সালথায় পানি না থাকায় বিপাকে পাট চাষিরা
আবু নাসের হুসাইন, সালথা : "সোনালী আশে ভরপুর ভালোবাসি ফরিদপুর" এই স্লোগানকে সামনে ফরিদপুরের সালথায় এ বছর ১৩ হাজার ৪শ’ হেক্টও জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে । উপজেলায় এবছর পাটের বাম্পার ফলন হলেও অনাবৃষ্টির কারনে নদী-নালা, খাল-বিলে পানি না থাকায় পাট পঁচাতে পারছেন না চাষিরা। একই পানিতে বারবার পাট পঁচানোর ফলে পাটের আঁশের মান ভালো হচ্ছে না। বিপাকে পড়ছেন পাটচাষিরা। ফলে দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। পাটের দাম কম হওয়ায় চিন্তায় পড়েছে চাষীরা। অন্যদিকে এই এলাকার মানুষ জোর দাবি জানাচ্ছেন ফরিদপুর শহরের চুনারুঘাট যে বেড়িবাঁধ রয়েছে সেখানে সুইজগেইটগুলো খুলে দিলে অনেক পানি এলাকায় ঢুকে যেত। তাহলে কিছুটা পানি পেয়ে কৃষকেরা হাফ ছেড়ে বাঁচতে পারতো।
উপজেলার কয়েকজন পাটচাষির সাথে কথা হলে তারা জানান, চলতি বছরে আষাঢ় মাস শেষ হয়ে এলো যেমন বৃষ্টির দেখা নেই তেমনি নদঅ-নালা ও খাল-বিলে পানির প্রভাবও নেই। ফলে পাট গাছ বড় হলেও পানির অভাবে গাছ পুড়ে যাওয়ায় অপরিপক্ক পাট কেটে ফেলতে হচ্ছে। আঁশের ফলনও কম হচ্ছে। সেই সঙ্গে নদীনালা, খাল-বিল, ডোবা, নালায় পানি না থাকায় পাটচাষিরা পাট পঁচাতে পারছেন না।
উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের দবির মোল্যা, সোনাপুর ইউনিয়নের জাহিদ শেখ, মাঝারদিয়ার শাহাদত, যদুনন্দীর ফরহাদ মোল্লা জানান, অল্প পানিতে অনেক পাট পঁচানোর ফলে পাটের আঁশ কালো হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না তারা। যে কারণে লোকসানে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন পাটচাষিরা।
বাজারে বর্তমানে ১৮০০-২২০০ টাকায় প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। তবে পাটের আঁশ ভালো না হওয়ায় ও কালো হয়ে যাওয়ায় পাটের দাম কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছরের তুলনায় সালথা উপজেলায় এবার পাট চাষ বেশি হয়েছে। সব মিলে (বিজেআরআই-৮) ৫০০হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এ বছর অন্যান্য জাতের মোট উপজেলায় ১৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারি বলেন, এবারে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পানি না থাকায় পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। পানি না থাকায় কৃষকদেরকে রিবোন রেটিং ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জীবাংশু দাস বলেন- সালথায় এবার ১৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হচ্ছে। যা মোট আবাদি জমির ৯২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আবাদ বেশি হচ্ছে অর্থকরী ফসলটির। মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি ভাল। রোগ ও পোকা-মাকড় দমন ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য আন্তপরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে মাঠ পর্যায় কাজ করছেন উপ-সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দ।
তিনি আরও বলেন, এবার উপজেলায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে, এটা প্রাকৃতিক দূর্যোগ এখানে কারো কোন হাত নেই। তাছাড়া মানুষ যদি পুকুর ডোবা গুলো ভরাট না করতো তাহলে ও কিছুটা সেলো মেশিন দিয়ে পানি দিয়ে পাট পঁচানো যেতো। এছাড়াও পাট পঁচানোর ক্ষেত্রে যদি কেউ রেবোন রেটিং ব্যবহার করতে চায় আমি সহযোগিতা করতে পারবো।
(এএনএইচ/এএস/জুলাই ১৭, ২০২২)
