সালথায় আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৩ নারী গ্রেপ্তার
সালথা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথায় পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৩ নারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার খারদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় সংঘর্ষে ব্যবহার করা জন্য প্রস্তুত রাখার প্রায় ১৫ বস্তা ভাঙ্গা ইট।
গ্রেপ্তার হওয়া নারীরা হলেন- রহিমা আক্তার, চাদনী বেগম ও শারমিন আক্তার। অপরজন হলেন- সাইফুল ইসলাম। তারা সবাই খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনুর রহমান গনমাধ্যমকে বলেন- রবিবার দুপুরে খারদিয়া থেকে পুলিশের উপর হামলার মামলার আসামি তারা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন এসআই মো. নাজমুল ও এএসআই মো. লিয়াকত হোসেন। ওই সময় ১৮-২০ জন নারী এগিয়ে এসে পুলিশের উপর ঝাপিয়ে পড়েন। নারীরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঝাপটে ধরে আলাদা করে ফেলেন। ওই সুযোগে পালিয়ে যান তারা মিয়া। তারা মিয়া মোট ৪টি মামলার আসামি। এই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৩ নারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সবাইকে ২১ এপ্রিল দায়ের করা পুলিশের উপর হামলা মামলার আসামী করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০ টার দিকে সরেজমিনে খারদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়- যেখান থেকে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে গ্রামের সেই ছয়আনি পাড়ায় সুনশান নিরবতা। নারী-পুরুষ কেউ বাড়িতে নেই। তবে এখানকার নারী-পুরুষ প্রায় সকলেই দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ভয়ে এখন তারা বাড়ি ছেড়েছেন বলে আশাপাশের নারীরা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নারী বলেন- যদুনন্দী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার সাথে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। রফিক চেয়ারম্যানকে মদদ দেন খারদিয়া গ্রামে বাসিন্দা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের শ্যালক ইলিয়াস কাজী, যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ন খা, টুলু মিয়া ও জাহিদ মিয়া। অপরদিকে আলমগীর মিয়াকে মদদ দেন- উপজেলা আ.লীগের সদস্য নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুর। তাদের ইন্ধনেই মূলত খারদিয়ায় মাঝে মাঝেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর এসব সংঘর্ষের ঘটনায় বলি হয় গ্রামের সাধারন মানুষ। তারা আরও বলেন- শুধু এই গ্রামের পুরুষরা নয়- নারীরাও এখন স্থির থাকতে পারে না। তারাও বিভিন্নভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত নারীরা পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়েও নিল। এটা আমাদের নারীদের জন্য কলঙ্কজনক ঘটনা। এখন কয়েকজন নারীর কারণে পুরো এলাকার নারীদের বদনাম হয়েছে।
(ওএস/এসপি/মে ০২, ২০২২)
