সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথায় এবার শিশুদের মারামরি নিয়ে দু’পক্ষের বড়দের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরের মাঠ সালথা গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমকে জানান- গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে উপজেলা সদর সংলগ্ন রামকান্তুপুর ইউনিয়নের মাঠ সালথা গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আলী মীর সঙ্গে পাঞ্জ মাতুব্বরের বিরোধ চলছিল। বিরোধের মধ্যে বুধবার বিকালে ওই গ্রামে ওজন মাপার পাঁচ কেজি একটি পাথর চুরি নিয়ে একদল শিশুদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি বড়দের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে সন্ধ্যায় পাঞ্জর সমর্থক মুসা মোল্যার সাথে সৈয়দ আলীর সমর্থক ওমর আলীর কথা কাটাকাটি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায় পাঞ্জুর সমর্থক জাকিরের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার জেরধরে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে উভয়ের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলে এ সংঘর্ষ।

সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙচুর করা হয় উভয় পক্ষের অন্তত ৫টি বসতঘর। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে জাহিদ শেখ, আকরাম লস্কার, ওমর আলী মীর, মনির মাতুব্বর, ফারুক মোল্যা, জাকির মোল্যা, আওলাদ লস্কার, ছিরু লস্কার ও সোহাগ মীর নামে ৯ জনকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তবে সংঘর্ষের বিষয় বক্তব্য নেয়ার জন্য উভয় পক্ষের মাতুব্বরদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শেখ সাদিক গণমাধ্যমকে বলেন- খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি সাউন্ড গ্রেনেট ও শর্টগানের দুটি ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিবৃত করা হয়। ওই এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। সংঘর্ষের বিষয়টি তদন্ত করে উভয় পক্ষের জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(এএনএইচ/এএস/জুন ০৩, ২০২২)