‘পাতানো’ পার্লামেন্টে শক্তিশালী বিরোধীদল নেই
স্টাফ রিপোর্টার : পার্লামেন্টকে অকার্যকর করা হয়েছে দাবি করে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পার্লামেন্টে কথা বলার মতো এখন তো আর কেউ নেই। একটা ‘পাতানো’ পার্লামেন্ট করেছেন। সেই পার্লামেন্টে শক্তিশালী বিরোধীদল নেই। কারণ সেই পার্লামেন্টে স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে হয়নি। তাই সেই পার্লামেন্টে মমতাজের গান হয়, কিন্তু সেখানে বিরোধীদলের ডিবেট হয় না। এইভাবে আপনি একটা ‘অনুগত’ পার্লামেন্ট বানানোর চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে গণতন্ত্র ফোরাম আয়োজিত এক প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে শক্তিশালী বিরোধীদল না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতা দেখিয়ে বিরোধীদলকে ‘গোরস্থানে’ রাখার ব্যবস্থা করেছেন, বিরোধীদল শক্তিশালী বলেই তো তাদের ‘গোরস্থানে’ পাঠাচ্ছেন, না হয় লাল দালানের মধ্যে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি বিরোধীদল হিসেবে এতই শক্তিশালী, আপনি তাদের এতই ভয় পান যে, তরুণ উদীয়মান নেতা ইশরাককে বন্দি করে রেখেছেন। মজনুর মতো তরুণ নেতাকে বন্দি করে রেখেছেন। শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, সুমন ভুঁইয়াদের মতো তরুণ নেতাদের বন্দি করে রেখেছেন।
মানুষের অধিকার নেই দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার, কথা বলার অধিকার, চলাফেরার অধিকার, নিজের বিশ্বাস নিয়ে কথা বলার অধিকার অধিকার সংবিধানে থাকলেও তা এখন বন্ধ। গণতন্ত্রের যে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড, আমরা সরকারের সমালোচনা করবো, সরকারের বিভিন্ন সমালোচনার মধ্যদিয়ে ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেবে বিরোধীদল। কিন্তু তারা বিরোধীদলের শক্তিকে এতই ভয় পায় যে তাদের ঠিকানা হয়েছে কারাগারে। বিভিন্ন ফর্ম পূরণ করতে গেলে আমরা যারা বিরোধীদল করি তাদের ঠিকানা লিখতে হয় কারাগার। আমাদের স্থায়ী ঠিকানা তো কারাগার।
রিজভী বলেন, জনগণের যে প্রবল স্রোত, আপনি দেখবেন কাকে বলে। সেই প্রবল স্রোত আপনার সরকারের দিকে ধেয়ে যাবে। আপনার প্রতিটি গ্রেফতার বিরোধীশক্তিকে আরও শক্তিশালী করছে। জনগণের আন্দোলনের স্রোতে আপনারা ভেসে যাবেন, সেই প্রস্তুতি জনগণ নিচ্ছে।
এসময় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গতকাল বিএনপির পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে দুর্নীতির একটা তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। এটাকে তিনি নাটক বলছেন। আমি বলি, নাটক বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন। নাটকতো লিখেছে পৃথিবীর বিখ্যাত নাট্যকার, লেখকরা। নাটকের মর্মার্থই হচ্ছে সমাজের যে বাস্তবতা তার প্রতিফলন। আপনি বলেননি কোন নাটক। আমার কাছে নাটক হচ্ছে সমাজজীবনে যা ঘটে তার বাস্তব প্রতিফলন নাটকে থাকে। আপনি প্রকারান্তে ঠিকই বলেছেন। বিএনপির এই নাটকে সমাজের প্রতিফলন আছে।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর ৭৫ হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হচ্ছে বিদেশে। এই সরকার ক্ষমতায় থাকার পর এই পর্যন্ত ১১ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। মিডিয়া ও খবরের কাগজে এসব এসেছে। আপনি এগুলোকে নাটক বলে উড়িয়ে দেবেন, কিন্তু আপনি জানেন না এটা হলো বাস্তব জীবনে নাটক।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমানসহ গণতন্ত্র ফোরাম ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
(ওএস/এএস/এপ্রিল ১২, ২০২২)
