গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার চরাঞ্চল ভাংনামারী ইউনিয়নের কর্দমাক্ত, খানা-খন্দকে ভরপুর, যানবাহন চলাচলের অনুপোযোগি প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক নিজ অর্থায়নে নির্মান করলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ডক্টর সামীউল আলম লিটন। প্রায় দুই কিলোমিটার এই সড়কে ১৫হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। সড়কটি দীর্ঘদিনেও নির্মাণ বা সংস্কার না হওয়ায় এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এলাকাবাসীকে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে চলছে রাস্তাটি নির্মাণ কাজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বারুয়ামারী স্কুলের সামনের পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিনদিকে দক্ষিনপাড়া পর্যন্ত ২কিলোমিপার রাস্তাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ১৫হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। রাস্তাটি কর্দমাক্ত ও স্থানেস্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী। রয়েছে বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে ২৫/৩০ফুট স্থানে দেড়/দু’ফুট গভীরের খানা খন্দক।

বারুয়ামারী গ্রামের সামছ উদ্দিন মিয়ার পুত্র লাল মিয়া জানান, ভাঙ্গা ও কর্দমাক্ত রাস্তার রাতে মানুষ মারা গেলেও কেউ বাহিরে যেতে পারে না। চিকিৎসা করার কোন সুযোগ নেই। কৃষকদের অভিযোগ ধান-চাল নিয়ে বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান ফসল ‘সবজি’। আগে সকালে ভ্যান এসে সবজি নিয়ে যেতো, রাস্ত খারাপ হওয়ায় ভ্যান আসে না। আমরাও নিয়ে যেতে পারছি না। এদিকে স্কুলের পাশের গ্রর্তর কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচল প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে।

দুর্ভোগে থাকা এসব মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য এই অচল সড়ককে সচল করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ডক্টর সামীউল আলম লিটন। রাস্তাটির এজিং দিয়ে সেন্ড ফিলিং করে তারপর চলছে ইটের সলিং। এর উপর বসানো হচ্ছে হেরিংবোন।

তিনি জানান, রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বসম্পন্ন। এলাকাবাসী চরম কষ্টে আছেন। তাদের এ কষ্ট দূরীভুত করার উদ্যোগ নিয়েছি। ২কিলোমিটার লম্বা ও ৮ফুট প্রশস্ত রাস্তাটি নির্মাণ করতে প্রায় ১০লাখ টাকা ব্যয় হবে।

তিনি আরো জানান, সামনে ঈদুল আযহা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর নানা কর্মসূচী চলছে। এ কাজটিও মুজিবভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, অন্যদের মাঝেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বারুয়ামারী গ্রামের আব্দুল জব্বার জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হলে স্বস্তি ফিরে পাবে সাত গ্রামের প্রায় ২০হাজার মানুষ। এ ইউনিয়নের সর্ববৎ ঈদের জামাত হয় ভাংনামারী ঈদগাহে। যেখানে বারুয়ামারী, খানপাড়া, দুর্বারচর, লক্ষীপুর, ভাংনামারী, সুতিরপাড় ও চরঘোড়ামারা লোকজন আসেন। সড়কটি নির্মাণ হলে এলাকাবাসীর নিকট ’ঈদের উপহার হবে ‘এ সড়ক’, যোগ হবে নতুন আনন্দ।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াহেদুল হক জানান, এ সড়কটি নতুন প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। চলতি অর্থবৎসরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এক বছরের মধ্যে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।

(এস/এসপি/জুলাই ৩০, ২০২০)