কাজী হাসান ফিরোজ, বোয়ালমারী : ফরিদপুরের বোয়ালমারীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বোয়ালমারী স্টেডিয়াম খ্যাত বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির খেলার মাঠটি স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কেজি স্কুলগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের বিনোদনের জন্যে একমাত্র মাঠ। কিন্তু একটু বৃষ্টিতেই মাঠটা জলমগ্ন হয়ে যায়। কখনো কখনো বুঝা যায়না, খেলার মাঠ না জলাশয়!

প্রকাশ, শতবর্ষী এই মাঠটি এক সময় দুই বাংলার অনেক খ্যাতনামা ফুটবলারের জন্ম দিয়েছে। বোয়ালমারী জর্জ একাডেমি সহ আশপাশের প্রায় এক ডজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলাধুলার জন্যে একমাত্র ভরসা এই মাঠটি এখন বছরের অধিকাংশ সময় ব্যবহার অনুপযোগী থাকে। মাঠের চারপাশে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় একটু বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া আশপাশের গৃহস্থরা তাদের গৃহপালিত গরু এবং ঘোড়ার চারণভূমি বানিয়ে সারা বছরই মাঠটা ব্যবহারের অনুপযোগী করে রাখে।

বোয়ালমারী ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন খান বলেন, এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্যে একটা ড্রেন নির্মাণ করেন। ড্রেনটি খেলার মাঠের চেয়ে উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পরিবর্তে উল্টো ড্রেনের পানি মাঠে ঢোকে।

তিনি বলেন, এলাকার একমাত্র খেলার মাঠটা খেলোয়াড়দের দখলে না থেকে গরু-ঘোড়ার দখলে থাকায় এলাকার যুবশ্রেণি মোবাইল এবং মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাঠে কিছু বালু ফেলে এবং গরু-ঘোড়ার বিচরণ বন্ধ করে মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করার জন্যে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

এলাকার ক্রীড়ামোদী লিয়াকত হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিন বিকালে এলাকার অনুর্ধ ১৪ বছরের ছেলেদের ফুটবল খেলা শেখানোর জন্যে মাঠে হাজির হই। কখনো জলাবদ্ধতা আবার কখনো গরু-ঘোড়ার পায়খানার জন্যে ছেলেদের নিয়ে মাঠে নামতে পারিনা। তিনি জলাবদ্ধতার নিরসন এবং গরু-ঘোড়ার অত্যাচার বন্ধের জন্যে প্রশাসনের কার্যকরী ভূমিকা আশা করেন।

(কেএফ/এসপি/আগস্ট ২৩, ২০২২)