তুষার কান্তি বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণের চায়না ম্যাজিক জাল ধ্বংসে জলাশয়ে অভিযান শুরু করেছে গ্রাম পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার মাঝিগাতি ইউপি চেয়ারম্যান কেএম হাফিজুর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাশয়ে অভিযান ৫০ টি চায়না ম্যাজিক জাল জব্দ করেন। বিকেলে এগুলোতে অগ্নি সংযোগ করে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া হরিদাসপুর ইউনিয়ন ও নিজড়া ইউনিয়নে চায়না জাল জব্দে অভিযান পরিচালনা করেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই দু’ ইউনিয়নে কি পরিমান চায়না ম্যাজিক জাল জব্দ করা হয়েছে তা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহসিন উদ্দিন উপজেলা আইন শৃংখলা সভায় গত ২৮ জুলাই দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জীব বৈচিত্র ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় রেজুলেশন গ্রহন করেন। সেখানে গ্রাম পুলিশকে এ ব্যাপারে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেন ওই কর্মকর্তা। এছাড়া এই অভিযানে তিনি ইউনিয়ন চেয়ারম্যনকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহবান জানান। সে মোতাবেক বৃহস্পতিবার একযোগে ৩ ইউনিয়নে এই অভিযান শুরু করে গ্রাম পুলিশ।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী ইউপি চেয়ারম্যান কে.এম হাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, চায়না ম্যাজিক জালে মাছ, কুচে, ব্যাংঙ, সাপ সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণি উজার হয়ে যাচ্ছে। এগুলো সংরক্ষণে উপজেলা আইন শৃংখলা সভায় মৎস্য অধিদপ্তর ও চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহসিন উদ্দিন এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশকে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে রেজুলেশন করেন। সেখানে আমাদের এ ব্যাপারে দতারকির দায়িত্ব দেন। এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এটি সারাদেশের মডেল হতে পারে। সারাদেশ এটিকে মডেল হিসেবে গ্রহন করলে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র রক্ষা পাবে।

মাঝিগাতী ইউপির গ্রাম পুলিশের প্রধান মানু খান বলেন,আমরা জানি ইউনিয়নের কোন কোন পয়েয়েন্টে অবৈধ চায়না ম্যাজিক জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। আমরা আজ ৫০টি ম্যজিক জাল উদ্ধার করে ধ্বংস করেছি। ইউনিয়নের সরকারি কাজের পাশাপাশি ম্যাজিক জাল জব্দে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমাদের ইউনিয়নকে চায়না ম্যাজিক জাল মুক্ত করে মাছ, কুচে,সাপ সহ অন্যান্য প্রাণি রক্ষা করব।

গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বৈরাগী বলেন, আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। তারপরও দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় আমরা নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করি। এটি যথেষ্ট নয়। এই সুযোগে অসাধু মৎস্যজিবি ও মৎস্য শিকারীরা চায়না ম্যাজিক জাল ব্যবহার করে মৎস্য সম্পদ উজার করছে। এই সম্পদ রক্ষায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহসিন উদ্দিন অভিনব উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। এটি অব্যাহত থাকলে মৎস্য সম্পাদ রক্ষা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

উদ্যোক্তা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রয়োজনেই মৎস্য সম্পাদ ও জীব বৈচিত্র রক্ষার কোন বিকল্প নেই। চায়না ম্যাজিক জাল অকাতরে মাছ ও জলজ প্রাণি ধ্বংস করছে। তাই আমরা চায়না ম্যাজিক জালে বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে গ্রাম পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছি। কারণ তারা জানেন কোথায় এ জালের ব্যবহার হচ্ছে। আর তারাই এ কাজটি ভালভাবে করতে পারবেন। গ্রাম পুলিশ বৃহস্পতিবার ৩টি ইউনিয়নে এই অভিযান শুরু করেছে। মাঝিগাতীতে ৫০ টি ম্যাজিক জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্য ২টি ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে কি পরিমান জাল জব্দ করা হয়েছে, তা আমরা এখনো জানতে পারিনি। এটি অব্যাহত রেখে আমরা গোপালগঞ্জের মাছ ও জীববৈচিত্র রক্ষা করতে সক্ষম হব।

(টিকেবি/এসপি/আগস্ট ০৪, ২০২২)