দিলীপ চন্দ, ফরিদপুর : ফরিদপুর জেলা সমবায় ইউনিয়ন নির্বাচন সভাপতি পদে  মনোনয়ন পত্র  কেনার ঘটনায় সমবায়ীদের উপর হামলা চালিয়েছেন ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাশপুরের শাহ ফরিদ রিয়েল এস্টেট এর মালিক ও একতা সমবায় সমিতির প্রতিনিধি হাজী মো: ওমর আলী খানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ ও ভিডিও সূত্রে প্রকাশ, গত ১৩ জুলাই ফরিদপুর অঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গোয়ালচামট, ফরিদপুর এর মিলনায়তনে (সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত এলাকা) আনুমানিক সময় দুপুর ১.০০ টার দিকে নির্বাচন কমিটির সদস্য জনাব মো: ইলিয়াস হোসেন ও সদস্য মো: হাবিবুর রহমান যথাক্রমে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ফরিদপুর জেলা সমবায় ইউনিয়ন এর নির্বাচনে অংশ গ্রহনে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোননয়ন ফরম ফি বিক্রি রসিদ বহি নিয়ে দায়িত্বে ছিলেন জেলা সমবায় ইউনিয়ন এর নির্বাহী কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন লিটন।

এ সময় ইউনিয়ন এর ১টি রসিদ বহি পূর্ব খাবাশপুর একতা বহুমুখী সমবায় সমিতি, পূর্ব খাবাশপুর, ফরিদপুর সদর এর প্রতিনিধি ও শাহ ফরিদ হাউজিং এর মালিক আলহাজ্ব ওমর আলী খান জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং মধুমতি বহুমুখী সমবায় সমিতি লি:,ফরিদপুর সদর এর প্রতিনিধি মো: জাহিদ হোসেন সম্পাদক এর মনোনয়ন ফরমসহ অপর ৪ জনের সদস্য মনোনয়ন ফরম জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।

সমবায়ীরা অভিযোগ করেন,তাঁর এই আচরণ নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গন ও আইন শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। প্রার্থীদের ফরম নিতে বাধা দিয়ে দুপুর ২.০০ টা পর্যন্ত আমাদের তাঁহার পক্ষের লোকজন নিয়ে নির্বাচনী কাজে বাঁধা ও হুমকি প্রদান করেন। এ ছাড়া এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিটির সম্মানিত সদস্যদের সামনে রক্ষিত নির্বাচনী কাজের কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেন। যাহা সরকারী কাজে বাঁধা ও নির্বাচন ভন্ডুল চেষ্টা।

অভিযোগে প্রকাশ, ঘটনার সময় তাদের আগ্রাসী আচরনের কারনে প্রতিক মহিলা সমবায় সমিতি লি:,সাঁকো সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লি: ও জাগরন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি: এর প্রতিনিধিরাসহ অন্যরা ফরম সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন।

নির্বাচন কমিটি/২২ কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক গত ১৭ জুলাই মো: এনায়েত হোসে লিটন সভাপতি পদে ও জনাব খন্দকার কামাল হোসেন সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার জন্য অঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট,গোয়ালচামট,ফরিদপুর অফিস কক্ষ ভবন প্রাঙ্গনের নিচে পৌঁছালে তাদের উপর হামলা চালান যথাক্রমে মো: ওমর আলী খান,পিতা: অজ্ঞাত,গ্রাম: পূর্ব খাবাশপুর,থানা: কোতয়ালী,ফরিদপুর ২। ইয়ার মো: দুদু.পিং অজ্ঞাত, গ্রাম: ভাটি কানাইপুর,থানা: কোতয়ালী, জেলা: ফরিদপুর, ৩।মো: মিজানুর রহমান,পিং অজ্ঞাত, গ্রাম: ডোমরাকান্দি,থানা: কোতয়ালী, জেলা: ফরিদপুর,৪। মো: জাহাঙ্গীর হোসেন,পিং অজ্ঞাত, গ্রাম: শতনীড় টাওয়ার, গ্রাম: ঝিলটুলী, থানা: কোতয়ালী, জেলা: ফরিদপুর, ৫। মো: লুৎফর রহমান,পিং মৃত-হাসমত আলী খান ,গ্রাম: উত্তর আলীপুর প্রামানিক পাড়া নদীর পাড়,থানা: কোতায়ালী,ফরিদপুরসহ অজ্ঞাত ৭/১০ জন। তাঁরা তাদের গতিরোধ করে তাদের উপর হামলা চালিয়ে মনোনয়ন ফরম জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এবং মাথাসহ সারা শরীরে কিল ঘুষি মেরে আঘাত করে এবং একই সময়ে সম্পাদক প্রার্থী জনাব মো: জাহিদ হোসেন,মধুমতি বহুমুখী সমবায় সমিতি,বাখুন্ডা,ফরিদপুর আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তাঁকেও হাজী মো: ওমর আলী খান ও ইয়ার মো: দুদু সমবায়ীদের লাঞ্চিত করে মাথা ও বুকে লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করেন বলে লিখিত অভিযোগে প্রকাশ।

সমবায় নেতৃবৃন্দ ঘটনাটি নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফরিদপুরকে মোবাইল ফোনে জানান।

সমবায়ীরা জানান, শাহ ফরিদ রিয়েল এস্টেট এর মালিক এই নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছিলেন, উক্তি পদে এনায়েত হোসেন লিটন মনোনয়ন ফরম ক্রয় করায় তিনি আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আমাদের উপর পরপর দুদিন হামলা ও ফরম ছিনিয়ে নেন। উক্ত তারিখের ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে নকশী কাঁথার মালিক আ: রহমান লাল্টু,তিতুমীর বাজার,মুজিব সড়ক,ফরিদপুর জড়িত রয়েছেন বলে সমবায়ীরা লিখিত ভাবে অভিযোগ করেছেন।

সমবায়ীরা জানান, ফরিদপুর জেলা সমবায় ইউনিয়ন এর গত ৭ থেকে ১০ বছরের বার্ষিক চাঁদা খেলাপী শ্রেণীর সদস্য সমিতির প্রতিনিধিরা এই ইউনিয়ন এর নির্বাচন বানচালের জন এই কান্ড ঘটিয়ে আলোচনায় এসেছেন। এই সংক্রান্ত একটি হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল ১৮ জুলাই ফরিদপুর জেলা সমবায় ইউনিয়ন এর জরুরি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায়, উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমবায় নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে আলহাজ্ব ওমর আলী খানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন এসবই উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমরা মানুষের গায়ে হাত দেওয়ার লোক নই এ অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

অপর দিকে, ফরিদপুর জেলা সমবায় ইউনিয়ন এর সভাপতি শেখ ফয়েজ আহমেদ আমাদের জানান, সমবায় সমিতি সমবায় আইন মোতাবেক পরিচালিত হয়। এখানে হামলা করে নির্বাচন বন্ধ ও সমবায়ীদের গায়ে হাত তোলা ঠিক হয়নি। আমরা উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিৎ। নাহলে সমবায় আন্দোলন জেলায় ঝিমিয়ে পড়বে। ভাল কেউ আসতে উৎসাহিত হবে না।

(ডিসি/এসপি/জুলাই ২০, ২০২২)