E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

সাপাহারে করলা চাষে চলছে অনেকেই স্বাবলম্বী

২০২১ আগস্ট ২১ ১৭:১০:০২
সাপাহারে করলা চাষে চলছে অনেকেই স্বাবলম্বী

নওগাঁ প্রতিনিধি : আমের পর নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার সবজী করলা এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হওয়ায় লাভের মুখ দেখছে উপজেলার করলা চাষীরা। করলা বিক্রি করে অনেকেই এখন স্বচ্ছল ভাবে হাসি খুশি জীবন যাপন করছে।

আমের পরে সবজি চাষেও এবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চিনবে সাপাহারকে, এমনটাই মনে করছেন উপজেলার অভিজ্ঞ কৃষকরা। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই এই উপজেলার চাষীরা করলা সবজি চাষে উৎসাহীত হয়ে উঁচু জমি ও তাদের হাইব্রীড আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে করলা চাষ করে স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে কিক্রি করে সংসারের খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা লাভ করত। পরবর্তীতে সাপাহারে করলা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বেশ কিছু দিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে কাঁচা তরিতরকারীর ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন সাপাহারে।

পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার করলা চাষীদের গ্রোথ সেন্টার হিসেবে সাপাহার-তিলনা পাকা সড়কের বাহাপুর মোড়ে গড়ে ওঠেছে প্রতি দিনের জন্য ৩/৪ঘন্টার এক অস্থায়ী মৌসুমী সব্জীবাজার। ভোর হলেই বিভিন্ন এলাকার করলা চাষীরা তাদের উৎপাদিত করলা নিয়ে চলে আসে এই বাজারে এবং ক্রেতারা তাদের নিকট বিভিন্ন দামে করলা ক্রয় করে পিক-আপ অথবা মিনি ট্রাক যোগে সকাল ১০টার মধ্যেই রওয়ানা হয়ে যায় নিজ গন্তব্যে। বর্তমানে প্রতি মন করলা হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে ওই অস্থায়ী বাজারে। প্রতিবছর আগষ্ট হতে অক্টোবরের ১৫/২০তারিখ পর্যন্ত চলে এই মৌসুমী অস্থায়ী বাজার। বর্তমানে বাজারে আমের প্রভাব কমে যাওয়ায় বাজারটি বেশ জেঁকে বসেছে এবং রাজধানী ঢাকা শহর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীরাও আসতে শুরু করেছে এই বাজারে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ওই বাজারে গিয়ে প্রতিমন করলা এক হাজার থেকে বারশ’ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। করলার এই অস্থায়ী বাজারে এসে ঢাকার কাওরান বাজারের সবজি ব্যাবসায়ী ইমরান হোসেন জানান, সাপাহারের করলা সবজির গুনগত মান অনেকটাই ভাল ও এখান থেকে করলা কিনে লাভ ভাল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার করলা রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারে সরবরাহ করছেন।

এলাকার স্থানীয় করলা চাষী উকিলবাবু, আনারুল, ছয়ফুল ও আব্দুল মালেকসহ বেশ কিছু করলা চাষী জানান, অস্থায়ীভাবে উপজেলা সদরের বাইরে এই স্থানে করলার বাজার গড়ে না উঠলে এখানকার করলা চাষীরা এই হারে করলা চাষাবাদ করতনা। এখন করলা চাষ করে বিক্রি করার তেমন কোন ভয় নেই তাদের। বর্তমানে তারা সহ অনেকেই এখন করলা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন।

অস্থায়ী ওই বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাগন জানান, প্রতিদিন এই অস্থায়ী কয়েক ঘন্টার বাজার হতে প্রায় ১শ’ থেকে ১৫০টন করলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে।

(বিএস/এসপি/আগস্ট ২১, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২১ অক্টোবর ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test