ফরিদপুর মেডিকেলের প্রধান সহকারি শামছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, ফরিদপুর : ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে প্রধান অফিস সহকারি মোঃ শামছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম স্বজনপ্রীতি, ও টেন্ডারবাজির ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঠিকাদারের।
জরুরী ভিওিতে বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত চান ভুক্তভোগীরা। শামছুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে বহু ছেলে মেয়েরা চাকুরী হারিয়েছে। আবার রাতের অন্ধকারে তার ইচ্ছা মাফিক আউটসোর্সিং এ নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে।এরও একটি তদন্তের দাবি উঠছে।
এলাকাবাসী বলছেন ১৫/২০ দিন পরপরই কোন টেন্ডার নিয়োগ বিজ্ঞতি ছাড়াই কথিত আউটসোর্সিং এর নামে লোক নিয়োগ হয়েছে এবং বাতিলও হয়েছে। এর সব কিছুর প্রমান মিলবে প্রধান সহকারী সামসুর রহমানের রুম সিল করে সমস্ত ফাইল পত্র জদ্ব করলে। বেড়িয়ে পড়বে থলের বিড়াল। তার মুখে মধু অন্তরে বিষ। তিনি হাসপাতালের প্রধান গেটের দঃ পাশে খেজুর গাছের গোরায় বসে বাদশার মেয়েকে চাকুরী দিয়ে, শেষ পর্যন্ত ইজ্জত খুয়ালেন ওয়ার্ড মাষ্টার সাখাওতের।
মাত্র দুই /তিন মাস আগে বড় বাবুর প্রিয় বয়াতি কাম পালা গানের নায়িকাকে ওয়ার্ড মাস্টারের বাসায় পাঠিয়ে শেষ খেলাটাও খেলেে নিলেন। এমন অভিযোগ হাসপাতাল জুড়ে। বিনিয়ে সাখাওয়াত হারিয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। এবং সন্তানের সামনে গেছে তার ইজ্জত। এই আলোচনা এখনও হাসপাতালের বারান্দায় উড়িয়ে বেরায়। শাখাওয়াত ইজ্জড ও চাকুরী বাঁচাতে পরিচালকের রুবে নার্সের নেতা/ নেত্রীদের সামনে ঐ মেয়ের পায়ে ধরতেও বাধ্য হন। সবই ছিলো শামছুর খেলা।
হাসপাতালের নিরিহ ভদ্র, গরীব কিন্ত মার্জিত এবং ইজ্জত খুয়ানো বহু নারীর আর্তনাদ তাও এই ভদ্রবেশী শামসুর রহমানের কারণে। তিনি মিষ্টিভাষীর মুখোশ পড়ে বহু আওয়ামীলীগ করা পরিবারকে বোকা বানিয়ে শুধু নিয়োগ কমিটির দোহাই দিয়ে আম ছালা দুটোই গিলে খেয়েছেন এবং খাচ্ছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর চাকুর করছেননএকই প্রতিষ্টানে। সেখানেই বড় বাবু, বাবুর মত নয় বীরদর্পে চাকুরী করছেন। তার ইচ্ছা ছাড়া এক গ্লাশ পানিও কোন টেবিলে স্হানান্তর হয় না। অথচ তার কথা আসলে আমি কোন কিছুই জানিও না পারিও না। সব জানেন বুঝেন, পরিচালক স্যার।
দীর্ঘ ২৭ বছর চাকুরীর সুবাদে, যেদিন থেকে তিনি বড় বাবুর দায়ীত্ব পেলেন সেদিন থেকেই তার কপাল খুলে গেল নাম উঠলো ধনির তালিকায় । তার এই বিশাল ঐশ্বর্য্যের পেছনের রহস্যটা কি? তিনি ২৭ বছর আগে কি ছিলেন? বড় বাবু হওয়ার পর কতগুলো নিয়োগ তার হাতে হয়েছে? কতগুল ছেলে মেয়ে আউটসোর্সিং এ চাকুরী পেয়েছে, কত টাকার বিনিময়ে? আবার যারা আউটসোর্সিং এর চাকরী হারিয়েছেন কি কারনে চাকুরী হারিয়েছেন সব বিষয় খোঁজ খবর নিলে যে, কোন সুস্হ মানষের শরীর কেঁপে উঠবে।
ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চাকুরী করে মোঃ আতিয়ার, এবং হাসপাতালের বড় বাবুর মোবাইল নম্বর, আতিয়ারের দুটি মোবাইল নম্বরের সিডিয়ার উওোলন পূর্বক বিচার বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনলে সমস্ত গোপন লেনদেন এবং নিয়োগ বাণিজ্যের সমস্ত তথ্য বেরিয়ে পড়বে।প্রমান হবে কত জনের সাথে তার কত লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, আতিয়ারের মিডিয়া শামছু কত টাকার মালিক হয়েছেন।
পাশা-পাশি তার সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের খবর নিলে বহু না জানা তথ্যে চোখের সামনে চলে আসবে। বড় বাবু দায়ীত্ব পালনকালীন অবস্হা যতোগুলো কেলেঙ্কারির ঘটনা ও চুরির ঘটনা ঘটছে সমস্ত মিমাংশার করেছেন বড় বাবু তথা শামছু নিজে। সর্বশেষ ২০২১-২০২২ /১৭০৯ নং আইডি তারুখ ২১/১১/২০২১ সালের টেন্ডার প্যাকেজ নং (১) এর লট নং ০১-০২-০৩ এর আওতায় আউটসোর্সিং এর তিন গ্রুপ টেন্ডার আহবান করা হয়।
টেন্ডার বিধিতে কিছু নিয়ম মানতে ঠিকাদারদের বলাও হয়। বিষয়টি যারা এই কাজে অংশ গ্রহন করবেন তাদের কম পক্ষে ৭০ পয়েন্ট নম্বর বা ইভিলেশন মার্কের আওতায় পড়লে কেবল তারাই আউটসোর্সিং এ লোকবল নিয়োগ টেন্ডারে অংশ গ্রহন করে ড্রপিং করতে পারবেন।
উপরন্ত যারা ১০০% ইভিলেশন মার্ক পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করছেন তাদের কাগজপাতি সরিয়ে শামছুর পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন বলে স্হানীয় ঠিকাদার মোঃ আবু সাঈদ টিটু (গ্লামার টি ফোর ইন্টার ন্যাশনাল) তিনি গনমাধ্যম কে বলেন আমরা নিয়মের মধ্যে থাকলেও শামছুর প্যাচ থেকে বেড় হতে পারিনি।
অপরদিকে, এই টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদার মোঃ কাওছার আহম্মেদ (পরিচালক ক্লিনটেক হাচান হোল্ডিং) তিনি গনমাধ্যম কে বলেন,আমি তিনটি গ্রুপে ১০০% ইভিলেশন মার্কের যোগ্যসম্পন্ন কাগজপাতি সহ সাবমিট করলেও ফাইলের কিছু কিছু কাগজ উধাও করে দেয় শামছু। ফলশ্রুতিতে, টেন্ডার অংশ নেওয়ার অযোগ্য বলা হয় আমাকে। যাহা খুবই দুঃখজনক।
তিনি আরো বলেন, শামছুর রহমান যাকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন, গলফ সিকিউরিটি সার্ভিস নামের প্রতিষ্ঠানটিক
যে প্রতিষ্ঠান মালিক এবিএস খান স্বপন, ২০১৫ সালের ঢাকা পলন্টন থানার মামলা নং ২০ এর আসামি। সরকার বিরোধী আন্দোলনে গাড়ী পোড়ানোর মামলায় তিনি ৫ দিনের রিমান্ডও খাটেন তিনি।
সরকারবিরোধী জামায়াত- বিত্রনপি সর্মথীত ব্যাক্তির প্রতিষ্টানটির সাথেও রয়েছে প্রধান অফিসহকারী মোঃ শামছুর রহমানের সাথে গভীর সখ্যতা। মোঃ কাওছার আরো বলেন, আমার জানামাতে শামছুর রহমান ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ব্যাক্তি আলী আহসান মুজাহিদ এবং মরহুম কামাল ইউসুফের কাছের এবং বিত্রনপির ঘরোনার লোক।কিন্তু এখানে দেখাযায়, টেন্ডাররের কমিটির দোহাই দিয়ে সবটাই করা হয়েছে বড় বাবু শামছুর ইচ্ছা মাফিক। আসলে সবকিছুই ঘুষের খেলা।
উল্লেখিত, সকল বিষয়ে এবং অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী মোঃ শামছুর রহমান গনমাধ্যম কে বললেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা ভিওিহীন, বানোয়াট, অযৌক্তিক, বিভ্রান্তর ও অসত্য। একটি অভিযোগই সঠিক নয়। আমি কখনই সরকারি নিয়মের বাহিরে চলি না। অফিসিয়াল ডেকোরেম সবসময় ফলো করে মেনে এবং বুঝে চলি।
উল্লেখিত বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ সাইফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার জানামতে আউটসোর্সিং এর টেন্ডারে কোন রকম কোন অনিয়ম হয়নি। সকল বিধি নিয়ম মেনেই সকলের অংশগ্রহণে এই কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। যারা কাজ পাননি তারা রাগের বশবর্তী হয়ে অনেক অভিযোগ করতে পারেন, তাদের কোন অভিযোগই সত্যও সঠিক নয়।
(ডিসি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২)
