দিলীপ চন্দ, ফরিদপুর : ফরিদপুরে একের পর এক অপকর্ম করেই চলছে, ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো, প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কি ভাবে হবে কেউ তা বলতে পারে না,দেখার ও কেউ নেই।এর আগে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোর অপকর্মের কারণে প্রশাসন দুই একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে ও থেমে নেই আর সব প্রতিষ্ঠানের অপকর্ম।

ফরিদপুর শহরতলী পশ্চিম খাবাসপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মসজিদ গেটের পাশে মোহাম্মদ সুপার মার্কেটে অবস্থিত মোহাম্মাদ ডিজিটাল নামক একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। যেখানে দেখা যায়, নানান ধরনের টেষ্ট করার কথা বলে রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে টেষ্ট না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাডপেপারে ভোয়া রিপোর্ট লিখে রোগীর হাতে তুলে দিচ্ছে।

রোগীর সাথে থাকা অভিভাবক এর প্রতিবাদ করলে তাকে হাত-পা ভেঙ্গে ও চাদাঁবাজি করার হুমকি প্রদান করেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ১লা মে ২০২২ তারিখে, ফরিদপুর সদর গেরদা ইউনিয়নের ইকরি গ্রামের মো. সুলতান সেকের পুত্র সেক রাকিব(১৮) ডায়রিয়া সংক্রন্ত নিয়ে মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডাক্তার রাকিব কে রক্ত সহ চারটি টেষ্ট করতে দিলে, মোহাম্মদ ডিজিটাল সেন্টারের কর্মচারীরা তাদের ওখানে ভালমানের চেষ্ট করা হয় বলে নিয়ে যায়। রোগীর অভিভাবকদের কাছ থেকে টেষ্টের মূল্যে নিয়ে পরে আসতে বলে।

পরে যখন রোগীর অভিভাবক রিপোর্ট নিতে যায়, তার হাতে তিনটি রিপোর্ট মোহাম্মদ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামের প্যাডে দেয়, আর একটি রিপোর্ট মা মনি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নামের প্যাডে দেয়,পরে রোগীর অভিভাবক অন্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নাম দেখে সন্দেহ হয়।

তারা মামনি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করেন, তারা বলেন, এই রোগীর নামে বা এই আইডি নাম্বারে আমাদের এখানে কোন টেষ্ট করানো হয় নাই, যে রিপোর্ট আপনাদের কে তারা দিয়েছে সেটা ভোয়া রিপোর্ট।

এই ঘটনার বিষয়ে মোহাম্মাদ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক মো. রুকমান সেক বলেন, এই ঘটনার সময় আমাদের কোন কর্মকর্তা কেউ উপস্থিত ছিলো না, পরে বিষয়টি আমরা জানতে পারি।আর কাজ করতে গেলে ভুল তো হতেই পারে,এ নিয়ে এতো বাড়াবাড়ির কি আছে। পত্রিকা টিভিতে দিয়ে কি, করবেন, আপনাদের যা খুশি করতে পারেন, এই সামন্যতম বিষয় নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর সময় নেই।

এই সেন্টারের ভিতর কি কি মেশিন আছে,কি কি টেষ্ট করানো হয়, সেই বিষয়ে জানতে চাইলে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক সাংবাদিকদের বলেন,সেটার জবাব আপনাদের দেবো কেন,আপনারা কি প্রশাসনের লোক।বরং হাসপাতালে মালিক মো. রুকমান জানান, সিভিল সার্জন অফিসে আমার ভাই চাকুরী করে, আর এক মালিক মো. জামান বলেন, দুদকে আমার আপন ভাই রয়েছে, এই সামন্যতম বিষয় যদি মোকাবেলা না করতে পারি, তাহলে এখানে প্রতিষ্ঠান চালাতে পারতাম না।

ঘটনা সুত্রে আরো জানা যায়,দুর দুরান্ত থেকে মেডিকেল হাসপাতালে আসা রোগীদের কে টার্গেট করে,এই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে কর্মচারী নামক দালালরা,তাদের কে মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে সেন্টারে এনে নিঃস্ব করে ছেড়ে দেয়।শুধু কি ভোয়া রির্পোট, রোগীর সাথে থাকা টাকা পয়সা, মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র হাওয়া হয়ে যায়।তারি পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মাদ ডিজিটাল সেন্টারে মালিক কে একবার পুলিশ গ্রেফতার ও করেন।এই বিষয়ে রোগী অভিভাবক সিভিল সার্জন বরাবর১৭ই মে ২০২২ তারিখে একটি অভিযোগ প্রদান করেছেন।

হাসপাতালে মধ্যে থাকা বাইরে থাকা মানুষের অভিযোগের শেষ নেই,তারা জানান, আয়া,নার্স,ওয়ার্ড,সুইপার পর্যন্ত এখানে কমিশনের আশায় দালালি করে থাকে। আর তাদের একটি শক্তিধর চক্র এখানে কাজ করে থাকে। তাদের ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। ডাক্তারদের সাথে পর্যন্ত এদের জোকসূত্র রয়েছে। মাঝে মাঝে আইন প্রশাসন অভিযান করলে ও কিছু দিন পর আবার আগের জায়গায়।

এই বিয়ষে সিভিল সার্জন মো. সিদ্দিক হোসেন জানান।সরকারী বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠনের লাইন্সেস থাকতে হবে,তার পাশাপাশি একটি চেষ্টের যে নির্ধারিত মূল্যে সেটা নিতে হবে, কোন প্রকার বেশি টাকা নেয়ার প্রশ্নেই আসে না, বরংকোন অসহায় ব্যাক্তি যদি টাকা না দিতে পারে সেই ক্ষেত্রে তাকে কোন ধরনের জোরাজোরি করা যাবে না। আর ভোয়া রিপোর্টে সহ যে কোন ধরনের হয়রানী মূলকের সঠিক তথ্য পেলে আমরা আইনগত ভাবে তাতখনিক ব্যাবস্থা গ্রহন করব।

(ডিসি/এএস/মে ১৭, ২০২২)