটনার কবলে জামায়াত নেতাকর্মীদের বহনকারী বাস, নিহত ৩
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
- বিজয়ের চারদিন পর চাটমোহর হানাদার মুক্ত হয়
-1.gif)







