কর্ণফুলীতে চলছে একের পর এক সম্মেলন
খাদে পড়া যুবলীগকে টেনে তোলার চেষ্টা সোলায়মান-সেলিমের!
জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর পাঁচ ইউনিয়নে চলছে আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সুসংগঠিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগ। নিজেদের কমিটি মেয়াদত্তীর্ণ তবুও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে জাঁকজমক ভাবে একের পর এক সম্মেলন করে যাচ্ছেন। উপজেলা যুবলীগ দেশের করোনা সঙ্কটের কারণে তেমন কিছু করতে না পারলেও নানা সমালোচনায় খাদে পড়া কর্ণফুলী যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে চান।
সম্প্রতি, জুলধা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে সম্মেলন শেষ হয়েছে কমিটি বিহীন। বাকি রয়েছে তিন ইউনিয়ন চরলক্ষ্যা, শিকলবাহা ও বড়উঠান। যদিও শিগগিরই পাঁচ ইউনিয়নে বিশাল আয়োজনে কমিটি দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আ.ম.ম. টিপু সুলতান চৌধুরী ও কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সোলায়মান তালুকদার-সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম হক।
ফলে, পদ পদবী পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবার দলের সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে থাকা নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ৯ বছর পর তৃণমূল ইউনিয়নে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে তাঁরা তাদের চাকুরী, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কাজকে পেছনে ফেলে ইউনিয়ন যুবলীগের পদে আসতে স্থানীয় ও উপজেলা যুবলীগের নজর কাড়তে ফেসবুক জুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের নেতাদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জড়িত থাকলেও পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় কয়েক শতাধিক নেতাদের কোন পব-পদবি নেই। তাঁরা শুধু নিজেদের নামের পাশে যোগ করতেন সংগঠক, কেউ তৃণমূল কর্মী ও কেউ ইউনিয়ন যুবলীগ।
তারপরও তাঁরা স্ব স্ব নেতার বলয়ে রাজনীতি করেছেন। এখন দলের কমিটি গঠন ও চাঙ্গাভাব ফিরে আসায় পদ পেতে তাদের অনুসারীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা কেউ সরাসরি সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেউ সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে ব্যাপক প্রচারনা চালাচ্ছেন।
এদিকে সম্মেলনের ঠিক আগ মুহুর্তে আবার অনেক জুনিয়র নেতাকর্মী তাদের সরব প্রচারনা বহাল রাখায় দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি করা সিনিয়র নেতারা অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী এক নেতা বলেন, অতীতে কোন ছাত্ররাজনীতি কিংবা বঙ্গঁবন্ধুর আদর্শের অনুসারি না হয়েও যদি কেউ কমিটিতে বড় পদ পদবী পেয়ে যায়। তাহলে আমাদের স্থান কোথায় থাকবে ? নাকি আমরা সহযোগি সংগঠনের জুনিয়র নতুনদের নেতৃত্বে রাজনীতি করে যাবো বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, দল সকলের কার্যক্রম বিবেচনা করে দলীয় সাংগঠনিক পদ দিলে দলের প্রতি আস্থা বাড়বে সাধারণ মানুষের। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি দেবেন বলে আমরাও আশাবাদী।
এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাঁচ ইউনিয়নে যুবলীগের শীর্ষ পদে কারা আসছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বাকি তিন ইউনিয়ন সমন্বয় করে সম্মলেন প্রস্তুতি অনকেটাই সম্পন্ন। যদিও এখনো তারিখ ঘোষণা হয়নি।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আ.ম.ম. টিপু সুলতান চৌধুরী বলেন, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে আ’লীগের রাজনীতি করে যাচ্ছি। যে কোন জেলা উপজেলা ও ইউনিয়নে সম্মেলনের পূর্বেই সব জায়গায় পদ পেতে সক্রিয় হয়ে উঠেন আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেটি আমাদের জানা আছে। দলকে সুসংগঠিতের জন্য ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।'
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, যুবলীগ যেখানে যে অবস্থায় আছে তেমনই থাকবে। জেলা সম্মেলনের পরেই বাকিসব সিদ্ধান্ত হবে। কেন্দ্রীয় দুই নেতার সাথে চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন। ফলে, মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা সম্মেলন হবে মে-জুনে।
এমন পরিস্থিতিতে আদৌও কর্ণফুলীর পাঁচ ইউনিয়নে যুবলীগের কমিটি দেওয়া নিয়ে কোন সংশয় আছে কিনা জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি বলেন, কোন সংশয় নেই। আমাদের প্রিয়নেতা আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির নির্দেশেই আমরা কাজ করছি। আশা করি শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করা হবে।
কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান তালুকদার বলেন, ঈদের পরে জেলা যুবলীগের সম্মেলন হলেও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো দিতে কোন সমস্যা নেই। কারণ কেন্দ্রের নির্দেশেই আমরা পালন করছি। আর আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক মাননীয় ভূমিমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।'
প্রসঙ্গত, যুবলীগ এক অহংকার ও গৌরবের নাম। ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
(জেজে/এসপি/মার্চ ১৫, ২০২২)
