চসিক-প্রশাসনের নীরবতায় পিঠ ঠেকেছে দেয়ালে
তিন দাবি আদায়ে সোচ্চার হচ্ছে ডাঙারচরের মানুষ
জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর সল্টগোলা ঘাট ও নদীর ওপারে ডাঙারচর ঘাটে ভাড়া বৃদ্ধি ও ঝূঁকিপূর্ণ পারাপারের অভিযোগে হাজার হাজার জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছেন কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙারচরবাসী।
সাধারণ মানুষ বলছেন, তাদের তিনি দাবি-জনপ্রতি ভাড়া ১০ টাকার বেশি বৃদ্ধি করা যাবে না। ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ঝূঁকিপূর্ণ পারাপার ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
এসব দাবি জানিয়ে তাঁরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র, জেলা প্রশাসক, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ ও জুলধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছেন।
জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকেই ডাঙ্গারচরবাসী মৃত্যুফাঁদ খ্যাত সল্টগোলা ঘাট নিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করে আসছেন। কেননা, অন্যান্য ঘাট থেকে ‘ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাট’ সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ এই ঘাটের ৯০ শতাংশ যাত্রীই স্থানীয়। বলা যায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। যারা সকালে জীবিকার তাগিদে নদী পার হয়ে শহরে যায়। আবার সন্ধ্যা হলেই বাড়ি ফিরে।
মূলত চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক, সিইপিজেডের গার্মেন্টস কর্মী, সাধারণ কৃষক ও স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী এই ঘাটের নিয়মিত যাত্রী। তথ্য পাওয়া যায়, মাত্র ২/৩ বছর আগেও এই ঘাটের ইজারা মূল্য ছিল ১৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তখন ভাড়া ছিলো জনপ্রতি মাত্র ৬ টাকা। ইজারাদারের অসম প্রতিযোগিতায় এই ঘাট এখন ৩৮ লক্ষ ৪০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। যা গতবারের চেয়ে অধিক।
করোনার অজুহাতে ৬ টাকা ভাড়া ৮ টাকা হয়ে এখন ১০ টাকায়। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে তখন অসুবিধা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২২ সালের বৈশাখের প্রথম দিন থেকে আবারও ইজারাদার/ সিন্ডিকেট কতৃর্ক ঘাটের ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা শুরু করেছে।
ফলে, এলাকার সচেতন নাগরিকরা ইতিমধ্যে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন। যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা রয়েছে জনপ্রতি ১০ টাকা। সেই হিসাবে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছাড়া ভাড়া এক পয়সাও ভাড়ানোর সুযোগ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, সল্টগোলা-ডাঙ্গারচর ঘাটে ইঞ্জিন চালিত বোট রয়েছে মাত্র ২টি। যাত্রীরা সকাল-সন্ধ্যায় এতে খুব সমস্যায় পড়েন। প্রতি নৌকায় যাত্রী নেওয়া হয় ৪০-৫০ জনের মত। তাছাড়া নৌকার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে একটি নৌকা বন্ধ বা ইঞ্জিন নষ্ট হলে ১টি নৌকা দিতে সব যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হতে হয়। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিদিন ৩ হাজার যাত্রী পারাপার হলে ২ টাকা করে বেশি নিলে দৈনিক বাড়তি ভাড়ার লোভ ৬,০০০ টাকা। তাহলে শুধু এক বছরে বেশি আদায় করবে ২১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। অথচ ঘাটের টেন্ডার বেড়েছে মাত্র ৪ লক্ষ টাকা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঙারচর এলাকার সাবেক জনপ্রতিনিধি ও যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘যাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলছি-টাকা আপনার পকেটে, জোর করে কারো বাপের সাহস নেই কেড়ে নেবার। সবাই একতাবদ্ধ থাকেন। ১০ টাকার বেশি ভাড়া মেনে নেবেন না। আমরা যে যার অবস্থান থেকে সাধারণ মানুষের পাশে সকলে এক হই। একতাই শক্তি। প্রয়োজনে সকলে মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন করব।’
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা সুলতানা বলেন, ‘যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া বৃদ্ধি বিষয়ে ডাঙারচরবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। যদিও ঘাটটি ইজারা প্রদান কওে থাকেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তবুও যাত্রী হয়রানি বন্ধে ব্যব্স্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী বলেন, ‘ঘাটে যাত্রী হয়রানির বিষয়ে কেউ আগে অভিযোগ করেনি। আজকেই বিষয়টি শুনলাম। শিগগিরই সল্টগোলা-ডাঙারচর ঘাটে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর রাজস্ব কর্মকর্তা সৈয়দ সামশুল তাবরীজ বলেন, ‘ঘাটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে একের পর এক নানা লিখিত অভিযোগ আসতেছে। বিষয়টি আমরা সামনের মিটিং এ আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেব। আর যাত্রী হয়রানি বন্ধে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর অভিযান রয়েছে এবং সব সময় থাকবে।’
(জেজে/এসপি/এপ্রিল ১১, ২০২২)
