দখলে থাকা ভরাট খাল উদ্ধার করে স্বেচ্ছায় খনন শুরু
মো. আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের খাইঞ্জার হাওর ও বিন্নার হাওরের মধ্যদিয়ে দিয়ে প্রবাহিত লছিধারা ছোট্ট খালটি স্বাধীনতার অনেক আগে থেকে দীর্ঘ সময়ে ভরাট হয়ে দখলে থাকার পর অবশেষে প্রশাসনের সহায়তায় খালটি উদ্ধার করে পাঁচশত মিটার স্বেচ্ছায় খনন কাজ শুরু হয়েছে।
রবিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা রহমান বাঁধন এর উপস্থিতিতে এক্সভেটর যন্ত্র দিয়ে এখনন কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ব্যক্তি উদ্যেগে খালটি খননের ফলে এই হাওরের কৃষি ও মৎস সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুপুরে খাল খনন উদ্বোধন করতে সরেজমিন উপস্থিত হন, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা রহমান বাঁধন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান,জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ, ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোশাররফ টিটু ও ইউপি সদস্য ইমরান আহমদ সহ বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা। এরপর জেলা প্রশাসক কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিসহ উপস্থিত সকলকে নিয়ে মুক্ত আলোচনায় বসেন। সেখানে খাল খননে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য শুনেন জেলা প্রশাসক। এসময় ওই হাওরের কৃষক নিখিল কুমার দাস বলেন,স্বাধীনতার অনেক আগে থেকে খালটি ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন এই হাওরের কৃষকরা। খালটি ভরাট হওয়ায় স্থানীয় একটি চক্রের কাছে জিম্মি ছিলো প্রায় ১শত কৃষক পরিবার। এই দীর্ঘ সময়ে ভরাট খালটির ভুমি দখলে ছিলো ওই চক্রটির হাতেই। ফলে ধিরে ধিরে খালটি তার অস্তিত্ব হারায়।
সূত্রে জানা যায়,বর্তমানে ব্যক্তি উদ্যেগে স্থানীয় একটি সংগঠন ও কৃষকদের সহায়তায় প্রায় ৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে খালটি স্বেচ্ছায় খনন শুরু হয়েছে। খনন কাজ সম্পন্ন হলে খালের দু’দিকের বাঁধে নানান জাতের গাছ রূপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খাল খননের ফলে রবি মৌসুমে এই হাওরে কৃষকরা নানান জাতের ধান চাষ ছাড়াও ভুট্টা,গম ও সূর্যমূখী চাষ করতে পারবেন। যাতে সর্বত্মক সহায়তা দিবে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন,কৃষক ভাইদের একটাই দাবী ছিলো আমাদের পানি দেন আমরা ফসল দেবো। এই খালটি অনেক পুরনো একটি খাল ছিলো যা বর্তমানে ভরাট হয়ে গেছে। আমাদের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জনপ্রতিনিধিসহ সবাই মিলে খালটি উদ্ধার করে কাজ শুরু হলো। আশা করছি দু’একদিনের মধ্যেই খালটি কনন কাজ সম্পন্ন হবে এবং আগামী সাপ্তাহ থেকেই কৃষকরা বুরো চাষ শুরু করতে পারবেন। এসময় তিনি বলেন, আগামী মৌসুমে কৃষি প্রণোদনার আওতায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদেরকে বিনামূল্যে সার দেবো। ফলে আশপাশের কয়েকশ একর জমি কৃষির আওতায় চলে আসবে,এতে আমাদের কৃষকরাও উপকৃত হবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান জমি উদ্ধারে সবার সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খালটি একেবারেই স্বেচ্ছাশ্রমে হচ্ছে, সুতরাং এটি সকল জেলার জন্য একটি ম্যাসেজ। খালটি সরকারিভাবে খনন হলে তাতে প্রায় ৫০লক্ষ টাকা ব্যায় হতো। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই কাজে ট্যাকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে যাবে।
(একে/এএস/জানুয়ারি ৩০, ২০২২)
