E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

রাজারহাটে বস্তায় আদা চাষে জনপ্রিয়তা বাড়ছে 

২০২১ জুন ০১ ১৩:২৭:৫৪
রাজারহাটে বস্তায় আদা চাষে জনপ্রিয়তা বাড়ছে 

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : ঔষুধি গুণ সমৃদ্ধ মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা অন্যতম। বৈজ্ঞানিক নাম (তরহমরনবৎ ঙভভরপরহধষব) । কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বস্তায় আদা চাষ বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। অনেকে বস্তায় আদা চাষ করে লাভবান হয়েছেন।

রাজারহাট কৃষি অফিস জানায়, আদা লাগানোর উপযুক্ত সময় মার্চ/এপ্রিল মাস বেলে দোঁ-আশ মাটিতে আদার ফলন ভালো হয়। বস্তায় আদা চাষের সুবিধা হচ্ছে যাদের আবাদি জমি নাই তারাও ইচ্ছা করলে বসত বাড়ীর আশেপাশে, আঙ্গিনায়, সুপারি বাগান কিংবা অন্যান্য পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ করতে পারে। এক একটি বস্তায় ১টি করে বীজ আদা রোপন করে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত আদা উৎপাদন করা সম্ভব। বীজ লাগানোর সময় মাটি শোধন করে নিলে আদার মরক লাগার সম্ভবনা কমে যায়।

উপজেলার পুটিকাটা গ্রামের কৃষক ইন্দ্রকমল রায় (৫৫) বলেন, কয়েক বছর থেকে আমি স্বল্প পরিসরে বস্তায় আদা চাষ করে আসছি তা দিয়ে আমার পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে, তালতলা গ্রামের বিধান চন্দ্র রায় (৩৫) বলেন, গত বছর ৫০টি বস্তায় আদা চাষ করে সফল হয়েছি। এবারে শতাধিক বস্তাতে আদা লাগিয়েছি পরিবারের চাহিদার মেটানোর পরেও বাড়তি আয়ের আশা করছি। মেকুরটারী গ্রামে মৃত আব্দুস সাত্তার ব্যাপারীর পুত্র মোঃ সাজেদুল ইসলাম (৪০) পেশায় প্রভাষক হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় কৃষি কাজ করে এলাকায় সুনাম অর্জন করেছেন। এই মৌসুমে তিনি অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বস্তায় আদা চাষ করেছেন।

তিনি জানান, নিচু জমিতে গত মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আদা নষ্ট হয়ে যায়। এবারে আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে বস্তায় আদা লাগিয়েছি দিন দিনে চারা গুলো পরিপক্ক হচ্ছে, আমার স্বপ্ন ডানা মেলতে শুরু করেছে। দুধখাওয়া গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব মোঃ ফজলুল হক মন্ডল(৬০) এ বছর ৬৫ শতক জমির পাশাপাশি বস্তায় কয়েকটি চারা লাগালে চারাগুলো বেশ ভালো গজিয়েছে। উপজেলার মেকুরটারী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিলদার হোসেন জানান, মাঠ পর্যায়ে বস্তায় আদা চাষের ব্যাপারে আমরা কৃষকদেরকে সব সময় উদ্বুদ্ধ করছি।

১ জুন মঙ্গলবার এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা আক্তার জানান, আদা যেহেতু মসলা জাতীয় ফসল প্রত্যেকেই যদি বসত বাড়ীতে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তা পদ্ধতিতে কিছু কিছু আদা চাষ করেন তাহলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বাড়তি উপার্জন করতে পারবেন। আমাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা গুলোতে আমরা এ ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি এমনকি আগামী অর্থ বছরে আদা এবং গোল মরিচ এর উপর আমার নিজ উদ্যোগে প্রকল্প গ্রহনের জন্য চেষ্টা করছি ।

(পিএস/এসপি/জুন ০১, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২১ জুন ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test