কর্ণফুলী প্রতিনিধি : শীতের শুরুতেই চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে পিঠা বিক্রির ধুম।শীতের এই মৌসুমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাট-বাজারগুলোর ভাপা মিঠা ও চিতই পিঠার দোকানগুলো ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে। ফকিরনীর হাট, ফাজিল খাঁর হাট, জামতলা বাজার, কলেজ বাজারসহ বিভিন্ন বাজার, রাস্তার মোড়ে এবং এলাকার অলিগলিতে ব্যবসায়ীদের পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে এই পিঠাগুলো খেলে থাকবে কি ভালো শরীর? এটাই প্রশ্ন এখন জানার মত। কারণ এই পিঠা গুলোতে নানা জীবাণু ভরা।

এই বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলার স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদ জানান, রাস্তার পাশে খোলা বাজারে তৈরি পিঠাতে ধুলাবালিসহ নানা রকম জীবাণু লেগে যেতে পারে। ফলে হতে পারে ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ নানা ধরনের কঠিন শারীরিক সমস্যার কারণ। তাই পিঠা তৈরি ও তা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ক্রেতারা জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে বাসায় পিঠা তৈরি করে খাওয়া অধিকাংশ সময়ই সম্ভব হয় না। ফলে রাস্তার পাশের দোকান থেকে কিনে খাই।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এ ব্যবসায় তেমন পুঁজি লাগেনা। জ্বালানী হিসেবে লাকড়ি বা খড়ি, কিছু গুড়, নারকেল ও চালের গুড়ো হলেই হয়। প্রতিবছর শীতে পিঠা বিক্রি করে তারা ভালো আয় করেন।

স্থানীয়রা জানান, পিঠা বিক্রি জমে উঠে সন্ধ্যার পর থেকে। সন্ধ্যায় পরে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকে অনেক বেশি। দোকানগুলোতে এক একটি পিঠার দাম নেওয়া হয় পাঁচ থেকে দশ টাকা।

জানতে চাইলে এক পিঠা বিক্রেতা বলেন, ‘প্রতিবছর শীত এলেই আমরা পিঠা বিক্রি শুরু করি। শীতের প্রকোপ যত বেশি থাকে পিঠা বিক্রিও তত বেড়ে যায়।’

আরেকজন বলেন, ‘প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক থেকে দেড় হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করি। শীতের তীব্রতা যতই বাড়ছে, পিঠার বিক্রি ততই বেড়ে যায়।

দোকানে পিঠা খেতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘শীতের সময় ভাপা ও চিতই পিঠা খাওয়ার মজাই অন্যরকম। গরম গরম ভাপা পিঠা দেখলে লোভ সামলানো দায়।’

পিঠা বিক্রেতারা জানান, এখন বিক্রি বেশি থাকায় লাভের পরিমাণও একটু বেশি। স্বাস্থ্যসম্মতভাবেই পিঠা তৈরি করছেন বলে দাবি তাদের।

(এম/এসপি/ডিসেম্বর ২২, ২০২১)