শাহরিয়ার খান সাকিব, মৌলভীবাজার সদর : মৌলভীবাজারের কাশিমপুর পাম্প হাউজ সচল করে আমন ফসল আবাদের ৫দফা দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটি মৌলভীবাজার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে এক কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটি'র সভাপতি সেলিম আহমেদের সভাপতিত্বে ও এড. হারুনুর রশীদ সোয়েব এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জওহর লাল দত্ত, হাওর সংগ্রাম রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব জুনেদ আহমেদ চৌধুরী, প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মহিদুর রহমান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী এম. খছরু চৌধুরী, কৃষক নেতা হারুনুর রশীদ নোমান, জুবেল আহমদ, হেলাল আহমদ সাবুল আহমদ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাম্প কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ এর ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে হাওরের পানি নিষ্কাশন করছে না। যার ফলে হাওর আজ জলে টইটম্বুর। কৃষকের হাতে সময় খুবই অল্প। আমন ধান রোপণের সময় চলে যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাওরের পানি নিষ্কাশন না করলে হাওর পাড়ের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ ব্যাহত হবে।

কাওয়াদীঘি হাওরে উপরের অংশ সদর উপজেলার বানেশ্রী, কচুয়া, রায়পুরসহ ১৫টি গ্রাম এবং রাজনগর উপজেলার মেদিনীমহল, বালিগাঁও, বাঙালিয়া, দু গাঁও, সেনাটিকি, সারমপুর, পৈতুরাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের নিচু অংশ ডুবে থাকায় এই অঞ্চলের ১০০০ হেক্টর আমন চাষ ব্যহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে জেলার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হওয়ার শংকা রয়েছে। এতে গরীব-অসহায় কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। দেশে ক্রমাগত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তার উপর কৃষক ক্ষেত যদি না করতে পারেন তাহলে তারা কোথায় দাঁড়াবে?

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন- মৌলভীবাজার জেলা সদর ও রাজনগর উপজেলায় অবস্থিত কাওয়াদীঘি হাওর। কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কৃষির সুবিধার্থে জেলার কুশিয়ারা নদীর তীরে মনু সেচ প্রকল্পের আওতায় কাশিমপুর সেচ পাম্প হাউসের মাধ্যমে কাওয়াদীঘি হাওরে পানি সেচ দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি প্রভাবশালী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পাম্প হাউজ প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছে। অধিক বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে টুইটুম্বর। পানি কিছুটা কমলেও দু-একদিনের ব্যবধানে বেড়ে যায়। ফলে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা।

তাই জেলা প্রশাসকের বরাবর হাওর পারের পানি নিষ্কাশন জন্য সেচের ব্যবস্থা ও কুশিয়ারা নদীর তীরে মনু সেচ প্রকল্পের আওতায় কাশিমপুর সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আটটি পাম্প অনবরত চালু রাখা অন্তত জরুরী বলে তারা মনে করেন।

তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে কাশিমপুর পাম্প হাউজের আটটি পাম্প অনবরত চালু রেখে কৃষক বাঁচানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানান।

৫ দফা দাবিগুলোর মধ্যে হলো- আগামীকাল থেকে পুরোমাত্রায় কাশিমপুর পাম্প হাউজ সচল রাখতে হবে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। প্রতিবছর জুলাইয়ের মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আগস্ট পর্যন্ত কাশিমপুর পাম্প হাউজের সেচ কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে করে কাওয়াদীঘি হাওর রক্ষা বাঁধের ভেতরে প্রায় ১০০০ হেক্টর আমন ধানের চাষের পরিবেশ নিশ্চিত থাকে। সারের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে চাষের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তা না হলে রাজপথ অবরোধসহ বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দ্রুত মৌলভীবাজার থেকে অপসারণ করতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুত ভোগান্তিতে কাশিমপুর পাম্প হাউজ পুরোদমে বন্ধ থাকায় মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরের প্রায় এক হাজার হেক্টর রোপা আমন চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় বৃষ্টিপাতের কারণে ও পাহাড়ি এলাকার ছড়া থেকে পানি এসে কাউদীঘি হাওরে গিয়ে জমা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পানি বাড়তে থাকায় ফুলে উঠছে কাউয়াদীঘি। এতে করে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার হাওর পাড়ের মানুষের কৃষি অংশ তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের আবাদী জমি ও ধানের চারা নষ্ট হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান দ্রুত এর সমাধানের আশ্বাস দেন।

(এস/এসপি/আগস্ট ১১, ২০২২)