সারা বিশ্বে জাতিসংঘের অকার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের ঝড়
দিলীপ চন্দ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর ১৯৪৫ সালে গঠিত জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি। কিন্তু সময়ের প্রবাহে এই মহতী সংস্থাটির ভূমিকা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, গণহত্যা, পরিবেশ বিপর্যয় কিংবা শরণার্থী সংকট— কোনো ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেকের চোখে এটি এখন একটি “কাগুজে বাঘ” — আছে, কিন্তু দাঁত নেই।
বিশ্বের নানা সংকটে জাতিসংঘের ব্যর্থতা
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দমন-পীড়ন চলছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রতিদিনই মরছে নিরীহ মানুষ। জাতিসংঘ একাধিকবার নিন্দা জানালেও বাস্তব কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। বরং নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কাছে প্রতিবার থমকে গেছে মানবতার সব চিৎকার।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন চালানোর পর বিশ্বব্যাপী যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলেও জাতিসংঘ শুধু “উদ্বেগ প্রকাশ” করেই দায় সেরেছে। যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা বা কার্যকর কূটনৈতিক প্রয়াস ছিল না বললেই চলে।
সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন সংকট: আফ্রিকার সুদান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া ও ইয়েমেন বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লাখো মানুষ মারা গেছে, কোটি কোটি মানুষ উদ্বাস্তু। জাতিসংঘ কেবল খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠাচ্ছে, কিন্তু সংঘাত থামাতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
নিরাপত্তা পরিষদ: বড় দেশগুলোর হাতের পুতুল?
জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ ‘নিরাপত্তা পরিষদ’, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। এর মানে তারা চাইলে যে কোনো প্রস্তাব বাতিল করতে পারে। ফলে, বাস্তব ক্ষেত্রে বড় শক্তিধর দেশগুলোর স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তই কার্যকর হয় না। এ কারণে জাতিসংঘ দিন দিন কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
উন্নয়ন, পরিবেশ, মানবাধিকারেও প্রশ্ন
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) বাস্তবায়নে অসংখ্য সম্মেলন, পরিকল্পনা হলেও দরিদ্র দেশগুলো এখনো ন্যূনতম সেবাও পায় না।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বড় বড় সভা-সেমিনার হলেও কার্বন নিঃসরণ কমাতে শিল্পোন্নত দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। জাতিসংঘ কেবল “সংবেদনশীল আহ্বান” জানিয়ে দায় সারছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বড় দেশগুলোর বিরুদ্ধে জাতিসংঘ প্রায় নীরব। ছোট দেশ হলে কড়া ভাষার নিন্দা জারি করে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ড. রামন ভেগা বলেন, “জাতিসংঘ আজ একটি রাজনৈতিক ফাঁদে বন্দী। এর কার্যক্ষমতা কেবল তখনই দেখা যায়, যখন কোনো বড় শক্তির স্বার্থ জড়িত থাকে না।”
পরিশেষে বলা যায় যে, জাতিসংঘের মত একটি বিশ্বসংস্থা যদি যুদ্ধ-গণহত্যা-মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সংকটে কার্যকর না হয়, তাহলে এর অস্তিত্ব কিসে? নামেই কি কেবল জাতিসংঘ, নাকি এখন সময় এসেছে এর কাঠামোগত সংস্কার ও দায়বদ্ধতার নতুন সংজ্ঞা দেওয়ার?
বিশ্ববাসী আজ প্রশ্ন করছে— “জাতিসংঘ কি মানবতার রক্ষক, না কূটনৈতিক নাটকের মঞ্চ?”
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী।
পাঠকের মতামত:
- 'নির্লজ্জ বেহায়া হতেই কী আমরা তোমাকে খুন করেছি কিংবা তোমাকে রক্ষা করিনি?'
- 'শেখ মুজিব দেশ ও জাতির শত্রু'
- সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে মৃত্যু বেড়ে ৮
- ঈশ্বরদী জংশনে মহানন্দা ট্রেনে সান্টিং ইঞ্জিনের ধাক্কা, আহত ১৫
- কাপ্তাইয়ে শহীদ জিয়া স্মৃতি অলিম্পিকবার ফুটবল টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন সোনালী অতীত ক্লাব
- ১৫ আগস্ট ও শেখ হাসিনার ফেরা ঘিরে সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের মিছিল
- বঙ্গবন্ধুর ৫১ তম শাহাদাত বার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার
- ‘শিক্ষা শুধু একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়’
- ‘১৮ বছর অনেক আন্দোলনের পর আমরা গণতন্ত্র পেয়েছি’
- কানাইপুরে একাধিক বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি নায়াব ইউসুফ
- প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আ.লীগ নেতা রাসেল
- বাগেরহাটে ইয়াবাসহ মাদককারবারী গ্রেপ্তার
- নোয়াখালীতে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন
- চাটমোহরে ধারালো অস্ত্রাঘাতে কুকুর হত্যার অভিযোগ
- গণমাধ্যমে বক্তব্য চাইলেই ক্ষেপে যান সাতক্ষীরার ডিসি কাউসার আজিজ
- ঈশ্বরদীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য পারমাণবিক বিজ্ঞান শিক্ষা কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান জাদুঘর প্রদর্শনী
- ৭০০ কলাগাছে কীটনাশক স্প্রে, ৪ লাখ টাকার ক্ষতি
- জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার উপহার সামগ্রী পেল নারী ফুটবলাররা
- গ্রিড আছে, আলো নেই: দায় কার?
- চন্দ্রঘোনা কেপিএমে ৯৫ কর্মীর পদোন্নতি
- পাংশায় মাকে হত্যার অভিযোগ মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে
- সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে ৫ শ্রমিক নিহত
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জামায়াতের নিন্দা
- মেসির বাবার মৃত্যুতে নেইমারের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা
- আরসিইপিতে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ
- মেধাবীরাই বদলাবে রাজনীতি
- পঞ্চগড় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন স্বপ্ন-সৌখিন
- বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে গ্রামীণফোনের ‘আগামীর চোখে বাংলাদেশ’
- ‘বাজি’ দিয়ে ফিরল কোক স্টুডিও বাংলা
- শরতের কাশফুল বাংলার প্রকৃতির সাদা শোভা
- কুমিল্লায় বিধবা আনোয়ারা হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আল-আমিন গ্রেফতার
- ৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস
- শ্রীনগরে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এড.কামরুল হাসানের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত
- মানুষ এবং বৈষম্য অসুখ
- অনুমোদন নেই, তবুও সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেইট নির্মাণের দাবি
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নিউ ইয়র্কে নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সাক্ষাত
- ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া হানাদার মুক্ত দিবস
- এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধ স্মৃতি
- জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভোট বর্জন
- লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবি, নিহত ১৮, বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ৯০
- বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২৬ শতাংশ
- ভৈরবে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানগুলোর নাজুক চিত্র
- সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে মৃত্যু বেড়ে ৮
- সাতক্ষীরায় পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ৭০০ শরনার্থীর স্মরণসভা
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
-1.gif)








