কর্ণফুলীতে এক বাড়িতেই ১৬ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত!
জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম : কয়েক দিনের গরমে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায়ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। আশেপাশের হাসপাতাল গুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি আছেন। শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতে রেখেই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
গত শনিবার কর্ণফুলীর উপজেলার জুলধা ডাঙ্গারচর ১ নং ওয়ার্ডের হাজী সমদ মিঞার বাড়ীতে একই সঙ্গে ১৬ জন (শিশু, নারী ও বয়স্ক লোকজন) ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হন। সাথে সাথে তাঁদের নগরীর ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ডায়রিয়া ইউনিটে পাঠানো হয়।
এরা হলেন-গোলাম সরোয়ার (৩৮), সাঈদ হোসেন (১৬), ফরিদা বেগম (৯৫), শামিমা বেগম (৩৫), নার্গিস আক্তার (ববি (৩১), মর্জিনা আক্তার (২৩), মাহবুব আলম (০৩) এবং ৩/৫ বছর বয়সি আরো ০৯ জন শিশু আক্রান্ত হন।
১১ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সাদিয়া আক্তার, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক কামরুন নাহার, স্বাস্থ্য সহকারী হাছিনা বেগম ও ডাঙারচর এলাকার কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিএইচসিপি শাহিন আকতার।
মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সাদিয়া আক্তার জানান, ‘প্রাথমিক ভাবে রোগী দেখে আমরা ধারণা করছি এ বাড়ির লোকজন পুকুরের পানি থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন । শিশুদের জিংক এবং খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছি। দিনে ৬ বার এর কম প্রস্রাব হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সকল রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী থাকায় তাকে আমরা বিশেষ সেবা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
তবে, পুকুরের পানি পরীক্ষাগারে পাঠানো কিংবা টেস্ট করার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তিনি জানাতে পারেননি।
ওদিকে, ডাঙারচর কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) শাহিন আকতার বলেন, ‘দিন দিন কেন্দ্রে ডায়রিয়া রোগী বাড়ছে। আমরা নোট করে নিয়মিত চিকিৎসা দিচ্ছি। সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, বিশুদ্ধ পানি পান করা ও ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি খাবার ভালো করে সেদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শ ও পচা-বাসি খাবার না খাওয়া এবং বাইরের খাবার পরিহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।’
পটিয়া ও আনোয়ারার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা বলছেন, গত বছরও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এত রোগী হাসপাতালের ভর্তি হননি। চলতি বছর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত গরমের জন্যই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। যাঁদের অবস্থা গুরুতর হচ্ছে, তাঁদের শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে ।
(জেজে/এসপি/এপ্রিল ১১, ২০২২)
