মো. আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের খারপাড়া গ্রামের আজিজ আহমদ টুটুর বাড়িতে ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য ও কুখ্যাত ডাকাত রাশেদ ওরফে রাশেদ ডাকাতকে ডাকাতির ঘটনার আড়াই বছর পর গ্রেফতার করেছে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি দল। 

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামে কুলাউড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় ভূষন রায় ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদে খবর পেয়ে পুলিশের চৌকস একটি দল অভিযান চালায়।

এসময় ওই এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের মৃত মোক্তার আলীর ছেলে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য কুখ্যাত রাশেদ ডাকাত ওরফে রাশেদ মিয়াকে (২৮) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই রাত পৌনে ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পৌনে একঘন্টা ব্যাপী কুখ্যাত রাশেদ ডাকাতের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ডাকাতদল কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের খারপাড়া গ্রামের আজিজ আহমদ টুটুর ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় ডাকাতরা ঘরে রক্ষিত নগদ ৯৫ হাজার টাকা,৮টি মোবাইল ফোন,১টি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার,১টি পালসার ও ১টি হুন্ডা সিবি হরনেট মোটরসাইকেলসহ মোট সাড়ে আঁট লক্ষ টাকারও বেশি মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বাড়ির মালিক আজিজ আহমদ টুটুর ছেলে আহমদ সিহান বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে লুটকরা মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। তবে ৬ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রাশেদ দীর্ঘদিন ছিল ধরাছোঁয়ার বাহিরে। অতঃপর ঘটনার আড়াই বছর পর রাশেদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষন রায় জানান, রাশেদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছিলো কুলাউড়া থানা পুলিশ। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পর রাশেদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

(একে/এএস/ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২২)