সদরপুরে আলোচিত রাফসান হত্যার ১৩ দিন পর মামলা দায়ের
ইকবাল মাহমুদ হিরু, সদরপুর : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির শিশু পুত্র রাফসানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৩দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সদরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত রাফসানের পিতা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি। মামলা নং- ১৬, তারিখঃ ৩০/০৫/২০২২।
মামলার বিষয়ে সদরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, মামলা দায়েরের পর তদন্ত করে আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে। গত ১৮ মে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির সদরপুর উপজেলা সদরের বাড়ীতে হামলা করে দুবৃর্ত্তরা। এসময় চেয়ারম্যানের শিশু পুত্র রাফসানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অপরদিকে কুপিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করা হয় স্ত্রী দিলজাহান আক্তার রত্না। বর্তমানে দিলজাহান ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ ঘটনার পর হামলার হোতা এরশাদ মোল্লা জনরোষ থেকে বাঁচতে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল টিএন্ডটি টাওয়ারে উঠে সেখান থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। মামলা সূত্রে জানাগেছে, রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির সাথে বিরোধ চলছিল একই এলাকার মোস্তফা মৃধার। এ বিরোধের জের ধরে বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
সম্প্রতি, পারিবারিক কলহের জের হিসাবে এরশাদ শেখ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে শালিস বৈঠক করে চেয়ারম্যান। সেই শালিসে এরশাদ শেখকে জরিমানা করা হয়। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের উপর ক্ষিপ্ত হয় এরশাদ শেখ। এরশাদ মোল্যার ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে মোস্তফা মৃধাসহ আসামীরা গত ১৮ মে চেয়ারম্যানের সদরপুর উপজেলা সদরের বাড়ীতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা তার শিশু পুত্র রাফসানকে কুপিয়ে হত্যা করে। কুপিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে তার স্ত্রী দিলজাহান আক্তার রত্না কে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, মামলার ২নং আসামী নাজমুল ইসলাম বাবু মোল্লা বিগত ১৬ মে দুপুরে চেয়ারম্যানকে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে বলে, চেয়ারম্যান হলেই সব বিষয়ে নাক গলাতে নেই। আপনাকে শায়েস্তা করতে চার কোটি টাকা রাখিয়াছি। ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, রাজনৈতিক কারনে আসামীরা আমাকেসহ পরিবারকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। আমি ঢাকায় অবস্থান করার কারনে প্রানে বেঁচে যাই। আসামীরা নৃসংশভাবে আমার শিশু পুত্রকে খুন করে। আমার স্ত্রীকেও কুপিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে। সে এখনও মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। মামলা করতে দেরী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশু পুত্রকে দাফনের পর আমি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।
(আইএইচ/এসপি/জুন ০১, ২০২২)
