E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

পাকিস্তানি সমর্থকদের পক্ষে কথা বলায় সংসদে তোপের মুখে হারুন

২০২১ নভেম্বর ২৭ ১৭:৩৪:৪৫
পাকিস্তানি সমর্থকদের পক্ষে কথা বলায় সংসদে তোপের মুখে হারুন

স্টাফ রিপোর্টার : স্টেডিয়ামে পাকিস্তানি পতাকা ওড়ানো এবং পাকিস্তানি ক্রিকেট সমর্থকদের পক্ষে কথা বলায় সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। শনিবার (২৭ নভেম্বর ) সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে হারুন বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশটির প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। ‘অতিথি’ পাকিস্তান দলের সমর্থক পতাকা ওড়ানো নিয়ে ‘বিব্রতকর’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরে তার বক্তব্যের জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রকৃত চরিত্র বেরিয়ে এসেছে।

পয়েন্ট অব অর্ডারে হারুন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হচ্ছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। পাকিস্তান ক্রিকেট টিম বাংলাদেশের সঙ্গে খেলছে। বাংলাদেশ যাই খেলুক না কেন, পাকিস্তানের সমর্থকরা তাদের পতাকা ওড়াচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে একটা বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। মনে রাখতে হবে, তারা কিন্তু আমাদের দেশে মেহমান, অতিথি। আমাদের দেশের ক্রিকেট, আমাদের দেশের ফুটবল, আমাদের দেশের মেয়েরা সারা পৃথিবীতে খেলছে। সেখানে পতাকা ওড়েনা বাংলাদেশের?

হারুন বলেন, সেদিন একজন সদস্য দেখলাম বিভিন্নভাবে বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলেছেন। এসময সরাকরি দলের সদস্যরা হইচই করে হারুনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। হারুন বলেন, পাকিস্তান টিমের তো আসার দরকার ছিল না। পাকিস্তানি টিমকে কেন খেলতে দিয়েছেন? খেলতে দিতেন না। দরকারই ছিল না।আপনি তো তাদের অনুমতি দিয়েছেন। তারা এখানে এসেছে। এটি ঠিক নয়। একটি দেশের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ ঠিক নয়। এটি আমাদের জন্য সম্মানের নয়, গৌরবের নয়।

১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণ থেকে উদ্বৃত করে হারুন বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ভারত-বার্মার মতো অতীত থেকে মুখ ফিরিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও নতুন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছি। অতীতের তিক্ততা দূর করতে কোনো প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত হইনি। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা প্রদর্শন করে উপমহাদেশে শান্তি সহযোগিতার নতুন ইতিহাস রচনা করেছি। আমরা আমাদের আন্তরিকতার প্রমাণ দিয়েছি।

হারুন বলেন, দেশে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পরপরই ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েছিলেন এটি তার ঐতিহাসিক দলিল।

এসময় সরকারি দলের সদস্যরা হট্টগোল করলে হারুন স্পিকারের কাছে ‘প্রোটেকশন’ চেয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে কথা বললাম, এখানেও যদি বাধা দেন তাহলে আর কী বলবো মাননীয় স্পিকার। আমি এমন কিছু বলিনি, আমি ওনার ভাষণ পড়ে শুনিয়েছি।

এরপর হারুন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন তালুকদারের প্রসঙ্গ টানেন। কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে হারুন বলেন, সাক্ষী-আলামত ছাড়া কাউকে হত্যা করা একেবারে গুনাহের কাজ। অষ্টম ও একাদশ সংসদের সদস্য আব্দুল মোমিন তালুকদার, তার বয়স তখন (১৯৭১ সালে) ১৮ বছর ছিল। উনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ২০১১ সালে জাতিসংঘের কনভেনশনে গিয়েছেন।

এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মাননীয় সদস্য আপনি এখানে বিচারের বিষয়ে কথা বলতে পারেন না। বিচার হয়েছে...আপনি বসুন।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে হারুনের বক্তব্যের জবাব দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ যেভাবে পাকিস্তানের পক্ষে অবলম্বন করে সংসদে কথা বললেন, এতে তার প্রকৃত চরিত্র বেরিয়ে এসেছে। তারা যে রাজাকার, আলবদর, আল শামসের পক্ষে কথা বলছে ও রাজনীতি করছে, তারা যে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন না, সেটা প্রমাণ হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান হত্যাকারীদের শুধু লালনপালনই করেনি, পাকিস্তানি ধারা বাংলাদেশে প্রবর্তন করার জন্য সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। একই ধারায় তারা এখনো রাজনীতি করে যাচ্ছে। তার প্রমাণ আজকে হারুনুর রশিদ সংসদে উপস্থাপন করলেন।

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান অপরাধ করেছে। বঙ্গবন্ধু যেহেতু শান্তিকামী মানুষের নেতা ছিলেন। তার সেই অহিংস ও শান্তিকে বিকৃত করে সংসদে উপস্থাপন করার চেষ্টা হচ্ছে।

খালিদ মাহমুদ বলেন, তারা মনে করেছিল যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে না। এই বিচার হওয়া তাদের সেই মনোকষ্ট ফুটে উঠছে, তার বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে। তাদের সঙ্গে অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের সুরাহা হয়নি। তার মানে এই নয় যে, সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ সরে গেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের গর্ব ও অহংকারের জায়গায় ফিরে গেছে বাংলাদেশ। এটাই হচ্ছে বিএনপি ও হারুনুর রশীদদের কষ্ট। আমরা তাদের কষ্ট ও দুঃখ বুঝি। কিন্তু সেই জায়গায় বাংলাদেশ আর কখনো ফিরে যাবে না।

(ওএস/এসপি/নভেম্বর ২৭, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২১ জানুয়ারি ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test