ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় সিহান হোসেন (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আলমগীর হোসেন (৩৫) নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী। তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে গতকাল সোমবার দুপুুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে না পূর্ব শত্রুতা না মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি। তবে নিহত ও আহত ব্যক্তির পরিবারের দাবি ইউপি নির্বাচন ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পরেনি। 

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের আমছিমুর গ্রামের আব্দুস সবুরের পরিত্যক্ত ঘরে দুই পা ভাঙ্গাসহ সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় স্থানীয় সিহান হোসেন ও তার প্রতিবেশী মামা আলমগীর হোসেনের ঘুঙরানোর শব্দ পেয়ে তাদের উদ্ধার করে। এরপর তাদের দুজনকেই রাতেই ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সোমভার ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালে সিহান হোসেনের মৃৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আলমগীর হোসেনের অবস্থাও আশংকাজনক।

নিহত সিহান হোসেন আমছিমুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। আর আলমগীর হোসেন একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। সে যাদবপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য।

নিহত সিহান হোসেনের বড় ভাই সজিব হোসেন ও আহত আলমগীর হোসেনের ভাই হারুন অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, সিহান ও আলমগীর হোসেন নৌকার প্রার্থী আব্দুল মজিদ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম রেজুয়ানের পক্ষে গত কয়েকদিন ধরেই তারা ভোট প্রার্থনা করে আসছিল।

এ ইউপি নির্বাচন ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই সিহান ও আলমগীরকে রোববার রাত আটটার দিকে সবুরের পরিত্যক্ত বাড়িতে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় শরীফ ও ইমরান নামে দুই যুবক।

এরপর ওই ঘরে আটকিয়ে যাদবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজুর ছেলে দীপু তার বন্ধু নবীন, রুবেল, হিমেল, ইমরান, শরীফ, সাদ্দাম, ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী কোহিনুর ইসলামসহ ১০-১২ জনে মিলে সিহান ও আলমগীর হোসেনের চার পা-ই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় এবং শরীর বিভিন্ন স্থানে জখম করে মৃত ভেবে তাদের ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই পরিত্যক্ত ঘরে ঘুঙরানোর শব্দ পেয়ে স্থানীয় লোকজন সিহান ও আলমগীরকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে গতকাল সোমবার ভোর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিহানের মৃত্যু হয়। আর আলমগীর হোসেনের অবস্থাও আশংকাজনক। তারও দুই পা-ই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজু ও মেম্বার প্রার্থী কোহিনুর ইসলামের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় লোকজন জানান, আব্দুস সবুরের পরিত্যক্ত বাড়িটি মাদকসেবনকারীদের আস্তানা। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেই এ হামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নিহত সিহানের মা নুরুন্নাহার বেগম বলেন, গত বছর আমার পুকুরের সব মাছ মেরে ফেলেছিল। ওরাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। এ কথা বলতে বলতে থানা চত্বরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। তবে সবুরের পরিত্যক্ত বাড়িতে সব সময়ই নেশার আড্ডা বসত। কেউ প্রতিবাদ করতো না।

এদিকে যাদবপুর ইউনিয়নের নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মজিদ বলেন, যদিও ঘটনাটি আমার ইউনিয়নে। কিন্তু আমার বাড়ি থেকে অনেক দুরে। তবে নিহত সিহান নৌকা প্রতীকের একজন কর্মী ছিল। তিনি বলেন সিহান কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, না পূর্ব শত্রুতা, না মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেই জায়গাটি মাদকসেবনকারীদের আড্ডাখানা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে যারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ধামরাই থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন,লাশটি ময়না তদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন এঘটনা নির্বাচনী সংব্রন্ত নয়। মাদক চক্রের সাথে জড়িত।এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় নিহতের মা নূরুরন্নাহার বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান ওসি আতিকুর রহমান।

উল্লেখ্য, আগামী ১১ নভেম্বর ধামরাইয়ের ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচনকে কেন্দ্র প্রায় দিনই বিভিন্ন ইউনিয়নে নৌকা ও বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংর্ঘষ, বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটছে ।ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুরের করা হচ্ছে।অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনে ও থানায়।

(ডিসিপি/এসপি/নভেম্বর ০২, ২০২১)