তুষার কান্তি বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত ইউনিয়ন নিজড়া। এ ৪  ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে ৭টি খাল প্রবাহিত হয়েছে। কচুরিপানা জমে খালগুলোর পানি পচে গেছে। ওই  ইউনয়নের ৫০ হাজার মানুষ খালের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। খালে মশা মাছি জন্ম নিচ্ছে। ১০ টি গ্রামে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে।  ভোগান্তি কমাতে খাল খনন ও কচুরিপানা অপসারণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ এমনটিই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর মাথাভাঙা হতে নিজড়া ইউনিয়নের বটবাড়ি খাল, নারিকেল বাড়ি খাল, কাশিয়ানী উপজেলার নিজাকান্দি ইউনয়িনের তলাতলা বসরত খাল থেকে নিজড়া ইউনিয়নের মৃধাবাড়ি খাল, মোল্লাকান্দি খাল, ছোয়ানিপাড়া খাল, কাঠালবাড়ি ও বিদ্যাধর খালে এ অবস্থা বিরাজ করছে।

নিজড়া গ্রামের ফরিদ আহম্মেদ মিনা ও মাকসুদুর রহমান বলেন, এসব খালের পানি নিজড়া, নিজড়া পশ্চিমপাড়া, মধ্যপাড়া, মিনাপাড়া, দোয়ানিপাড়া, বটবাড়ী, বিদ্যাধর, নারিকেল বাড়ি, সাতবাড়ি, কাঠালবাড়ি, মোল্লাকান্দি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার রান্না-বান্নাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে এসব খালের পানি সেচের মাধ্যমে ব্যবহার করে ১০ হাজার একর জমিতে ফসল ফলান কৃষক।

তারা আরো জানান, খালগুলো কচুরিপানায় ভরে গেছে। খাল ৭টি পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। নাব্যতা সংকটের কারণে এসব খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করতে পারে না। এ কারণে বিলের জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে কৃষক পরিবারগুলোর দুর্ভোগের শেষ নেই। সেই সাথে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খালের পানি পচে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পচা পনির কারণে ১০টি গ্রামে বেড়েছে মশা মাছির উপদ্রব।

নিজড়া ইউনিয়ন পরিষদ, চেয়ারম্যান আহম্মদ আলী মিনা ধলু বলেন, এসব খাল দিয়েই নিজড়া ইউনিয়নের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হত। খাল গুলো নিজড়া ইউনিয়নের প্রাণ। ফসল চাষাবাদের জন্য এসব খালের পানি ব্যবহার করেন ইউনয়নবাসী। গোসল, রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়াসহ গৃহস্থালীর সব কাজ এসব খালের পানি দিয়েই করা হত। খালগুলো দিয়ে কম খরচে পন্য পরিবহন করা যেত। এছাড়া খালের মাছ শিকার করে এলাকার আসংখ্য পরিবার জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। পলি জমে খাল ভরাট হয়েছে। এছাড়া কচুরিপানায় খাল ভরে আছে। খালে পানি প্রবাহ নেই। তাই খালের পানি পচে কৃষক ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে দাবি করছি। এ দাবি এ এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। কচুরীপানা ও নাব্যতা সংকটের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কোন শেষ নাই।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহসিন উদ্দিন বলেন, দ্রুত খাল থকে কচুরীপানা অপসারণ করা হবে। এরপর খাল খননের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ দু’টি কাজ সম্পন্ন করে নিজড়া ইউনয়নবাসীকে পানি সমস্যা থেকে রক্ষা করা হবে।

নিজড়া গ্রামের গৃহবধূ নাজমা খানম বলেন, খালের পানি পচে গেছে। এ পানি কোন কাজে ব্যবহার করতে পারছিনা। তাই পানির কষ্টে আছি। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।

বটবাড়ি গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ধান কেটে নৌকায় বাড়ি নিতে পারছিনা। কৃষাণ দিয়ে ধান বাড়ি নিতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। খাল খনন না করলে আগামী মৌসুমে সেচের পানি পাওয়া যাবে না। তাই আমরা দ্রুত খাল খননের দাবি জানাচ্ছি।

(টিকেবি/এএস/জুন ০৪, ২০২২)