কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক টু পুরাতন ব্রীজঘাট সড়ক
৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক প্রশস্ত করেও মোড়ে মোড়ে ঝুঁকি!
জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্পে মইজ্জ্যারটেক হতে পুরাতন ব্রীজঘাট চলমান সড়ক প্রশস্তকরণ ও দুটি সেতু নির্মাণ করেও এ সড়কের প্রতি মোড়ে মোড়ে ঝুঁকি রয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এ সড়কের কাজ প্রায় শেষ বলা যায়। এর মধ্যে কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা, চরলক্ষ্যাবাসীর কপালে দুঃচিন্তার ভাঁজ তৈরি হয়েছে। কেনোনা, এ সড়কে রয়েছে একাধিক মিলকারখানা, স্কুল কলেজ, কিন্ডারগার্ডেন ও গার্মেন্টস। রয়েছে শহরে আসা যাওয়ার বিভিন্ন সাম্পান ঘাট। ফলে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে ৩০/৪০ হাজারেরও অধিক মানুষ।
কিন্তু চরপাথরঘাটা ও চরলক্ষ্যাবাসী বলছেন, এ মুহূর্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বড় চ্যালেঞ্জ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে প্রাণহানি কমানো। সড়ক, যানবাহন এবং দক্ষ চালক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলার তিন মূল নিয়ামক। কিন্তু এখানে এর কোনোটিই ত্রুটিমুক্ত নয়। সন্ধ্যার পর হেলপারের হাতে ভারি যানবাহন তুলে দিয়ে প্রকৃত ড্রাইভার ঘুমাতে যায়। তখন পুরো সড়ক ট্রাকের দখলে থাকে। ফলে, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রতিনিয়ত মইজ্জ্যারটেক টু ব্রিজঘাট সড়কে নানা ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
আবার পুরাতন ব্রিজঘাট বাজার এলাকা মোড় ট্রাফিকের বিভাগের আওতায় হলেও আইন প্রয়োগে এ সড়কে সুশৃঙ্খল রাখার ব্যবস্থাও কার্যকর নয়। সেখানে বড় বাধা দুই সেতুর মুখ। সেতুর মুখে চার রাস্তার মুখ মিলিত হওয়ায় ঝূঁকি বাড়িয়েছে বলে লোকজনের ধারণা।
খোয়াজনগর এলাকার আব্দুন নুর, কামাল উদ্দিন ও ছাবের আহমদ বলেন, ‘আইকেসি সড়ক ও আয়ুব বিবি সড়কের মুখ প্রশস্ত করে জায়গা বাড়ানো উচিত। যাতে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা নিরাপদে আসা যাওয়া করতে পারে।পাশাপাশি সেতুর আগে পড়ে স্পিড ব্রেকারই ও দাগ কেটে আন্ডারপাস দেওয়া অতীব জরুরী। তাদের দাবি, বিশৃঙ্খলার মধ্যেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ৩৫ কোটি টাকার সড়ক। দরকার জনপ্রত্যাশা মেনে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দুর্ঘটনা কমানো ছাড়া সওজের কোনো বিকল্প নেই।
দোহাজারী সড়ক ও জনপথ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন সিংহ বলেন, ‘মইজ্জ্যারটেক চত্বর থেকে পুরাতন ব্রিজঘাটের দিকে যে সড়ক চলে গেছে তাতে দুটি সেতু রয়েছে। সেতুর আগে পরে স্পিড ব্রেকার দিলে আরো সমস্যা হবে বলে মনে হয়। তাই আপাতত এ ধরনের কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। তবে জনগণের সচেতন হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প আছে বলে আমি মনে করিনা। আগে ভাঙ্গা সেতু ছিল এখন ভালো মানের নতুন সেতু হওয়ায় সব গাড়ি স্পিডে চলছে তা ঠিক। তারপরেও স্থানীয়দের কথা ভেবে দেখব।’
প্রকল্প প্রস্তাবনা ও দোহাজারী সড়ক ও জনপদ উপ-বিভাগের দেওয়া তথ্য সুত্রে জানা যায়, ‘দুই বছর আগে সড়কটিতে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছিলো। বর্তমানে সড়ক উন্নয়নে কর্ণফুলীতে একাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে বৃহৎ প্রকল্পে উপজেলার মইজ্জ্যারটেক (বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু) চত্বর থেকে পুরাতন ব্রিজঘাট ফেরিঘাট সড়ক-বিএফডিসি সড়ক-আরবান আলী সড়ক পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে প্রশস্ত করা হয়েছে এবং এ সড়কে থাকা দুটি পাকিস্থান আমলের পুরাতন সেতু ভেঙে নতুন ভাবে দুটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।’
সওজ আরো বলেন, সেতুর দৈর্ঘ্য করা হয়েছে ৩২ মিটার-৩৬ মিটার, প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার । মইজ্জ্যারটেক থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের প্রশস্ত করা হয়েছে ১৮ ফুট হতে ২৪ ফুটে উন্নতিকরণ। বাকি দুই কিলোমিটার সড়ক ১২ফুট হতে ১৮ ফুটে বর্ধিত করা হয়েছে। সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এ সড়কের প্রকল্প ব্যয় ছিল ৩৪ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা প্রায়। যে প্রকল্পের কাজের সময়সীমা ছিল গত ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ প্রকল্পের কাজ শেষ করে চলেছেন তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান-রানা বির্ল্ডাস প্রাইভেট লিঃ, হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিঃ ও সালেহ আহমেদ জে.বি।
তবে অতিগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এসব কাজ দেখে স্থানীয় লোকজন মনে করেছেন প্রকল্পের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছুটা অবহেলা করা হয়েছে।
(জেজে/এসপি/মার্চ ০৪, ২০২২)
