E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

শিরোনাম:

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আর নেই

২০২৩ ডিসেম্বর ১০ ০০:১২:০৮
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছাড়াও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী সাজু হোসেন ইংরেজি দৈনিক দি নিউ নেশনের চেয়ারপারসন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার পিএস ওয়াহিদুজ্জামান। ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের প্রথম নামাজে জানাজা রবিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বারিধারা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর সুপ্রিম কোট প্রাঙ্গণে আরেকটি নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

বিখ্যাত সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তারপরে মিডল টেম্পল এ আইন বিষয়ক পড়াশোনা করেছেন। ১৯৬৫ সালে বার থেকে ব্যারিস্টার-ইন-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।

মইনুল হোসেন ১৯৭৩ সালে পিরোজপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে তিনি তার পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পরে তিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদ পরিচালিত দল ডেমোক্র্যাটিক লীগে যোগ দেন এবং ৩ নভেম্বর মোশতাক সরকারের পতন পর্যন্ত তিনি ডেমোক্র্যাটিক লীগেই ছিলেন।

বাংলাদেশ এর সংবাদ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মইনুল হোসেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে ২০০০-২০০১ মেয়াদে নির্বাচিত হন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ২০০৮ সালের ৮ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর জার্নাল টক শোতে দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি লাইভে যুক্ত হওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন- ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আলোচনা চলছে, আপনি সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এসে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না?’

মইনুল হোসেন এ প্রশ্নের জবাবের একপর্যায়ে মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে মানহানির মামলা হয় এবং মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিন মাসের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান।

(ওএস/এএস/ডিসেম্বর ১০, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test