E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

জনগণ আমাকে হ্যাটট্রিক জয় উপহার দেবেন : হাজী ছাবের আহমদ

২০২২ মে ১১ ১৫:৫৪:৫৩
জনগণ আমাকে হ্যাটট্রিক জয় উপহার দেবেন : হাজী ছাবের আহমদ

চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী উপজেলার ছোট্ট একটি ইউনিয়ন ‘চরপাথরঘাটা’। চরপাথরঘাটার আয়তন ৬.৪৭ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালে এই ইউনিয়নের ৮ম চেয়ারম্যানের পদে আসীন হয়েছিলেন হাজী ছাবের আহমদ। মূলত তিনি একজন স্বনামখ্যাত ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। ২০১৮ সালে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য তিনি। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হাজী ছাবের আহমদ হ্যাটট্র্রিক জয় নিয়ে আবারও বসতে চান চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ‘টপ সিটে’। বিগত সময়ে করা তাঁর নানা উন্নয়ন, আগামীর পরিকল্পনা এবং সবিনয়ে ব্যর্থতার কথা জানাতে মুখোমুখি হয়েছিলেন উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি জে.জাহেদ

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আপনিও একজন। ২০১৬ সালেও নৌকা পেয়েছিলেন। এবার মাঠে সরকার দলীয় অনেক প্রার্থীর নাম শুনছি। এদের মধ্যে আপনি কতটা নিজেকে যোগ্যপ্রার্থী বলে মনে করেন?

হাজী ছাবের আহমদ : ‘আমার শক্তি জনগণ। জনগণ ছাড়া আমার মুখের কথা বললে হবে না। আশাকরি চরপাথরঘাটার সাধারণ কেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে এলাকার ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষ আমার পক্ষে রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে আমি যে উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেছি। সে ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আমাকেই চাইবেন। সে প্রত্যাশা আমার রয়েছে। জনগণের কাতারে আমি অন্যান্য প্রার্থীদের থেকে যোগ্য এবং এগিয়ে রয়েছি বলে মনে করি।’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :চরপাথরঘাটায় গত দুবারের নির্বাচত চেয়ারম্যান আপনি? গত ১০ বছরে জনগণের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছেন?

হাজী ছাবের আহমদ : ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা বর্তমান সরকার সারাদেশের অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নকে বেশি মূল্যায়ন করেছেন বলে আমি মনেকরি। বর্তমান সময়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে যে পরিমাণ বরাদ্দ পাচ্ছি কিংবা সরকার সাধারণ মানুষের সেবায় যে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন তা অকল্পনীয়। যদিও আমার প্রথম নির্বাচিত পরিষদে ৩০ লক্ষ টাকার ঘাটতি ছিল। এবারও আমার ৪০ লক্ষ টাকার মতো ঘাটতি আছে। যা পরিষদের সচিব ও হিসাব রক্ষকের কাছে রয়েছে। জনগণের চাহিদা মতো উন্নয়ন করতে গিয়ে এসব হয়ে থাকে। এছাড়াও, আমি ব্যক্তিগত ভাবেও অনেক সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি। যেভাবেই হোক আমি পুরো ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এতেই বলতে পারি, ইছানগর-খোয়ানগরের দুটি কাঁচা রাস্তা ব্যতিত বলতে গেলে জনগণের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ করতে পেরেছি।’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন কিনা? আর মনোনয়নের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী? কেননা অনেক প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে।

হাজী ছাবের আহমদ : ‘এখন যারা মনোনয়নের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করতেছে আমার মনেহয় চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করার মতো তাদের কোন যোগ্যতাই নেই। চরপাথরঘাটার জনগণ কখনো ভুল করে না। অতীত ইতিহাস দেখলে আপনারা বিষয়টি স্পষ্ট হবেন। বাতাসে অনেক কথা শোনা যায়। বাস্তবতা হয় কিন্তু ভিন্ন। সাধারণ মানুষ কখনো ভুল করে না। আশাকরি এবারও আমার এলাকার মানুষ ভুল করবে না।’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :চরপাথরঘাটায় এর আগে ব্যালটে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ভোটারদের। এবার ইভিএমে ভোট হবে, এটা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? জনগণই বা কি ভাবছেন?

হাজী ছাবের আহমদ : ‘এটা নিয়ে আমাদের উপজেলা নির্বাচন অফিসার তথা রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। ওরা এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে জনগণকে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেবেন। ইভিএমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন। আমিও মনে করি ইভিএম ভালো হবে। আশাকরি জনগণও বিষয়টিতে একমত হবেন।’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :গত দু’বারের মতো জনগণ কী এবারও আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন? এর কারণ কি হতে পারে?

হাজী ছাবের আহমদ : ‘২০১১ সালে আমি প্রথম নির্বাচিত হবার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য (প্রয়াত) আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভাইয়ের দেয়া ৫৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দ ও আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৫ লক্ষ টাকার বাজেটে বর্তমান সৈন্যেরটেক সেতু বাস্তবায়নে ৭০ লক্ষ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম। যা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এটা কখনো কোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাস্তবায়ন করার সাহস করত বলে আমি মনে করি না। এত বড় বাজেটের কাজ সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। খুব কঠিন হয়ে যায়। তারপরেও জনগণের স্বার্থে বাবু ভাইয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমি কাজটি সফল করেছি। এরপরে ৩০ লক্ষ টাকার বরাদ্দেও ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্প করেছি। নিশ্চয় জনগণ এসব মনে রাখবেন। তাই আমি এবারও আশাবাদী জনগণ আমাকে হ্যাটট্রিক জয় উপহার দেবেন।’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :বিগত সময়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে নিজ এলাকার সমস্যা কতটুকু চিহ্নিত করতে পেরেছেন এবং সমাধান কতটুকু করতে পেরেছেন? সামনের পরিকল্পনায় কী কী রয়েছে?

হাজী ছাবের আহমদ : ‘পরিষদের ১২ সদস্যদের সবার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো। যেমন ১% থেকে কোন সময় ২০ লাখ টাকার বরাদ্দ আসলে। আমি সব ওয়ার্ডের সদস্যদের ডেকে সমভাবে বন্টন করে সমন্বয় রেখে কাজ করেছি। কারো সাথে বৈষম্যপূর্ণ আচরণ করিনি। আশাকরি ভোটের মাঠে তাঁরাও আমার জন্য চেষ্টা করবেন। আর এলাকার সমস্যা চিহ্নিত বলতে, আমার এখনো বাকি রয়েছে ইছানগরের হাজী মনির আহম্মদ সড়কটি। উপজেলা থেকে আমাকে বারবার আশ্বাস দিয়ে আসছেন এই সড়কটি এলজিইডি করবেন। কেননা ৪০/৫০ লাখ টাকার প্রকল্প। যদিও আমি চেয়েছিলাম পরিষদ থেকে ধাপে ধাপে বরাদ্দ দিয়ে কাজটি করতে। কিন্তু উপজেলার আশ্বাস আর নানা বিড়ম্বনায় এখনো করতে পারিনি। তবে এবার যদি উপজেলা থেকে নাও করে আমি পরিষদ থেকে ঝুঁকি নিয়ে হলেও রাস্তাটি করে দেব। কথা দিলাম। যেভাবে করেছি আইকেসি সড়কের শেষ অংশ ব্রিকফিল্ড এর পাশে ইসমাঈল হাজীর বাড়ির সামনের সড়কটি।’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :চরপাথরঘাটার মানুষের জন্ম নিবন্ধন নিয়ে নানা অভিযোগ শোনা যায়। বিভিন্ন সময়ে লেখালেখীও হয়েছে। জনগণের এ অভিযোগ আদৌও সত্য কিনা? যদিও সত্য হয় তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে কেন পারেননি?

হাজী ছাবের আহমদ : ‘এ প্রশ্নটা করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। নানা কারণে এই সেবাটি জনগণকে পুরোপুরি আমরা দিতে পারিনি তা সত্য। তবে সার্ভার সমস্যা ও কানেকশন সঠিক সময়ে না পাওয়ায় জনগণকে যথাযথ সেবাটি চাহিদা মতো দিতে পারিনি। সামনে চেষ্টা থাকবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের।’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ : কেন জনগণ আপনাকে আবারো তৃতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে বলে প্রত্যাশা করেন?

হাজী ছাবের আহমদ : ‘বিগত সময়ে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে আরো ৭ জন চেয়ারম্যান ছিলেন। এদের সময়ের চেয়ে আমি চেয়ারম্যান থাকাকালিন সময়ে জনগণ অনেক শান্তিতে রয়েছে বলে আমি মনেকরি। একটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানে ৯টি ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল কেউ। চেয়ারম্যান ব্যক্তিটা হলেন সবার জন্য। আমি নিরপেক্ষ ও সজাগ থাকায় আমার ইউনিয়নে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চুরি, ডাকাতি, ভূমিদস্যু করতে পারেনি। আমি যতটুকু সম্ভব সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি ঝগড়া বিবাদ ও জমিজামার সমস্যা গ্রাম্যসালিশে সমাধান করতে। না পারলে আইনের পরামর্শ নিতে বলে দিয়েছি। কাউকে হয়রানি করিনি।’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :ভোটের আগে অনেক চেয়ারম্যান বা নেতা নির্বাচিত হবার পরে তাদের জায়গা থেকে সরে আসেন। যেমন গত নির্বাচনে জলাবদ্ধতা নিরসনে আপনার প্রতিশ্রুতি ছিলো, তা করতে পারেনি! কেন এই জায়গায় ব্যর্থ হলেন?

হাজী ছাবের আহমদ : ‘জলাবদ্ধতার নিরসনের জন্য আমি রাস্তা করার সময় বারবার মেম্বার ও স্থানীয় লোকজনকে বলেছি ১০/১২ ফুট প্রশস্ত রাখার জন্য। জলবদ্ধতা আগেও ছিলো এখনো রয়েছে। সেটা অস্বীকার করব না। যেহেতু জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আগামীতে আমি চেষ্টা করব জলাবদ্ধতা নিরসনের। মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেব। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করব। এখনো আমার বাড়ি থেকে চরপাথরঘাটার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানি সরববরাহ করছেন। ১৩ বছর যাবৎ প্রতি রমজানে ৫০ হাজার মানুষকে ৬০ লক্ষ টাকার খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করে আসছি। করোনাকালেও ভূমিকা রেখেছি। আগামীতেও এটা অব্যাহত থাকবে। এমনকি আপনারা জানেন, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আগামীতে একটি মহিলা মাদরাসা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কিছুই শুধু আমার এলাকার জনগণের জন্য।

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ :আমাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

হাজী ছাবের আহমদ : আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

(জেজে/এসপি/মে ১১, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

২৪ মে ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test