E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

রাজারহাটে রাজহাঁসের খামার পাল্টে দিয়েছে বাপ-বেটার ভাগ্য

২০২৪ জুন ১২ ১৬:৫৫:১৪
রাজারহাটে রাজহাঁসের খামার পাল্টে দিয়েছে বাপ-বেটার ভাগ্য

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাপ-বেটার পেকিং রাজহাঁস খামার এখন এলাকায় সাঁড়া ফেলে দিয়েছে। সুভ্র সাদা রঙের ঝকঝকে হাঁসগুলো যখন পাখনা মেলে পুকুরে ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুড়ে বেড়ায় তখন মুগ্ধ চোখে হাসঁগুলো দেখেন এলাকাবাসী। খামারের মালিক আব্দুল আজিজ করোনাকালিন সময়ে চাকরী হারিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। তারপর টানাটানির সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করেন তিনি। কিন্তু অভাব তাকে যেন আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত পেকিং বা স্থানীয়ভাবে বলা বেলজিয়াম রাজহাঁস খামার গড়ে তুলে ভাগ্য ফেরোতে পেরেছেন তিনি। পিতা-পূত্র মিলে গড়ে তোলা খামারের নাম দিয়েছেন বাপ-বেটা খামার। এই খামারের নাম এখন সকলের মুখে মুখে।

আব্দুল আজিজ জানান, অনেক রকমের রাজহাস পালন করেছি কিন্তু লোকসান ছাড়া লাভের মুখ দেখিনি। পরে স্থানীয় আরডিআরএস সংগঠন থেকে পেকিং রাজহাস পালন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পাই। তারাই প্রথম আমাকে ৫০টি পেকিং রাজহাসের ছানা বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। বাপ-ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে অনেক পরিশ্রম করে এখন আমার খামারে ১৫২টি খাওয়ার উপযুক্ত রাজহাস আছে। তারা ডিমও দিচ্ছে। একহালি ডিম প্রায় দুশো টাকায় বিক্রি করছি। লোকজন ডিম কিনে নিয়ে প্রয়োজনীয় তা দিয়ে ২৮ দিনের মধ্যেই বাচ্চা পাচ্ছে। সেই ফুটে ওঠা বাচ্চাগুলোকে দুই থেকে আড়াই মাস খাবার দিলে খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। এসময় তাদের ওজন আড়াই থেকে তিন কেজি হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রতিটি রাজহাসের কেজি ৬শ’ টাকা করে। ফলে একটি রাজহাস কিনতে খরচ পরবে ১৫শ’ থেকে আঠারশ’ টাকা।

আব্দুল আজিজের স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, ঘর মেরামত করতে আমাদের দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া খাদ্য, ঔষধ, ভ্যাকসিন প্রয়োগে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগে। আমরা এখন ডিম, বাচ্চা ও বড় হাস বিক্রি করতে পারছি। রাজহাস পালনের জন্য বাড়ীর পিছনে ১৪ হাজার টাকায় তিন বছরের জন্য বিল বন্ধক নিয়েছি। সকালে খাবারের পরে হাসগুলোকে বিলে ছেড়ে দেয়া হয়। দুপুরের খেতে এসে আবার ছেড়ে দেয়া হয়। সূর্য ডোবার আগে আগে রাজহাসগুলো একটা ডাক দিতেই খামারে চলে আসে।

দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়ণরত রহেদুল জানায়, করোনার পর বাবার চাকরী চলে যায়। তিনি হতাশ হয়ে বাড়িতে ফেরেন। তখন আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি। স্কুলও বন্ধ হয়ে গেছে। তখন থেকে বাবার কাজে আমি সঙ্গি হয়ে যাই। তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আজকে আমরা একটু সুখের মুখ দেখছি। খামারটি চালু হওয়ার পর পারিবারিক খরচ বাদে আমরা মাসে প্রায় পনের হাজার টাকার মতো আয় করছি। আমাদের ইচ্ছে খামারটাকে আরো বড় পরিসরে করার।

(পিএস/এসপি/জুন ১২, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

১৪ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test