রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ভেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য বস্তায় বালি ভর্তি করতে যাওয়ার পথে কপোতাক্ষের প্রবল স্রোতে ট্রলার ডুবে যেয়ে তিন শ্রমিক নিখোঁজ  হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া লঞ্চ ঘাটের নিকটবর্তী ভাঙা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ১২ জন শ্রমিককের মধ্যে আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের বকচরার মাফুয়ার রহমানকে খুলনার কয়রা উপজেলার জায়গীরমহল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কাপষণ্ডা গ্রামের মুনজিল সরদারের ছেলে বাবুরালি সরদার, শ্রীউলা ইউনিয়নের পুঁইজালা গ্রামের আব্দুল আজিজ ও শফিকুল ইসলাম।

আশাশুনি উপজেলার পুঁইজালা গ্রামের আব্দুর রহিম মোড়লের ছেলে জহুরুল মোড়ল, বকচরা গ্রামের জামির সানার চেলে আইয়ুব আলী সানা, একই গ্রামের ফজলে সানার ছেলে মফিজুল সানা ও আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল্লাহ জানান, কপোতাক্ষ নদের আম্ফান কবলিত কুড়িকাহনিয়া ও শ্রীপুর লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙা নামকস্থানে বাঁধ সংস্কারের জন্য তারাসহ ২৯ জন কুড়িকাহনিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় এক মাস যাবৎ অবস্থান করছেন। তাদের সর্দার হলেন বকচরা গ্রামের ইদ্রিস আলী। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তারা চারজনসহ মোট ১৫জন শ্রমিক বালি ভর্তির জন্য জিআই বস্তা নিয়ে শ্রীপুর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে কুড়িকাহনিয়ার আব্দুস সাত্তারের ট্রলারে করে ভাঙা নামকস্থানে যাচ্ছিলেন।

ট্রলারটি ছাড়ার ২০ মিনিট পর কপোতাক্ষের প্রবল স্রোতে ঘোলের মধ্যে পড়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলের পাশে কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা থাকলেও তারা বিপর্যস্ত শ্রমিকদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। বেশ কিছুক্ষণ সময় তারা ভেসে থাকার একপর্যায়ে কুড়িকাহনিয়া গ্রামের আনোয়ারউদ্দিনের ছেলে শাহাজাহান আলী একটি নৌকা নিয়ে এসে তাদের ১২জনকে উদ্ধার করেন। বাবুরালি, আব্দুল আজিজ ও শফিকুল প্রবল স্রোতে বেসে যায়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে মাফুয়ার রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনার কয়রা উপজেলাধীন জায়গীরমহল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রমিক সরদার ইদ্রিস আলী জানান, প্রতিটি শ্রমিক এক একটি জিআই বস্তায় নদীর বালি ভর্তির জন্য ৩৮ টাকা করে পেয়ে থাকেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে আশাশুনির ফায়ার সিভিল ডিফেন্স এর সদস্য ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ শুরু করতে পাারেন নি।

প্রতাপনগর ইউনাইটেড একাডেমীর ১০ম শ্রেণীর ছাত্র মাসুদুল আলম রিফাত বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে কুড়িকাহনিয়া এলাকায় কপোতাক্ষের বাঁধ ভেঙে বড় ধরণের খাল তৈরি হয়। ওই খালের পাশে ব৭াধ নির্মাণ করার জন্য বালি ভর্তি করার জন্য বস্তা নিয়ে আসার পথে ১৫জন শ্রমিককে নিয়ে আব্দুস সাত্তারের ট্রলার ডুবে যায়। নিখোঁজ হওয়া তিন পরিবারের সদস্যরা কুড়িকাহনিয়া ব্রীজের উপর এসে আহজারি করছেন।

এদিকে নিখোঁজ হওয়া বাবুর আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন জানান, তিনি নিজে একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রী। সকাল ৮টায় বাবা নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ইচ্ছা থাকার পরও প্রবল স্রোতে বাবাকে উদ্ধারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আশাশুনির ফায়ার সিভিল ডিফেন্স এর কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খুলনা থেকে ডুবুরী আনার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। ট্রলারটি নদীতে পাতা জালে আটকা পড়ায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

(আরকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১)