মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের সহযোগীতা ও আশ্বাসে কিছু কিছু চা বাগানের সাধারণ চা শ্রমিকরা কাজে যোগদান শুরু করলেও বুধবার থেকে আবারও কর্মবিরতি পালন করতে শুরু করেছে। এনিয়ে ৩য় বারের মতো চা শ্রমিকরা প্রশাসন আর শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ প্রত্যাখান করলেন। প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা  যেখানে স্বশরীরে বাগানে বাগানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের মজুরীর ব্যাপারে সুষ্ঠ এবং সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত দিবেন, সে কথা জানিয়ে অনুরোধ করেছেন শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য। তাও প্রত্যাখান করে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে। এমন বাস্তবতায় ৩০০শ টাকা দৈনিক মজুরি প্রধানমন্ত্রীর তরফে ঘোষনা দেয়ার আগ পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে ফিরতে রাজি নয়। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সময় যতো গড়াচ্ছে শ্রমিকদের আন্দোলনের ধরণও তত পাল্টাচ্ছে।

 

 

বুধবার (২৪ আগস্ট) চলমান চা শ্রমিক ধর্মঘটের ১২তম দিনে ঢাকা-সিলেট মৌলভীবাজার আঞ্চালিক হাইওয়ের লছনা এলাকায় শ্রমিকরা দুপুর ৩ থেকে সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘন্টার বেশী সময় অবরোধ করে রাখে। এতে ওই রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন গুলোর যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। প্রচন্ড গরমে নারী ও শিশুরা এতে চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্ভনায় পড়তে হয়েছে। এসময় উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো: আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন ও শ্রীমঙ্গল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম উর রশীদ তালুকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রকিদের বুঝিয়ে মুল সড়ক থেকে সরিয়ে রাস্তার ফাঁকা করে দিলে ফের শুরু হয় যানবাহণ চলাচল। জানাযায়, সড়ক অবরোধ করা শ্রমিকরা মির্জাপুর, সাইফ, বৌলাছড়া, মাখরিয়াসহ আশ-পাশ বাগান থেকে এসে তাদের ৩শ টাকা মজুরীর দাবীতে সড়ক অবরোধ করে।

এব্যাপারে বালিশিরা ভ্যালীর পঞ্চায়াত সভাপতি নূর মোহাম্মদ জানান, ২/১ টি চা বাগানে মঙ্গলবার কাজ হলেও বেশিরভাগ বাগানে কর্মবিরতি পালন করছে। তারা প্রশাসনের সহযোগীতায় ও আশ্বাসে মঙ্গলবার কাজে যোগদান করেছিল।

এর আগে গত (২৩ আগস্ট) মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে উপজেলার কিছু কিছু বাাগানের আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা চা- পাতা তোলার কাজে যোগদান করেন। মঙ্গলবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা বাগানে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, উপ-শ্রম পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট সার্কেলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুনসহ বাগান পঞ্চায়াত নেতারা বিভিন্ন বাগানের উপস্থিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ রাখারা জন্য শ্রমিকদের বুঝানোর চেষ্ঠা করেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার জেরিন চা বাগানে শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আাহসান চা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ভালো নেই আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রীও জানেন আপনাদের কষ্টের কথা, আমরা আপনাদের সকল অভিযোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সাথে কথা বলবেন। আশা করি দুর্গাপূজার আগে বিষয়টি সমাধান করা হবে। এখন আপনারা কাজে ফেরেন। তিনি আরো বলেন, এক শ্রেনির দুষ্টলোক আপনাদের ভালো চায়না। তারা চায়না বিষয়টি সমাধান হোক।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, আমরা শোনেছি কারা আপনাদের ভয়ভিতি দেখাচ্ছেন। আপনাদের ভয় নেই আপনারা নির্ভিগ্নে কাজে ফেরেন। খুব শীঘ্রই আপনাদের সমস্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমাধান করে দিবেন।

এ সময় উপস্তিত প্রশাসনসহ নেতারা জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরীর দাবীর বিষয়ে শ্রীমকদের সাথে আলাপ করে প্রধানমন্ত্রী চুরাস্ত সিদ্ধান্ত দিবেন। এবং তারা সাধারণ শ্রমিকদের কোন গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আহবাণ জানান।

জানা যায়, নেতাহীন চা বাগানে এখনো সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে নানান, ক্ষোভ, ভয় এবং দ্বিধা কাজ করছে। সাধারণ চা শ্রমিকরা বলেন, আপনারা এসেছেন, আমরা খুশি হয়ে আজ থেকেই কাজে যোগ দিব। ভাড়াউড়া চা বাগান পঞ্চায়াত সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহবাণ জানিয়েছি। এখন শ্রমিকরা প্রতিদিন কাজ করবে।

এরই মধ্যে উপজেলার ভাউউড়া, জেরিনসহ বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকদের কাজ করছে এবং আরো কয়েকটি বাগানের শ্রমিকরাও কাজে যোগদান করেছে বলে জানাযায়। এছাড়া কালিঘাট চা বাগান, ফুলছড়াসহ বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকদের বুঝানো চেষ্টা করছেন এবং কোন কোন বাগানের পাঞ্চায়াত নেতারা কাজে যোগদানের আশ^াস প্রদান করছেন। এবং কোন কোন বাগানের শ্রমিকরা তাদের দাবী না মানা পর্যন্ত কাজে যোগ দিবেনা বলে জানান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন জানান, ভাড়াউড়া, জেরিণ, কালিঘাট চা বাগান, ফুলছড়াসহ বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকদের বুঝানো চেষ্ঠা করছেন এবং কোন কোন বাগানের পাঞ্চায়াত নেতারা কাজে যোগদানের আশ্বাস প্রদান করছেন। এবং কোন কোন বাগানের শ্রমিকরা তাদের দাবী না মানা হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগ দিবেনা বলে জানান। প্রশাসনও আশা করছে শ্রমিকরা আস্তে আস্তে কাজে যোগদান করবে।

(একে/এএস/আগস্ট ২৪, ২০২২)