‘ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতাই শিক্ষার মান উন্নয়ন করবে’
মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক (গ্রেড ১) মোঃ মুহিবুর রহমান শিক্ষকদের উদ্দ্যেশে বলেছেন, ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতাই শিক্ষার মান উন্নয়ন করবে। তিনি রুম টু রিড বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার ও প্রকাশিত শিশুতোষ গল্পের বই-এর প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নে সরকারের দায়িত্বই মূখ্য। রুম টু রিড সেই কাজকে সহায়তা দিচ্ছে। আমি মনে করি শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব।
শনিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রীমঙ্গলের পাঁচতারকা মানের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গল্ফ হোটেলে বাংলাদেশে কর্মরত একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা রুম টু রিড বাংলাদেশ আয়োজিত মৌলভীবাজার জেলায় রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর সাক্ষরতা কার্যক্রম ও শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, রুম টু রিড তাদের কাজ শুরু করছে, তারা একদিন থাকবে না। তখন চাইলে আপনারাই মানসম্মত শিখন প্রক্রিয়া চলমান রাখতে পারবেন।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানিয়া সুলতানা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোঃ আবু বকর সিদ্দিক,প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন্স) মনীষ চাকমা , সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক নাসিমা বেগম, মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শামসুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর কর্মকর্তা ও সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তা,কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়া ১শত জন প্রধান শিক্ষক এবং রুম টু রিড-এর ঢাকা ও মৌলভীবাজার অফিসের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সরকার ও সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক (গ্রেড ১) মোঃ মুহিবুর রহমান। এতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলায় ১শ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর পঠন-দক্ষতা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করছে রুম টু রিড বাংলাদেশ নামক আন্তর্জাতিক এনজিওটি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রাখী সরকার রুম টু রিড-এর কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারের অনুমোদনের প্রশংসা এবং কার্যক্রমে সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা করে বলেন, ইউএসএইড ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে যৌথ উদ্যোগে ‘এসো শিখি’ প্রকল্পে রুম টু রিড বাংলাদেশ ১০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২হাজারেরও বেশি মাস্টার ট্রেইনারের শিখন দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক ‘ট্রেনিং মডিউল’ উন্নয়ন সম্পন্ন, বিতরণ ও অনুশীলন হলে শিশুদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি ও পাঠ অভ্যাস গঠনের মাধ্যমে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের শিখনফলের মান উন্নয়ন সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “রুম টু রিড-এর সকল কার্যক্রম অনেক প্রশংশিত। আশা করি, রুম টু রিড-এর শিখন-সহায়ক উপকরণ ও শিক্ষার্থীদের শিখনস্তরের সাথে মিল রেখে প্রকাশিত গল্প বই সমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে ও মানসম্মত শিক্ষা উন্নয়নে খুবই সহায়ক হবে। শিক্ষার কার্যকরী প্রসারের মাধ্যমে শিশুরা যেন পরিপূর্ণভাবে একজন দক্ষ ও স্বাধীন পাঠক হয়ে উঠতে পারে সেই লক্ষ্যে রুম টু রিড এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর সাক্ষরতা কার্যক্রম তুলে ধরেন সংস্থাটির লিটেরেসি ডিরেক্টর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকি। ‘পড়ার দক্ষতা ও অভ্যাস’ বিষয়ে গবেষণা লব্ধ বক্তব্য তুলে ধরেন, লিটারেসি (সাউথ এশিয়া) এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ মাজহারুল করিম।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘রুম টু রিড’ এশিয়া ও আফ্রিকার ২১টি দেশে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা সহায়তা প্রদান করছে। বাংলাদেশে সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদনক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, ঢাকা ও কক্সবাজার জেলায় প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ‘সাক্ষরতা কর্মসূচি’ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘মেয়েশিশুদের শিক্ষা সহযোগিতা কার্যক্রম’-এর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’ এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮শত ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৩ হাজার শ্রেণিকক্ষে পাঠাগার স্থাপন ও শ্রেণি-সহায়তা প্রদান করেছে যার মাধ্যমে প্রায় ৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। নিজস্ব প্রকাশনায় এ পর্যন্ত ১শত ৭২টি গল্পের বই প্রকাশসহ প্রায় ২৮ লক্ষ বই সরবরাহ করেছে পাঠাগার গুলোতে। পাশাপাশি মেয়ে শিশুদের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণে ৭০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬হাজার ৮শত ৮৬ জন মেয়েশিক্ষার্থীর শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জীবন-দক্ষতা বিকাশে সফলভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
(একে/এসপি/আগস্ট ২০, ২০২২)
