‘দেশের শতভাগ মানুষ এ বছরই বিদ্যুৎ পাবে’
নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। সেইসঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ ২৬ এর বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টের আয়োজন করে বিদ্যুৎ বিভাগ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য তানভীর শাকিল জয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৯ সালে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করে। এরপর গত ১২ বছরে তা বেড়ে বর্তমানে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন, মানুষের মাথাপিছু আয় ও গড় আয়ু বেড়েছে, জীবনমানের উন্নতি হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ায় মানুষের আয়ও বেড়েছে।
তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন মাথাপিছু জিডিপি দুই হাজার ২৫০ ডলার। করোনাকালে জিডিপিসহ দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এ প্রণোদনার ফলে অর্থনীতির সকল সূচকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তথা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে আপনারা এগিয়ে আসুন। এর ফলে ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে। এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীরা আধুনিক প্রযুক্তি ও অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সিটি করপোরেশনসমূহের ময়লা আবর্জনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পরিণত করতে হবে। এছাড়া স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে একদিকে পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে দেশ লাভবান হবে। পাশাপাশি সবুজ প্রযুক্তি, জলবায়ু অভিযোজনে প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন। পিকেএসএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদিক, ইডকলের জ্বালানি বিষয়ক প্রকৌশলী এনামুল কবীর পাভেলসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। জলবায়ু সম্মেলন শেষে ১৭ নভেম্বর তথ্যমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা।
(ওএস/এএস/নভেম্বর ১১, ২০২১)
