মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সম্পাসী গ্রামে৮ বছরের শিশু আব্দুল হাসিম মাহিম বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১২ ডিসেম্বর রবিবার মাহিম এর বস্তাবন্দি মরদেহ মনু নদীতে পাওয়া যায়। 

জানা গেছে, শিশু মাহিম তাঁর মায়ের সাথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের পূর্ব সম্পাসী গ্রামে তাঁর নানা বাড়িতে বসবাস করে আসছিলো। গত শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশের খেলার মাঠ থেকে নিখোঁজ হয় সে। এরপর থেকে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন রবিবার সকালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ মনু নদীতে ভেসে ওঠতে দেখে স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনার পর নদীতে পড়ে থাকা শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহের ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্মম ও পাশবিক এ ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক এর নেতৃত্তে অনুসন্ধানে মাঠে নামে পুলিশের একটি দল। নিহত শিশুর বাবা বদরুল ইসলাম বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে সাব্বির বক্স (১৯) নামের এক যুবক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেই মাত্র এক হাজার টাকা পাওনার জন্য মাহিমকে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার জন্য মনু নদীতে ফেলে দিয়ে আসে বলে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর গত সোমবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয় আসামী সাব্বির বক্সকে।

তবে আটক অন্য দুজন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কোন প্রমান পাওয়া যায়নি বলে জানান, মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, সাব্বির কিছুটা অশৃঙ্খল প্রকৃতির, শিশু মাহিম ও সাব্বির একসাথে অনেকসময় খেলাদুলা করত বলে আমরা জানতে পারি।

এদিকে ৮ বছরের শিশু আব্দুল হাসিম মাহিমকে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সম্পাসী সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় মেম্বার প্রার্থী জুয়েল আহমদ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ, চেয়ারম্যান প্রার্থী এমদাদুর রহমান রেনু, চেয়ারম্যান প্রার্থী ফখরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।

এসময় বক্তারা বলেন, এই ছোট্ট অবুঝ শিশুটিকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান এবং এ ধরনের ঘটনা আর যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সকল অভিভাবকদেরকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, যদি এই শিশুর হত্যাকারীরা আইনের কোন ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে আসে তবে এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিবে।

অপরদিকে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর শিশু মাহিম এর জানাযার নামাজ তাঁর নানা বাড়ী সম্পাসী গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আত্মীয় স্বজন ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন, আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

(একে/এসপি/ডিসেম্বর ১৪, ২০২১)