ঈশ্বরদীর গণকবর ও বধ্যভূমি সংরক্ষণে নেই উদ্যোগ
স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদী : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য গণকবর ও বধ্যভূমি। স্বাধীনতার ৫৩ বছর কেটে গেলেও বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণে নেই কোন উদ্যোগ। নেই শহীদদের তালিকা, পরিবারগুলো পায়নি শহীদ পরিবারের মর্যাদা।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় বিহারীরা ঈশ্বরদী দখলের দু’দিন পর ১৩ এপ্রিল সকালে কর্মকার পাড়ায় চন্দ্রকান্ত পালের পরিবারে ওপর হামলা করে। চন্দ্রকান্ত পাল, তাঁর ২ পুত্র, ২ পুত্রবধু, ৬ নাতি-নাতনী ও একজন দোকান কর্মচারীসহ ১২ জনকে কুপিয়ে হত্যা করে। সকলকে বাড়ির কুয়ার মধ্যে ফেলে গণকবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্য মাধব পাল শহীদ পরিবারের মর্যাদার দাবী জানিয়েছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ঈশ্বরদীতে ঘটেছে নির্মম নৃশংস ঘটনা। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেসময়ে প্রায় ২০ হাজার অবাঙালি (বিহারী) এখানে বাস করতেন। এদের অত্যাচারে বাঙালিরা শহরে যাতায়াত করতে পারতেন না। শহরে বাঙালি পেলেই ধরে নিয়ে হত্যা করা হতো।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, চিহ্নিত বধ্যভূমি ও গণকবর রয়েছে প্রায় ৩০টি। বধ্যভূমির বাইরেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য গণকবর। গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো এখন অযত্ম, অবহেলা আর দৃষ্টিসীমার বাইরে। এসব স্থান ঘাস, ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ, পরিণত হয়েছে গোচারণ ভূমিতে। বসতবাড়িও নির্মাণ হয়েছে। স্বজন হারানো শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাবি, বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করে স্মৃতিফলক নির্মাণের। পাশাপাশি রাষ্ট্রিয়ভাবে শহীদ পরিবারের মর্যাদা। আগামী প্রজন্ম যেন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমী মানুষের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে।
একাত্তরের ১১ এপ্রিল পাকসেনাদের আগমনের কথা ছড়িয়ে পড়লে কিছু মানুষ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আশ্রয় নেয়। তাঁরা ভেবেছিলো মুসলিম তাই মসজিদে হামলা হবে না। কিন্তু হানাদার বাহিনী বাঙালি নিধনে মসজিদেও হানা দেয়। ১২ থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে মসজিদে আশ্রয় নেয়া ১৯ জনকে প্রেসক্লাব সংলগ্ন কয়লা ডিপোতে নৃশংসভাবে হত্যা করে। আশপাশের মহল্লা থেকে বাঙালীদের ধরে এনে এখানে হত্যা করে গণকবর দেয়।
পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালের ডাঃ রফিক আহমেদকে ৩ ছেলেসহ পরিবারের ৫ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১২ এপ্রিল পাকশীতে রেলের বাসায় নারকীয় গণহত্যা চালায় বিহারী ও হানাদার বাহিনী। পাকশীতে পানির ট্যাঙ্কির নিকট রাস্তার পাশে এদের সমাহিত করা হয় গণকবরে। হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নিচে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়। পাকশী পেপার মিল, অফিসার্স মেস ও হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পুলিশ ফাঁড়িতে ক্যাম্প করেছিল পাক বাহিনী। ক্যাম্পে বন্দীদের হত্যা করে হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নিচে পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো। পাকশী রেলস্টেশনের বাম দিকের জঙ্গলে ফেলা হয় বহু লাশ। পরবর্তীকালে এটিকে গণকবর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অবাঙালীদের সহয়তায় লতিফ, আঁতু ও নান্নু তিন সহোদরকে পাকশী রেলকলোনীর ভেতরে হত্যা করে। পড়ে সুইপাররা কলোনীর মধ্যেই গর্ত করে মাটি চাপা দেয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ বাঙালিরা ঈশ্বরদী রেল জংশন দিয়ে ট্রেনযোগে যাতায়াত করতো। বিহারিরা ট্রেনে আগত যাত্রীদের ধরে নিয়ে জবাই ও গুলি করে হত্যা করতো। রেলের ফাঁকা জায়গায় অসংখ্য বাঙালিদের হত্যার পর অবাঙালি ও রাজাকারেরা মাটির নিচে চাঁপা দিয়ে রাখতো। শহরের আলহাজ্ব মিলের পেছনের কাশবনে প্রায় দুই শতাধিক নর-নারীকে হত্যা করে। আজও এ বধ্যভূমি ও গণকবর শনাক্ত করা হয়নি। ২৩ এপ্রিল পাকসেনারা বাঘইল পশ্চিমপাড়ার একটি বাড়িতে ২৩ জন নর-নারীকে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। গ্রামবাসী পরে লাশগুলো একটি বিশাল গর্ত করে পুঁতে ফেলে।
ফতেহমোহাম্মদপুর লোকসেড এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ছত্রছায়ায় বিহারীরা ১২ ও ১৩ এপ্রিল অসংখ্য বাঙালিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। আজিজুল গনি, আব্দুল বারীসহ প্রায় ৩০-৩৫ জন এখানে শহীদ হন। ফতেমোহাম্মদপুর রেলওয়ে কলোনি অর্থাৎ লোকোসেড পাম্প হাউজ স্টেশনে একটি বধ্যভূমি রয়েছে। গুলির পরিবর্তে এখানে ধারালো তরবারি বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। রেলওয়ের এ পরিত্যাক্ত পাম্প হাউজে কত বাঙালিকে যে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।
লোকসেডের উত্তর পাশে বর্তমান পানির ট্যাংকির পেছনে খেলার মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে ছোট বটগাছের নিচে রয়েছে একটি গণকবর। অথচ কবর বাঁধানো এমনকি নামফলক বা স্মৃতিচিহ্ন নেই, যা দেখে মানুষ বুঝতে পারবে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বাঙালিরা এখানে ঘুমিয়ে আছে। নুরমহল্লার খেলার মাঠের উত্তর কোণে রয়েছে একটি গণকবর। এখানে ১০-১২ জন শহীদ ঘুমিয়ে আছেন। মাজদিয়া মাদ্রাসা পাড়ার একটি স্থানে অসংখ্য নিরীহ বাঙালীকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়। এলাকাটি এখনও জামায়াত অধ্যুষিত বলে এই গণকবরগুলো চিহ্নিত করা হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল জানান, মুক্তিযুদ্ধে ২৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য বাঙালি শহীদ হন। এখনও শহীদদের কবর ও বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি। ১৬ ডিসেম্বর আর ২৬ মার্চ এলে রণাঙ্গনে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলোতে আমরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু তাদের কবরগুলোও রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরণ করা হয়নি। রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি, অতিশীঘ্র মুক্তিযোদ্ধাদের কবর ও শহীদদের গণকবরগুলো চিহিৃত করে সংরণ এবং স্মৃতিফলক নির্মাণ। যাতে আগামী প্রজন্ম জানতে পারে গণকবরগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগী শহীদদের।
শহীদ হওয়া মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা তহুরুল আলম মোল্লা জানান, পাকসেনা, রাজাকার ও বিহারীরা ১৭ এপ্রিল মসজিদে আশ্রয় নেয়া তাঁর পিতা মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বহু মুসল্লিকে ধরে এনে প্রেসকাবের পাশে কয়লা ডিপোর কাছে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, লেখক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদদের কবর চিহ্নিত ও সংরণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে এসব বধ্যভূমি, গণকবর সংরণ ও নামফলক নির্মাণ অত্যাবশ্যকীয়।
(এসকেকে/এসপি/ডিসেম্বর ১২, ২০২৩)
পাঠকের মতামত:
- বরিশালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ বাক্য পাঠ
- বরিশালের অদম্য নারীরা পেল সম্মাননা
- সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পাবনার বিএনপি প্রার্থী শিমুল বিশ্বাস ও হাবিবুর রহমান হাবিব
- জলদস্যুদের দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত আট জেলে
- রাশেদ খাঁনকে মুখে লাগাম দেওয়ার হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা মুকুলের
- নিরপেক্ষ দেশের পতাকা উড়িয়ে পাকবাহিনী পালাবার পথে ধরা পড়ে
- বাংলাদেশে কি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সম্ভব?
- ঈশ্বরগঞ্জে রোকেয়া দিবস পালিত
- দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নেই : মোমিন মেহেদী
- প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে ডাক্তারের আত্মহত্যা
- দৈনিক নওরোজ শামসুল হক দুররানীর মুক্তির দাবিতে দিনাজপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ
- ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কাজ কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ’
- ‘বিজিবি প্রতিকূল পরিবেশেও দেশের সীমান্ত রক্ষায় কাজ করছে’
- নানা আয়োজনে সোনাতলায় বেগম রোকেয়া দিবস পালিত
- সালথায় সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময়
- ফুলপুর হানাদার মুক্ত দিবসে বর্ণাঢ্য র্যালি
- গোপালগঞ্জে এক রাতে দু’টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি
- মার্চ মাস থেকে পাবনা–ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু
- বড়দিন উপলক্ষে এমিরেটসের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন
- মামদানির জননিরাপত্তা ট্রানজিশন টিমে সশস্ত্র ডাকাত নিয়োগ
- বাড়ির দরজায় আসা আইসিই এজেন্টদের প্রতিরোধের উপায় জানালেন মেয়র মামদানি
- মহম্মদপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
- সালথায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত
- ভৈরবে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৩০
- নির্বাচনের সুবাতাস এবং নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন
- ভোলায় ১৩ জেলে নিয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ৮
- কক্সবাজারে পাহাড় ধসে শিশুসহ ৪ মৃত্যু
- ‘ক্ষমতা ছেড়ে দিন, এক বছরের মধ্যে পরিবর্তন করে দেবো’
- পঞ্চগড়ে ভাষা সৈনিক সুলতান বইমেলায় নতুন তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
- বই পড়ার অভ্যাসে তলানিতে বাংলাদেশ, বছরে পড়ে ৩টিরও কম
- চুয়াডাঙ্গায় দুই আলমসাধুর মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত
- আবদুল হামিদ মাহবুব'র একগুচ্ছ লিমেরিক
- বরগুনায় আওয়ামীলীগের ২৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা
- একদিনে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু
- সিলেটে কমছে বন্যার পানি, দেখা মিলেছে রোদের
- নোয়াখালীর বানভাসিদের পাশে শরীয়তপুরের শিক্ষার্থীরা
- শেখ হাসিনার সাথে মুঠোফোনে কথা বলায় গ্রেফতার আ.নেতা জাহাঙ্গীর
- মহম্মদপুরে শহীদ আবীর পাঠাগারসহ মুক্তিযোদ্ধাদের স্থাপনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি
- উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুবককে জবাই করে হত্যা
- সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই
- অনলাইন সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল ‘চট্টগ্রাম জার্নাল’
- নবীনগরে একই পরিবারের চারজনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
- অমলকান্তি
- 'নির্লজ্জ বেহায়া হতেই কী আমরা তোমাকে খুন করেছি কিংবা তোমাকে রক্ষা করিনি?'
- 'তোমার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম যে ব্যক্তিটি খুনি মোশতাককে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, তিনি মাওলানা হামিদ খান ভাসানী, যাকে তুমি পিতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে'
-1.gif)








