কর্ণফুলীর শিকলবাহা চরহাজারী সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে উধাও ঠিকাদার
জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ও জুলধা ইউনিয়নকে সংযোগ করেছে জনগুরুত্বপূর্ণ চরহাজারী সড়ক। বর্তমানে এই রাস্তার কিছু অংশে কাজ করে ঠিকাদার উধাও হওয়ার কারণে থমকে আছে এই এলাকার উন্নয়ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাটি খুঁড়ে ফেলে রাখায় মাত্র দুই কিলোমিটার সড়কটি এখন মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমনকি সংস্কারবিহীন সড়কটি সমতল ভূমিতে পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। চরহাজারী পাইপের গোড়া সড়কটি এখন অসহনীয় জনদুর্ভোগ।
শিকলবাহা ও জুলধা এলাকার স্থানীয় লোকজন বলেন, ‘দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও আমরা এই সুবিধা থেকে অনেক দূরে আছি। আমরা এই এলাকার মানুষেরা এখনো চরম ভাবে অবহেলিত। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন না করা পর্যন্ত শহরের সুবিধা কখনোই গ্রামে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এই সামান্য গ্রামীণ রাস্তাটিকে দ্রুত আধুনিকায়ন করে কৃষকসহ হাজার হাজার মানুষের ভাগ্যের চাকা সচল করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
যদিও কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় রাস্তার কাজটি কিছুটা করে ঠিকাদার পালিয়ে যায়। এই রাস্তার কাজ এখন স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবে নেই কোনো কাজের অগ্রগতি। কাঁচা সড়কের বহু অংশ খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। অনেক জায়গায় ঠেলাগাড়ি চলাচলও অনুপযোগী। গ্রামের মাঝখানে বয়ে যাওয়া রাস্তাটি এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে- এমন অভিযোগ দুই ইউনিয়নবাসীর।
দুর্ভোগ আর দুঃচিন্তা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর কষ্ট পাচ্ছে জুলধা-শিকলবাহার মানুষ। কেননা, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্ত, দুর্ভোগের সীমা নেই। জনপ্রতিনিধি কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কাছে রাস্তাটির বর্তমান শোচনীয় অবস্থা জানালেও সুফল পাচ্ছে না গ্রামবাসী। নতুন টেন্ডারে কাজ হবে এমন আশ্বাস দিলেও রাজস্ব বিভাগ থেকেও কোন প্রকল্প দেওয়া হচ্ছে না। ঝিমিয়ে রয়েছে উপজেলা পরিষদ। অন্যদিকে, কোটি কোটি টাকার কাজ শুধুমাত্র কোটেশন দেখিয়ে পছন্দেও ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে বলে স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ।
এদিকে, প্রয়োজনীয় এই সড়কটির উন্নয়ন না হওয়ায় দুই ইউনিয়নের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিপণ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পশ্চাৎপদ জনপদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জুলধা এলাকার শাহাজাহান ও মনির বলেন, ‘উপজেলার অনেক সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে। কিন্তু মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে তবুও চরহাজারী সড়কের সংস্কার কাজ নতুন করে ধরা হচ্ছে না। অথচ ঠিকাদার পালিয়ে গেলে নতুন টেন্ডারে কাজ হতে পারে।’
সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দ্রুত সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এত বড় বাজেটের কাজ করা সম্ভব না।’
শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও জুলধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল হক বলেন, ‘সড়কটির বেহলা দশার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এটা সত্য। চেষ্টা করব উপজেলা পরিষদে বিষয়টি জানিয়ে রাজস্ব থেকে হলেও সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করে তোলার।’
সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলজিইডির উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সড়কটির এস্টিমেট ঢাকায় পাঠিয়েছি। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। পরে সে অল্পটুকু কাজ করে চলে যায়। আগের টেন্ডার লেফট হয়ে গেছে। এখনো নতুন ঠিকাদার সিলেক্টশন হয়নি। চিটাগাং টু গ্রেডের কাজ এটি। আমরা চেষ্টা করতেছি রাজস্ব থেকে কাজটি করার। তার জন্য স্টিমিট গ্রহণ করা হয়েছে।’
(জেজে/এএস/এপ্রিল ০৭, ২০২২)
