সিন্ডিকেট দেশটার সর্বনাশ করে দিচ্ছে
মীর আব্দুল আলীম
বাজারে খাদ্যপণ্যের দাবদাহ কমেনি বরং আগষ্ট সেপ্টেম্বরে আরো বেড়েছে। গত মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২.৫৪ শতাংশ। যা বিগত বছরে কখনও হয়নি। এর আগের মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২.৭৮ শতাংশ। বাজারে বেশ প্রভাব পড়েছে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতিতে। বিশ্বজুড়েই মূল্যস্ফতি চলছে। তবে অনেক দেশেই তা এখন নিন্মমুখী। বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ছেই।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ০২ শতাংশ। গত আগ(২০২৩) মাসে তা ১২.৫৪। পাশের দেশ ভারতে গত জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭.৪৪ শতাংশ, যা আগস্টে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতির হার চলতি বছরের জুলাইয়ে ৬.৩ শতাংশ। অন্য এক সূত্রে জানা যায়, আগস্টে এ হার ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুনে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময় ছিল ৮.৫৬ শতাংশ। থাইল্যান্ডে মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের কিছু উপরে আটকে রাখতে সক্ষম হয় থাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৩ সাল শেষে থাইল্যান্ডে মূল্যস্ফীতির হার আড়াই শতাংশে আটকে রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আর আমাদের মুদ্রাস্ফিতির হার এতো দুরে সরে যাচ্ছে কেন? বছরওয়ারি হিসাবে এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। যা কি না ১২.৫৪ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির চাপে আছে সাধারণ মানুষ। যতটা পণ্যমূল্য হওয়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি পণ্যম্যূ বেড়েছে বাংলাদেশে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানি খরচ বাড়ে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা। নানা কারণ থাকলেও পণ্যের দাম লাফিয়ে বেড়ে ওঠার প্রধান কারন সিন্ডিকেট। সরকারের পক্ষ থেকেও সেটা স্বীকার করা হচ্ছে। সুযোগ সন্ধানী ব্যাবসায়ীদের কথা বরাবরই বলা হলেও সরকার কেন তাদের রোধ করতে পাছেনা। প্রশ্ন হলো সিন্ডিকেটওয়ালারা কী দেশ চালায়? তারা কী সরকারের চেয়েও ক্ষমতাধর?
এতো উন্নয়নের পরও সিন্ডিকেট দেশটার সর্বনাশ করে দিচ্ছে। দেশে নিত্যপণ্যের উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। বাজার ও গুদামে পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য এক বা একাধিক পণ্য টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। পরে এ দাম আর তেমন একটা কমছে না। অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম বাড়িয়ে ভোক্তাকে নাজেহাল করা হচ্ছে। আবার চাল নিয়ে করা হচ্ছে চালবাজি। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজি, আদা-রসুন, মাছ-মাংস, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে জিম্মি করা হচ্ছে। বছরের পর বছর এমন অবস্থা চললেও সরকারের একাধিক সংস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। শুধু হাঁকডাকের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে।
আমরা জানি, এসব পরিস্থিতি থেকে ভোক্তাকে রক্ষা করতে সরকারের একাধিক বাজার তদারকি সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি সেল, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কৃষি মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বিএসটিআই, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, র্যাবসহ সরকারের অন্যসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এছাড়া এসব সংস্থা নিজস্ব আইনে বাজার তদারকি করছে। তারপরও বাজারে কোনো ধরনের শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হয়নি। তাহলে কি গোড়ায় গলদ? এদেশের সিন্ডিকেটওয়ালারা বড়ই প্রভাবশালী।
সরকারের লোকজনের সাথে তাঁদের সখ্যতা অনেক। তাই হয়তো তাঁদের রোধ করা যায় না কিংব রোধ করা হয় না। এদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা চাইলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে পারে বা পণ্যের সরবরাহ কমাতে পারে। কৌশল করে তারা দাম কমাতে পারে, আবার বাড়াতেও পারে। এখানে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
দেশের একটি দৈনিকের দেখলাম, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি বলেছেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে বছরের পর বছর ভোক্তারা ঠকছেন। সংস্থাগুলো জানে কে বা কারা পণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করছে। একাধিক বার তারা সেটা চিহ্নিত করেছে। কিন্তু অসাধুদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছে না। পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণসহ বাজারে সঠিক পণ্যটি সঠিক দামে বিক্রি হচ্ছে কি না তা দেখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ভেজাল খাদ্য রোধে মনিটরিং করতে হবে। বিএসটিআই অনুমোদিত পণ্য বিক্রি হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনতে হবে। পণ্যমূল্য সহনীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পণ্যের সঠিক চাহিদা জানতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। তা না হলে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে পণ্যের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে দাম বাড়বে। ব্যবসায়ীরা লাভ করবে, তবে ডাকাতি করতে পারবে না। আমাদের দেশে সুযোগ পেলেই ডাকাতি করে ভোক্তাকে নাজেহাল করে।
পুরোপুরি সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে গেছে দেশের ভোজ্যতেল, চাল, পিয়াজসহ নিত্য পণ্যের বাজার। ব্যবসায়ীরা একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। চেষ্টা করলেও কিছুতেই তা সরকার নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছে না। সরকার সংশ্লিষ্টদের হম্বিতম্বি কোনই কাজে আসছে না। শুধু চাল তেল নয় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পিয়াজ সব কিছুর দাম
এখন উর্দ্ধে। তাতে উচ্চবিত্তদের কোন সমস্যা নেই। মধ্যবিত্ত আর গরিবের হয়েছে যত জ¦ালা। সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি। তা কি বাস্তবায়ন হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আমি রাজধানীর বাজার থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে আলু কিনিছি। সরকারের সেই দামও কার্যকর হয়নি। চলতি বছরের মার্চে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩০ টাকা। মে মাসে তা বেড়ে হলো ৫৫/৬০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ টাকায়। পরে সরকার নির্ধারণ করে দেয় ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা। কিন্তু বাজরে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। জানুয়ারিতে প্রতি পিস ডিমের দাম ছিল ১০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ছিল সর্বোচ্চ ১৪ টাকা। সরকার নির্ধারণ করে ১২ টাকা। কিন্তু বাজারে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩/১৪ টাকায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে খোলা চিনির কেজি ছিল ৮৫/৯০ টাকা। সেপ্টেম্বরে তা ১৫৫ টাকা। সরকার সর্বশেষ কেজিতে চিনির দাম নির্ধারণ করে ১৩০ টাকা। কিন্তু সেই দামও মানাছে না কেউ।
যারা চাকুরী করেন তারা গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, সন্তানের শিক্ষা ব্যায় বৃদ্ধিসহ নিত্যপন্যেরর আকাশ ছোঁয়া উচ্চ মূল্যের নিস্পেষনে আছেন। যারা ব্যবসা বাণিজ্য করেন তাদের অনেকেরই ব্যবসা এখন আগের গতি নেই। উৎপাদন, বেচাকেনা কমে গেছে। ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা, গার্মেন্টস, শিল্পকারখানা একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়া, আমজনতার নিত্য টানাপোড়েন, সড়ক মৃত্যু, ধর্ষণ, গুম, খুনসহ নানা কারনে দেশের মানুষ সুখে নেই; শান্তিতে নেই।
গত ৫ বছরে জাতীয় পর্যায়ে পারিবারিক আয় বেড়েছে ৫৯ শতাংশ, আর খরচ বেড়েছে ৮৪.৫ শতাংশ। পারিবারিক ভোগ-ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি প্রায় ৫৫ শতাংশ জুড়ে রয়েছে খাদ্য। সবচেয়ে কম আয়ের পরিবারে খাদ্যের পেছনে খরচ হয় ৭২ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি আয়ের পরিবারে খাদ্যবহির্ভূত খাতে খরচ ৫৯ শতাংশ। যেসব পরিবারের আয় মাঝামাঝি পর্যায়ে, খাদ্যের পেছনে মোট সংসার খরচের ৬১ থেকে ৬৫ শতাংশ ব্যয় হয় তাদের। সবচেয়ে বেশি দরিদ্র পরিবারের সঙ্গে সমাজের উঁচু স্তরের মানুষের আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। তবে পাঁচ বছরে দরিদ্র্র পরিবারের আয় খানিকটা বাড়লেও ধনীদের আয় কমেছে বলে এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা নানা ফন্দি ফিকিরসহ ডলারের দাম বাড়ার অজুহাতে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে তাঁর মুনাফা ঠিক রাখতে পারেন। রিকশাওয়ালারা চালের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে নিতে পারেন। কিন্তু চাকরিজীবী তাঁদের বেতন চাইলেই বাড়াতে পারেন না। একটি পদের পেছনে যেখানে হাজার হাজার আবেদনপত্র পড়ে, সেখানে এক চাকরি ছেড়ে অন্য চাকরিতে ঢোকার সুযোগও নেই। ফলে একটু ভালো করে বাঁচার আশাটি আর তাঁদের পূরণ হচ্ছে না। ঢাকা মহানগরীতে সীমিত আয়ের মানুষের বসবাসের অর্থ দাঁড়িয়েছে ‘শুধু বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকা। এসব মানুষের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা আবাসন।
একসময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের নিশ্চয়তা ছিল। এখন তাঁদের অর্ধেকেরও সেই সুযোগ নেই। বেসরকারি খাতের ব্যাপক প্রসারের সঙ্গে ঢাকায় যে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে, নিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্যও আবাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে শ্রমিক-কর্মচারী থেকে শুরু করে পদস্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সর্বস্তরের চাকুরের নিজের থাকার ব্যবস্থা নিজেরই করতে হয়। উচ্চ আয়ের মানুষজন যেখানে প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার চেষ্টা করছে, মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষজন তেমনি সাধ্যের মধ্যে ভাড়া বাসা খুঁজছে। চাহিদা বাড়ার কারণে বল্গাহীনভাবে বেড়ে চলেছে বাসা ভাড়া, জমি ও ফ্ল্যাটের দাম। আবাসনের তীব্র সংকটের কারণে মানুষের আয়ের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে বাড়ি ভাড়া, জমি বা ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধ বা এ বাবদ নেওয়া উচ্চ সুদে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে।
আবাসন সুবিধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাকরির শর্তের মধ্যেই রয়েছে। তবে অপ্রতুল জোগানের কারণে সবাই এ সুযোগ পান না। ব্রিটিশ আমলে নতুন একটি থানা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে পুলিশদের থাকার ব্যবস্থা করা হতো। থানার লাগোয়া কোয়ার্টার থাকত। আগে ঢাকা শহরে থানা ছিল ৯টি, এখন ৪৭। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা নেই। ঢাকায় সব শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট রয়েছে ১২ হাজার ৪৫০টি, যা চাহিদার মাত্র ৭ শতাংশ। ৯৭ ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই নিজেদের উদ্যোগে থাকার ব্যবস্থা করতে হয়। তাদের বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া যা দেওয়া হয় সে টাকায় ঢাকায় বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না।
দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়েছে, কম দামের সরকারি চাল ও আটা কিনতে পারছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকে রেশন পাচ্ছেন। কিন্তু কোনো রকম সুবিধাহীন ঢাকার মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট শুধুই বেড়েছে। গ্রামে ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকায় যানজট, পানিহীনতা, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট, লোডশেডিং, ভেজাল খাবারসহ নানা
কষ্টের মধ্যেও ঢাকায় পড়ে আছেন তাঁরা। প্রথম শ্রেণীর সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তার চাকরি যে বেকারদের কাছে ব্যাপক আকর্ষণীয় তা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু বেতনটা মোটেও আকর্ষণীয় নয়। কারণ, বর্তমান আক্রার বাজারে মাসশেষে বেতনের ১৬ হাজার টাকায় অন্তত ঢাকায় সংসার চালানো সম্ভব নয়। তার ওপর বছরশেষে যেখানে বার্ষিক বেতন
বৃদ্ধি হয় মাত্র সাড়ে সাত শ টাকার মতো। শতকরা হিসাব করলে দেখা যায়, বছর শেষে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন পাঁচ শতাংশেরও কম বাড়ে। কিন্তু কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) হিসাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বাড়তি ব্যায় সামাল দিতে পাছেনা সাধারন আয়ের মানুষ। বাজার করতে গেলে বাড়ি ভাড়া থাকে না, সন্তানের শিক্ষার ব্যায়
মিটাতে পারেনা। অনেকে বাধ্য হয়ে উচ্চ সুতে ঋণ নিয়ে তা শোধ করতে পারছেন না।
নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা রিকশা বা অটোরিকশা চালান, তাঁরা তাদের মতো করে আয় বাড়িয়ে নিচ্ছেন। তবে তারাও ভালো নেই। আয় কমলেও উচ্চ আয়ের মানুষদের সমস্যা হচ্ছে কম। বেশী বিপদে রয়েছেন শুধু সনাতনি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ, যাদের জীবনবোধ ভিন্ন। তাদের মাসিক আয়ের ৬০ ভাগ চলে যায় বাড়িভাড়া, আর ২০ ভাগ খাবারে। দুই বাচ্চার পড়াশোনা আর স্কুলে যাতায়াতে খরচ হয় আয়ের ১০-১৫ ভাগ। তারপর রয়েছে চিকিৎসা।
মানুষের একদিকে বাসস্থান সমস্যা প্রকট, অন্য দিকে পারিবারিক ব্যয় বহুগুণে বেড়ে যাওয়ায় মহা সংকটে পরেছে। জনগনের কথা মাথায় রেখে যে কোন মূল্যে পণ্য মূল্যসহ অন্যান্য ব্যয় যাতে কমে সেদিকে সরকারের নজরদারীর বিকল্প নেই। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপই পারে এ ক্ষেত্রে সফলতা এনে দিতে। বাজার তদারকিসহ সকল ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুলো সদাই সজাগ থাকতে
হবে।
লেখক : মহাসচিব, কলামিস্ট ফোরাম অফ বাংলাদেশ, সাংবাদিক ও সমাজ গবেষক।
পাঠকের মতামত:
- ব্যাটারদের ব্যর্থতা, বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ
- ‘বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ’
- মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় ৩ পথশিশুর মৃত্যু
- ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ প্রধানমন্ত্রীর
- ‘ভিসানীতি-নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করে না আওয়ামী লীগ’
- বাংলাদেশসহ ৩১ দেশকে রুশ মুদ্রায় লেনদেনের অনুমতি
- ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৯০০ ছুঁই ছুঁই
- নোয়াখালী প্রেসক্লাব নির্বাচন, বখতিয়ার সভাপতি, মঞ্জু সম্পাদক
- আমেরিকা যাদের বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন হয়না
- জাতির পিতার সমাধিতে বিচারপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের শ্রদ্ধা
- ফরিদপুরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ৭ দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচি
- রাজবাড়ীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গৃহবধূর অনশন
- নির্বাচনে অংশ নেবেন কাদের সিদ্দিকী
- ‘দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে না চাইলে আবারও নৌকায় ভোট দিন’
- সাভারে সাস’র উদ্যোগে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ
- ফরিদপুরে উইমেন কমিউনিটি ষ্টোর সদাইপাতি’র উদ্বোধন
- বাংলাদেশকে ২৫৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে অলআউট নিউজিল্যান্ড
- ওয়ালটনের নতুন চমক সিঙ্গেল ডোরের অলরাউন্ডার মডেলের ফ্রিজ
- বরিশালের আড়তগুলো আলু শূন্য
- বিএনপির রোড মার্চে যাওয়ার পথে হামলায় ৭ জন আহত
- দিনাজপুরে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নয়া কমিটি
- টাঙ্গাইলে এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বেশি গম্বুজ মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ
- ফরিদপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের সুধী সমাবেশ
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইমামদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : মাশরাফি
- চাটমোহর প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
- খুনি জিয়ার মরণোত্তর বিচারের দাবি মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর
- চাটমোহরে অবৈধ সোঁতি বাঁধ অপসারণ
- সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা করে কী বার্তা দিতে চায় বিএনপি?
- ঢাকাস্থ নবীনগর উপজেলা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ
- ময়মনসিংহে উগ্রবাদ মোকাবেলায় করণীয় শীর্ষক কর্মী সম্মেলন
- রোহিঙ্গাদের কাজের সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশের ওপর চাপ
- মাগুরায় ডিবি পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ১
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে: রাষ্ট্রপতি
- ‘আমরা আমাদের আভ্যন্তরীন ইস্যুতে বাইরের কোন হস্তক্ষেপ চাই না’
- ‘শেখ হাসিনা একজন শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী’
- মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের
- সৌদির অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে
- ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে লাশ হয়ে ফিরলো অটো চালক মিলন
- আমেরিকা নির্দিষ্ট কোনো দলকে স্যাংশন দিচ্ছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- চকরিয়ায় শেখ হাসিনা বই মেলা শুরু হচ্ছে কাল
- ‘আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে’
- রাখিকে ডাইনি বললেন তনুশ্রী দত্ত
- সিঙ্গেলদের যত সুবিধা
- মোবাইল ফোন আসক্তি কমাবেন যেভাবে
- অক্টোবরকে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস ঘোষণার দাবি এনসিসির
- ‘অক্টোবরে এ সরকারের সঙ্গে দেনা-পাওনার সব মীমাংসা হয়ে যাবে’
- আর্জেন্টিনার জালে জাপানের ৮ গোল
- ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন
- অভিষেকে প্রথম ওভারেই উইকেট খালেদের
- বোয়ালমারীতে যুবলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার
- জেনে নিন কে এই 'প্রিন্স ড. মুসা বিন শমসের' !
- জেনে নিন কে এই 'প্রিন্স ড. মুসা বিন শমসের' !
- এবারও মেডিকেল ভর্তি কোচিংয়ের ফাঁদে শিক্ষার্থীরা
- এবারও মেডিকেল ভর্তি কোচিংয়ের ফাঁদে শিক্ষার্থীরা
- সিলেটের ভ্রমণ কাহিনী
- শুধু প্রভাবশালীদের পক্ষেই আইন!
- অম্ল-মধুর যন্ত্রণায় অপু বিশ্বাস
- লাইন ধরে খেতে হয় লিখনের জগা খিচুড়ি !
- আমার বোন শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি : চিনে নিন কে এই বরকত!
- 'ইতিহাসের ইতিহাস'
- ধনী হওয়ার আট কার্যকর উপায়
- মেয়ে পটানোর কৌশল!
- লক্ষাধিক রাখাইন জনগোষ্ঠী আড়াই হাজারে নেমে এসেছে
- আমায় ক্ষমা কর পিতা : পর্ব ১৪'তোমার সহজাত উদারতা তোমাকে আকাশের সীমানায় উন্নীত করলেও তোমার ঘনিষ্ঠ অনেকের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ তোমার নৃশংস মৃত্যুর পথে কোনই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি'
- উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের নতুন যাত্রা ১ বৈশাখ
- লোভী মানুষ চেনার সহজ উপায়
- বাংলা বই পড়ার ওয়েবসাইট
- হুমায়ূনের মৃত্যুর কারণ মদের পার্টি !
- শাকিবের নায়িকা শ্রাবন্তী, অপুর নায়ক জিৎ
- মঠবাড়িয়ায় ৯ বছরের শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা
- দেশে ফিরছেন তারেকস্ত্রী জোবায়দা রহমান
- বোরকা পরা মেয়ের গণধর্ষণের ভিডিও নিয়ে সিলেটে তোলপাড়
- ইউটিউবে নায়লার আত্মপ্রকাশ
- নেপালের ভূমিকম্প প্রাকৃতিক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি !
- বিএনপির আন্দোলন হচ্ছে দলের অভ্যন্তরে !