এ কে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এ এফ এম শফীউদ্দিন (পাতা) এর ২২ বছর পূর্বের ডিভোর্সি প্রথম স্ত্রী নিমজুয়ারা বেগম ভুয়া ওয়ারিশ সনদপত্র তৈরি করে সম্পত্তির ভাগ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে দ্বিতীয় স্ত্রী। 

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পাংশা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন দি মেডিকেল হলে সংবাদ সম্মেলন করে দ্বিতীয় স্ত্রী দীনা খন্দকার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিভিল সার্জন প্রয়াত ডা. এ এফ এম শফীউদ্দিন (পাতা) আমার স্বামী। তিনি ২০২১ সালের ৩ আগস্ট করোনায় ‍আক্রান্ত হয়ে ঢাকা শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলজি ইনস্টিউট ও হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর প্রায় ৪ বছর আগে ২০১৮ সালের ৬ মার্চ তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি আমিসহ ছয়জনের নামে ওয়ারিশ করে গেছেন। ছয়জনের মধ্যে আমি ও সন্তান জারিফাহ জারিন উর্বি ও আতিফ এহসান অঝর এবং তার ডিভোর্সি (প্রথম) স্ত্রীর তিন সন্তান জান্নাতুল ফেরদৌস মৃদু, রওনক জাহান নিঝু ও ফুয়াদ জামিল দীপ্ত।

তিনি ‍আরো বলেন, তিনি তার প্রথম স্ত্রী নিমজুয়ারা বেগমকে আজ থেকে প্রায় ২২ বছর পূর্বে গত ২০০০ সালের ১৩ ডিভোর্স দেন। প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়ার পর ২০০০ সালের ২২ জুলাই আমাকে বিবাহ করেন। তিনি প্রথম স্ত্রী নিমজুয়ারা বেগমকে ডিভোর্স দেয়ার কারণে তার নামে সম্পত্তির ওয়ারিশ করে যাননি।

দীনা খন্দকার বলেন, আমার স্বামী পাংশা পৌরসভার ভোটার ছিলেন না। তিনি পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের সাজুরিয়া গ্রামের ভোটার ছিলেন। অথচ তিনি মারা যাওয়ার পর তার ডিভোর্সি (প্রথম) স্ত্রী পাংশা পৌরসভা থেকে একটি ওয়ারিশ সনদপত্র তৈরি করে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির দাবি করছেন। পাংশা পৌরসভা কর্তৃক এ ওয়ারিশ সনদপত্র সম্পুর্ণ ভুয়া। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর এই ভুয়া ওয়ারিশ সনদপত্র তৈরি করে আমার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগ নেয়ার জন্য মারিয়া হয়ে উঠেছেন তার সেই ডিভোর্সি স্ত্রী নিমজুয়ারা বেগম।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান।

(একে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২)