E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

অকৃষি খাতের আয় এখন কৃষকের ভরসা

২০২৪ মে ১৭ ১৭:২০:২৪
অকৃষি খাতের আয় এখন কৃষকের ভরসা

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া ও অত্যধিক শ্রমের মজুরির কারণে দিনদিন অলাভজনক হয়ে পড়ছে চাষাবাদ। তারপরও পেশা ছাড়ছেন না কৃষকরা। তারা বলছেন, পৈতৃক পেশা ছেড়ে তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এজন্যই তারা সাংসারিকভাবে ঋণগ্রস্থ হয়েও পেশা ছাড়তে পারছেন না। পেশা কৃষি হলেও তাদের সংসার চলছে অকৃষি খাতের আয় দিয়ে। কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে তাদের ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা ও উৎপাদিত পণ্যের নায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষক সংগঠনের নেতারা। এজন্য ভোক্তা ও উৎপাদনকারীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের কথা বলছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

কৃষকদের কথা বলে জানা যায়, এখন অকৃষি আয় ছাড়া সঞ্চয়ের উপায় নেই। কারণ চাষাবাদে জমি থেকে তারা কোনো লাভ পাচ্ছেন না। অনেকের হয়তো পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বা কারো সন্তান দেশের বাইরে আছেন। কেউবা কোনো চাকরি করছেন। একমাত্র তারাই একটু ভালো অবস্থায় থাকতে পারছেন। বাকিদের বিকল্প আয় না থাকায় পড়েছেন বিপাকে।

ঈশ্বরদীর আওতাপাড়ার বোরো চাষি মনোয়ার হোসেন জানান, এবারে খরার কারণে ২০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এরপরও ধানের স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখা যাবে না। ধানের উৎপাদন ১৫-২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। উৎপাদন খরচ বাড়লো আবার ফলন কম হলো। ধান বিক্রির সময় দর বাড়ানোর বিষয়টি কারো মাথায় থাকে না।

মিরকামারী গ্রামের কৃষক রায়হান খান বলেন, ক্ষতি হলেও আমাদের ফেরার পথ নেই। আমরা যে টিকে আছি সেটা কৃষিকাজ দিয়ে নয়। পরিবারের কর্মজীবী অন্য সদস্যদের হয়তো কেউ ভ্যান চালায়, কেউ মাছ ধরে, কেউ বিদেশ থাকে বা চাকরি করে। কৃষি থেকে ক্ষতি হলেও অন্য ক্ষেত্র থেকে আয় আসছে। তাই টিকে আছি। এখন জীবনযাত্রায় যে ব্যয় তাতে কৃষির আয় দিয়ে টিকে থাকতে পারতাম না।

মাঝদিয়ার কৃষক আলমাস আলী আক্ষেপ করে বলেন, সরকার এত ভাতা দেয় কিন্তু চাষির ভাতা কই? বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সচ্ছল লোকজন শখ করে তুলে খায়। কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বছর ধরে হয়তো দু-চারটা গরু পালন করছি। হাঁস-মুরগি বা ছাগল পালন করছি। ছেলে বিদেশ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে হাতে কিছু টাকা আসে। সে টাকা দিয়ে আবার চাষাবাস করি। শুধু কৃষিকাজ করে সে টাকা দিয়ে চলা সম্ভব না।

ছোট, বড়, প্রান্তিক সকল কৃষকই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে জানালেন ঈশ্বরদীর জাতীয় পদকপ্রাপ্ত চাষি এবং বাংলাদেশ ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহজাহান আলী বাদশা। তিনি বলেন, চাষিরা এ পেশা ছাড়ছেন না। কারণ বিকল্প কোনো পেশা নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের বিষয়ে বলেন, কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে হলে চাষিকে ভর্তুকি (সাবসিডি) দিতে হবে। চাষিকে জামানত ও সুদবিহীন ঋণ দিতে হবে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনায় কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স (চুক্তিবদ্ধ চাষি) বৃদ্ধি করতে হবে। এতে চাষির মুনাফা নিশ্চিত হতে পারে। এটা হলে চাষিকে তার পৈতৃক পেশা বদল করতে হবে না।

(এসকেকে/এসপি/মে ১৭, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

১৭ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test