মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট বিভাগ জুড়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সেই সাথে শিকার হয়েছেন প্রচন্ড দুর্ভোগের। সঙ্কটের এমন প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে চলে গেছে পবিত্র ঈদুল আযহা। কমতে শুরু করে সিলেট,সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বন্যা আক্রান্ত জনপদের নদনদী ও বাসা-বাড়ির পানি। এতে দুর্ভোগ বাড়লেও পানি কমায় কিছুটা হলেও হাঁফ ছাড়েন মানুষ। বন্যার পানি কমতে শুরু করার সাথে সাথে পুরো দেশে শুরু হয় আরেক দুভোগ। ঈদের আগ থেকেই শুরু হয় দেশজুড়ে প্রচন্ড গরম। চলমান তীব্র গরমে যখন সাধারণ মানুষের জীবন নাভিশ্বাস,ঠিক তখনই শুরু হয়েছে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং। আর এতেই কপাল খুলেছে এক শ্রেনীর আসাধু ব্যবসায়ীদের। নানা পণ্যের দাম বৃদ্ধির এমন খবরে মনে হবে এরা যেন অপেক্ষায় থাকে দুর্যোগ আর সঙ্কট মুহুর্তের। সাপ্তাহজুড়ে তীব্র গরম আর সেই সাথে গতকাল মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে নতুন করে যুক্ত হওয়া লোডশেডিংয়ের সুযোগে মৌলভীবাজারে অতিরিক্ত দামে ফ্যান, চার্জ লাইট, চার্জার ফ্যান বিক্রির অভিযোগে উঠেছে বেশ কয়েকজন ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। 

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর ওই অভিযোগ আমলে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এবং আজ বুধবার (২০ জুলাই) দু’দিনে মৌলভীবাজার শহর ও পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে র‌্যাব এর সহায়তায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (২০ জুলাই) দুপুরে চলামান অভিযানের দ্বিতীয় দিনে পর্যটন ও বাণিজ্যিক শহর শ্রীমঙ্গলের বেশ কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমিন এর নেতৃত্বে শহরের হবিগঞ্জ রোড, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অতিরিক্ত দামে ফ্যান, চার্জ লাইট, চার্জার ফ্যান বিক্রির অভিযোগে হবিগঞ্জ রোডে অবস্থিত মেসার্স আশা ইলেকট্রনিককে ১ হাজার টাকা, মা ইলেকট্রনিককে ২ হাজার টাকা, নতুনবাজারে অবস্থিত চৌধুরী ট্রেডার্সকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও মেসার্স দুলাল স্টোর নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৫শত টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে সকল ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দামে ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রয় করা এবং ক্রয় ও বিক্রয় ভাউচার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই অভিযানে মোট ৪ টি প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে একই অভিযোগে আগের দিন মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরের দিকে মৌলভীবাজার শহরের কয়েকটি ইলেকট্রনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অতিরিক্ত দামে ফ্যান, চার্জ লাইট, চার্জার ফ্যান বিক্রির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত সড়কে অবস্থিত মুন ইলেকট্রিককে ৫ শত টাকা, চৌমুহনাতে অবস্থিত আনছার ইলেকট্রিককে ২ হাজার টাকা ও সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত চৌকুস ইলেকট্রিককে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দু’দিনের চলমান এই অভিযানে সকল ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দামে ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রয় করা এবং ক্রয় ও বিক্রয় ভাউচার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমিন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেব।


(একে/এসপি/জুলাই ২০, ২০২২)